২০১৯ সালের ৭ মে ঘুমের দেশে পাড়ি জমান কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। কেটে গেছে প্রায় পাঁচ বছর। জীবদ্দশায় বেশ কিছু গানে কণ্ঠ দেন কিংবদন্তি এই শিল্পী। যে গানগুলোর সুর ও সংগীতায়োজন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক তানভীর তারেক। এর মধ্যে সোমেশ্বর অলির কথায় আনরিলিজ ট্র্যাক ‘ঘুম’ মুক্তি পাচ্ছে এ সপ্তাহে। ‘গেছো ঘুম নিঝুম নিরালায়, জেগে আছি দুচোখ জানালায়…। এমন কথার গানটি ‘সাউন্ডস অব তানভীর’-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও স্বাধীন মিউজিক অ্যাপে মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম স্পটিফাই, আইটিউনসসহ অন্য সব প্ল্যাটফর্মেও গানটি শোনা যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে সুবীর নন্দীর কিছু গান নিয়ে কাজ করছিলেন তানভীর তারেক। গানগুলো মুক্তির আগেই প্রয়াত হন বরেণ্য এই শিল্পী। ‘ঘুম’ গানটি প্রসঙ্গে তানভীর তারেক বলেন, ‘সুবীর দা আমার সংগীত জীবনের অনেক বড় একটা অনুপ্রেরণার নাম। আমার সংগীতের যে কোনো বিষয়ে তিনি আমাকে বরাবরই সাহস জুগিয়েছেন। একদিন এক আড্ডায় আমাকে তিনি বলেন, তানভীর তোমরা এ সময়ের সুরকার। আমার জন্য কিছু গান বাঁধো। গেয়ে যাই।’
আমার কাছে দাদার এই কথাটি অনেক বড় পুরস্কারের মতো ছিল। এরপর আমি আমার স্টুডিওতে সুবীর দার জন্য নিয়মিত গান তৈরির কাজে লেগে যাই। আমরা দীর্ঘ সময় নিয়ে গানগুলোর কাজ করেছি। সুবীর দা আর আমি আমার স্টুডিও কোলাহলে মাঝরাত অব্দি দিনের পর দিন সময় কাটিয়েছি। অ্যালবামে ঢাকা–কলকাতার মিউজিশিয়ানরা বাজিয়েছেন। এভাবে আমরা ১০টি গান কমপ্লিট করি। এর ভেতরে একটি গান আমি আমার চ্যানেলে রিলিজ দিয়েছি। সোমেশ্বর অলির লেখা এই গানটি হবে আমার সেই প্রজেক্টের দ্বিতীয় রিলিজ। বাকি ৮টি গান ধারাবাহিকভাবে মুক্তি দেওয়া হবে।’
গানটি প্রসঙ্গে গীতিকবি সোমেশ্বর অলি বলেন, ‘তানভীর ভাইকে অনেক আগে দুটি গান দিয়েছিলাম। তার ভেতরে এই গানটি তিনি কবে কখন সুর করে সুবীর দাকে দিয়ে গাইয়ে রেখেছেন সত্যিই আমি জানি না। আমি শুনে অবাক। আমার জন্য এটা সারপ্রাইজ ছিল! কিছুটা আবেগাক্রান্ত হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছিল এআই দিয়ে দাদাকে আবার ফিরিয়ে আনলাম। তানভীর ভাইয়ের সুরে দাদার নিজস্ব কণ্ঠের এই আনরিলিজ ট্র্যাক সত্যিই শ্রোতাদের জন্য বিশেষ উপহার হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। অসাধারণ সুর করেছেন তানভীর ভাই।’


