রাজধানীর পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে সবজি আসতে আসতে আইটেমপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যায়। কোনো কোনো জায়গায় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। বিক্রেতারাই ঠিক করে নেন কত দামে পণ্য বিক্রি করবেন। যে–যার মতো এভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। ফলে কোথাও কোথাও অনেকটাই দামের কমবেশি দেখা যায়। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে পণ্য নিয়ে আসতে যানবাহনের খরচ, দোকান ভাড়া ও আনুষঙ্গিক কারণে আইটেমপ্রতি ১০ টাকার কমে লাভ করলে চলে না। গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাইকারি বাজার, রায়েরবাগ বাজার ও খুচরা বাজার পর্যালোচেনা করে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে যেসব সবজি ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন সেখানে বিক্রেতারা ১০ টাকা লাভ করছেন। আর ৫০ থেকে ১০০ টাকার আইটেমপ্রতি প্রায় ২০ টাকার তারতম্য দেখা যায়। বিভিন্ন প্রকার সবজির মধ্যে পেঁপে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি আর পাইকারি বাজারে ২০ টাকা। রামপুরা বাজারে একই পেঁপে ৪০ টাকা। আবার ধুন্দল যাত্রাবাড়ী বাজারে পাইকারি ৩২ টাকা কেজি, একটু দূরে রায়েরবাগ বাজারে ৪০ টাকা। একই ধুন্দল রামপুরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। এভাবেই রাজধানীর অঞ্চলভেদে আইটেমপ্রতি দামের তারতম্য দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আকারভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি শসা ৬০–৭০ টাকা। লম্বা ও গোল বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ভারতীয় টম্যাটো ১২০ টাকা। করলা ৮০ টাকা। চালকুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৫০ টাকা। এ ছাড়া চিচিঙ্গা ৮০, পটোল ৫০–৬০, ঢ্যাঁড়শ ৫০–৬০, কচুর লতি ৮০, পেঁপে ৪০, মুলা ৫০, বরবটি ৮০ ও ধুন্দল ৫০ টাকা কেজি। বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ১৪০ টাকা। কাঁচকলার হালি ৪০ টাকা। লালশাকের ছোট সাইজের আঁটি ১৫–২০ টাকা। এক বছর আগেও এক জোড়া ১৫ টাকা, তিন আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হতো। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কলমিশাক, ডাঁটাশাক, মুলাশাক, কচুর শাক। এগুলো এক বছর আগে ১৫–২০ টাকায় জোড়া বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক আঁটি পালংশাক ২৫–৩০, পাটশাক ২০–২৫, লাউশাক ৪০–৫০ টাকা। ১ কেজি সমপরিমাণ পুঁইশাক ৪০–৫০ টাকা। রায়েরবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মাসুম বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে সবজি নিয়ে আসতে আমাদের যাতায়াত খরচ রয়েছে, যার কারণে আইটেমপ্রতি ১০ টাকার কমে লাভ করলে চলে না। বাজারে সবজির দাম একটু বাড়তি রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।’ হানিফ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘সবজির বাজারে বিক্রেতারাই বড় সিন্ডিকেট। এরা নিজেরা নিজেদের মতো দাম তৈরি করে বিক্রি করেন। দিন শেষ দেখা যায় যত টাকা দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে কিনেছেন, এর দ্বিগুণ লাভ উঠিয়েছেন। সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সিস্টেম চালু করা দরকার। আমরা বিদেশে এ ধরনের ব্যবস্থা দেখে থাকি। সরকার যদি এমন ব্যবস্থা চালু করে, তাহলে ভোক্তারা লাভবান হবেন।’


