চীন দেশের ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘নিউ লাই’। দেখার পর পুরোটা সময় আফসোস হলেও না দেখলে যেন আক্ষেপ থেকে যায় সারাজীবন—দর্শকদের এই অদ্ভুত কৌতূহলই মাত্র ৫ হাজার ৭০০ টাকায় নির্মিত একটি সিনেমাকে পৌঁছে দিয়েছে ২৫ কোটি টাকার অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যে। সিনেমার অগোছালো গল্প, দুর্বল গ্রাফিক্স ও নিম্নমানের অ্যানিমেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত সমালোচনার ঝড় তোলে। তবে এই নেতিবাচক আলোচনাই ছবিটির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। মুক্তির প্রথম দিনে আয় মাত্র কয়েক হাজারে আটকে থাকলেও, সিনেমাটি ঠিক কতটা বাজে তা স্বচক্ষে দেখতে প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়েন দর্শকেরা। এই কৌতূহলের জোয়ারে চীন বক্স অফিসে ঝড় তুলে ছবিটি এখন ‘দ্য ওডিসি’ ও ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর মতো বড় বাজেটের হলিউড সিনেমার সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে।পারিবারিক চেষ্টার এক অনন্য উদাহরণ এই চলচ্চিত্র।
চীনের শিন ইউমেং ও সান লিফাং নামের এক মা–ছেলে জুটি টানা ৫ বছরের পরিশ্রমে এটি তৈরি করেন। চিত্রনাট্য, পরিচালনা, ভয়েস ওভার থেকে শুরু করে প্রযোজনার সব কাজ তারা একাই সামলেছেন। পুরো সিনেমাটি তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৪৭ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৫ হাজার ৭০০ টাকা। গত ৫ আগস্ট চীনের প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পায়। অ্যানিমেশনটির গল্প গড়ে উঠেছে একটি ভীতু বাছুর ও পাখির বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে। এক যৌথ যাত্রায় নেকড়ের আক্রমণে নিজের মায়ের আত্মত্যাগ দেখে নিজের ভেতরের সাহসের পরিচয় পায় বাছুরটি। পথিমধ্যে সাপ ও চিতার মুখোমুখি হয়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বীরের বেশে নিজ পশুপালকে রক্ষা করে সে। ‘নিউ লাই’ প্রমাণ করে দিয়েছে, সঠিক সময়ে নেতিবাচক প্রচারণাও কীভাবে দর্শক মনে প্রবল কৌতূহল জাগিয়ে টিকিট বিক্রির রেকর্ড গড়তে পারে।



