সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিম, মুরগি ও মাছের বাজার এখনো চড়া। প্রতিটি ডিম খুচরা কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৪ টাকা, আর এক ডজন ডিমের দাম ১৬৫ টাকা পর্যন্ত। শুক্রবার রাজধানীর খিলক্ষেত, কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবু বাজার ও কাওরান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপের দাম ৩০ টাকা। পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি হলেও দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনো বেশ চড়া। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে শিম, যার দাম বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। এদিকে সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে নতুন করে ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। তবে সবজি ও মসলার বাজারে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা। সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ–মাংসের বাজারে তার প্রভাব নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪ টাকায়, আর এক ডজন কিনতে খরচ হচ্ছে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত। মাছের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই–কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি হাজার টাকার বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, মাছের আকার, জীবিত বা মৃত এবং বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ায় সামগ্রিকভাবে মাছের বাজার এখনো চড়া রয়েছে।



