১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এই দিনে ৩০ লাখ শ্রেষ্ঠ সন্তানের জীবন ও দুই লাখ মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাঙালি জাতি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই পরাধীনতার শিকল ছেঁড়া, তাদের শ্রদ্ধাভরে আগামী মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) স্মরণ করবে গোটা জাতি। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের অবিস্মরণীয় গৌরবময় এ দিনে শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যাবে শহীদ বেদি। তাই তো গোটা সৌধ প্রাঙ্গণ বাহারি ফুল আর রং ও তুলির আঁচড়ে বিজয়ের রঙে রঙিন করে তুলছে স্মৃতিসৌধের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের নবীনগরে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেখা যায়, বিজয়ের লাল ও সবুজ ফুলে সুশোভিত করে তোলা হচ্ছে গোটা সৌধ প্রাঙ্গণ। রং তুলির আঁচড়ে পুরো জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজানো হচ্ছে বিজয়ের সাজে। শ্রদ্ধায় সিক্ত করতে ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করা হচ্ছে শহীদ বেদিসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধ। শ্রদ্ধা নিবেদনে জাতীয় সৌধ প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করে তুলতে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এ সময়ের মধ্যেই অর্ধশতাধিক কর্মী বিজয়ের রং আর ফুলে ফুলে সুশোভিত করে তুলছে বাঙালির আবেগের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতীয় স্মৃতিসৌধে দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করেন মান্নান, তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ হলো বাঙালির আবেগের স্থান, স্বাধীনতা অনুভবের স্থান। এখানেই শায়িত আছেন জাতিকে মুক্তি এনে দেওয়া শহীদরা। আমি তাদের খেদমতে কাজ করি। যা সবার ভাগ্যে এমন সুযোগ জোটে না। আমি গত এক সপ্তাহ ধরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি।,শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। রং ও তুলির আঁচড়ে বিজয়ের সাজে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজিয়ে তুলছেন আল–আমিন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানেই কাজ করি। আমার কাজ হলো রং ও তুলি দিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজানো।


