আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। এই জয়ে সব মিলিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এর আগে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা স্পেন এতটাই গোছানো ফুটবল খেলেছে যে প্রতিপক্ষকে মাঠে কোণঠাসা করে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বলের দখলে শুরু থেকেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লামিন ইয়ামাল গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে।
এরপর ১২তম মিনিটে স্পেন প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত থাকে। খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে মেসিদের রীতিমতো খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। বিপরীতে, আর্জেন্টিনাকে পুরো প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। গোল আদায়ে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করেন। এতে ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায় না স্পেন। আর আর্জেন্টিনা তো প্রতিপক্ষের গোলে তেমন শটই নিতে পারেনি। তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ।
তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় স্কালোনির দলের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। এদিকে, নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায় ম্যাচ। পরে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশরা। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। সেটা অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান ফেররান তোরেস। এরপরই তা আগুনে এক শটে জালে জড়ান তোরেস। পরে আর্জেন্টিনা গোল শোধের চেষ্টা করলেও ১০ জনের দল নিয়ে পেরে ওঠেনি স্পেনের সাথে। স্পেনও বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি। এতে ১–০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।



