দীর্ঘ ৭০ বছরের পথচলা সত্ত্বেও আজও মাদরাসাটিতে সরকারি বহুতল ভবনের বরাদ্দ মেলেনি। অনেক জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা ভবন করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে মাদরাসাটি পাবলিক দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে (কেন্দ্র কোড: ৭৮৯, নাম: ত্রিশাল–২ বাগান কেন্দ্র)। তবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনায় চরম সংকট তৈরি হচ্ছে।
জরাজীর্ণ ভবনে কষ্ট করে পাঠ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মাদরাসাটিতে বর্তমানে ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, কিন্তু নেই যথেষ্ট ক্লাসরুম, মেয়েদের কমনরুম, আলাদা নামাজ ঘর বা অজুখানা। স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক, যা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমা সুলতানা, ফাইজা খাতুন, হালিমা খাতুন ও মনোয়ারা খাতুন বলেন, মেয়েদের জন্য আলাদা কমনরুম বা নামাজের স্থান নেই। ছোট পরিসরে কিছু থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ক্লাসরুমও অত্যন্ত ছোট। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ভারী বর্ষণে রীতিমতো পানিতে ভেসে যায় ক্লাস। তবু কষ্ট করে পড়ছি। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, শিক্ষকরা ভালো, কিন্তু অবকাঠামোর অভাবে আমরা পড়ালেখায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছি। আলাদা কোনো জায়গা নেই মেয়েদের জন্য। পরীক্ষার্থী আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের মাদরাসাটি অনেক পুরোনো হলেও আজও একটি বহুতল ভবন নেই।
টিনশেড আর জরাজীর্ণ আধা–পাকা ভবনে কোনোরকমে চলছে পাঠদান।” আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমরা তো সামনে পরীক্ষা দিয়ে মাদরাসা ছাড়বো, কিন্তু চাই আমাদের পরবর্তী ভাই–বোনরা যেন কষ্ট না পায়। বহুতল ভবন এখনই জরুরি। সাবিহা ও আফিফা বলেন, কমনরুমের অভাব মেয়েদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। অবকাঠামো ভালো হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে, ফলাফলও আরও ভালো হবে। মাদরাসার ৩২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং ভালো ফলাফলের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় অনেকে ভর্তি হয়ে পর আবার অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফয়জুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো বহুতল ভবনের বরাদ্দ পাইনি।
পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় আসন বিন্যাস করতেও সমস্যায় পড়ি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বহুতল ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি। ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছি। পরীক্ষার ফল ভালো হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। মাদরাসাটির অবকাঠামোগত সংকট আমাদের জানা আছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি বহুতল ভবন বরাদ্দ দেবেন। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, এটি ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের একমাত্র আলিম মাদরাসা ও পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র। শ্রেণিকক্ষ সংকট ছাড়াও স্যানিটেশন ও সীমানা প্রাচীর সংস্কার জরুরি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


