আবারো শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা– ২০২৪। “পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রতিপাদ্য ধারণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা আয়োজন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে আয়োজক সংস্থা বাংলা একাডেমি।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এবারের মেলা চলবে আগামী ২৯ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত। চলতি বছরে অধিবর্ষ হওয়ায় এবারের মেলা পাচ্ছে বাড়তি একদিন। মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের দ্বার উন্মুক্ত হওয়ায় এবারের মেলায় পাঠক দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়ের আশা করেছেন প্রকাশকরা। তবে প্রথমদিনে খুব বেশি মানুষের দেখা মিলেনি মেলা প্রাঙ্গণে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলা শুরু হলেও বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখনো চলছে স্টল নির্মাণের কাজ। অধিকাংশ স্টল ও প্যাভিলিয়নের কাজ শেষ হলেও এখনো কানে বাজছে বাঁশ, কাঠ, আর পেরেকে হাতুড়ি পেঠার ঠকঠক শব্দ। জানান দিচ্ছে দর্শনার্থীদের জন্য এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি মেলাপ্রাঙ্গণ। দীর্ঘ এক বছর পানি ছিঁটানো না হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাঠে ধুলোবালির ডেউ তরঙ্গ দৃশ্যমান হলেও গত বুধবার রাতের হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেকটাই ভিজেছে সোহরাওয়ার্দী। ফলে প্রথম দিনে ধুলাবালির সমস্যায় পড়তে হয়নি পাঠক দর্শনার্থীদের।
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগৃহীত রচনা: দ্বিতীয় খন্ড’ এবং ‘প্রাণের মেলায় শেখ হাসিনা’ (বাংলা একাডেমীতে শেখ হাসিনার গত ২০ বারের ভাষণের সংকলন) শীর্ষক দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১৬ জনকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার–২০২৩ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ বছর ১১টি বিভাগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার–২০২৩ প্রদান করা হয়। বিভাগগুলো হলো–কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ/গবেষণা, অনুবাদ, নাটক, শিশুসাহিত্য বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, পরিবেশ/বিজ্ঞান ক্ষেত্র, জীবনী এবং লোক কাহিনী।প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন– শামীম আজাদ (কবিতা), ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ও সালমা বাণী ( কথা সাহিত্য), জুলফিকার মতিন (প্রবন্ধ/গবেষণা), সালেহা চৌধুরী (অনুবাদ), নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা ও মাসুদ পথিক (যৌথভাবে নাটক ও নাট্য সাহিত্য), তপঙ্কর চক্রবর্তী (শিশু সাহিত্য), আফরোজা পারভিন এবং আসাদুজ্জামান আসাদ (মুক্তিযুদ্ধের উপর গবেষণা), সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল এবং মো. মজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণা), পক্ষীবিদ ইনাম আল হক (পরিবেশ/বিজ্ঞান ক্ষেত্র), ইসহাক খান (জীবনী) এবং তপন বাগচী ও সুমন কুমার দাস (যৌথভাবে লোক কাহিনী)।
বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন– সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন।
এবারের মেলায় সরকারি বেসরকারি ছোট বড় মোট ৬৩৫ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বাংলা একাডেমি মাঠে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বছর মোট ৩৭টি প্যাভিলিয়নও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বিগত বছরের মতো এবারও মেলার মূল মঞ্চ হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও লেখক বলছি মঞ্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে। রমনা কালী মন্দিরের পাশে সাধুসঙ্গ এলাকায় শিশু চত্বর স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়, শেষ হবে রাত ৯টায়। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া শুক্রবার ও শনিবার মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদু›দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় চলবে শিশুপ্রহর।


