সূত্র জানায়, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পার্বতীপুর, নীলফামারীর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল করে থাকে। এখানকার বাস টার্মিনালটি দীর্ঘদিনেও মেরামত ও সংস্কার না করায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূর–দূরান্ত থেকে বাসযাত্রীরা বাস ধরতে টার্মিনালে আসেন, কিন্তু টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারছেন না। এমনকি টার্মিনাল ভবন ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশেষ করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে দূরের শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পৌরসভা প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের অর্থবরাদ্দ রাখলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বাজেটেও সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল আধুনিকভাবে নির্মাণের জন্য ২ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এখনো এই টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। ফলে বাসচালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হারুণ অর রশীদ জানান, দীর্ঘদিনেও বাস টার্মিনাল মেরামত বা সংস্কার না করায় টার্মিনালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল চত্বরে বাস রাখা যাচ্ছে না কাদাপানির কারণে। ফলে যাত্রীদের সুবিধার্থে মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। সৈয়দপুর বাস টার্মিনালের শ্রমিক আজগার আলী জানান, মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ও মালামাল ওঠানামার কারণে কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বাস টার্মিনালে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলোতে পানি জমে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বলেন, ‘সৈয়দপুর পৌরসভায় বিশ্ব ব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থার অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। টার্মিনালটি আধুনিক মানের হিসাবে নির্মাণ করতে বাজেটে বরাদ্দ ধরা হয়েছে। আশা করি, চলতি অর্থবছরে বাসটার্মিনালের কাজ শুরু হবে। তখন আর মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।’

