দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলা–কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে আগাম ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এর ফলে ফসল ঘরে তোলার আগেই এ অঞ্চলের কৃষকদের সোনালি ধান পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এখন সমাধানের পথে। হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের এ সংকটের কথা চিন্তা করে, বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ‘ব্রি ধান–১১৮’ উদ্ভাবন করেছে।
কয়েক বছরের মাঠ গবেষণা ও ফলন পরীক্ষায় (পিভিটি) সন্তোষজনক হওয়ায় চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় এ কৌলিক সারিটি ব্রি ধান–১১৮ নামে বোরো মৌসুমে হাওড় অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। সূত্র জানায়, হাওড়ে আকস্মিক বন্যায় আধাপাকা থেকে পাকা ধান ডুবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এ জাতটি আগাম বপন (২৫ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর) করলে প্রজনন পর্যায়ে গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে থাকার পরও হেক্টরে প্রায় ৬ টন ফলন দিতে সক্ষম। স্বাভাবিক সময়ে (১৫ থেকে ২০ নভেম্বর) বপনে ১৪৫ দিনে ৬.৯ টন/হে পর্যন্ত ফলন দিয়েছে।
ব্রি ধান–১১৮ এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৭৭ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ৮.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের চাল আকার আকৃতি মাঝারি মোটা। এর গাছ শক্ত এবং মজবুত বিধায় সহজে হেলে পড়ে না। ধান পাকলেও ডিগ পাতা সবুজ থাকে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথী বিশ্বাস বলেন, ব্রি ধান–১১৮ হাওড় অঞ্চলের উপযোগী একটি ঠান্ডা–সহনশীল স্বল্প জীবনকালের বোরো ধানের জাত। এ জাতে প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডাসহিষ্ণু গুণ থাকায় বোরো মৌসুমে হাওড় অঞ্চলে আগাম বীজ বপন করে আগাম ফসল কর্তন করা সম্ভব।



