কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। আগামী ৬ মে শনিবার অমর্ত্য সেনের বাড়ি প্রতীচী খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই নোটিশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বীরভূম জেলার জজ কোর্টে অমর্ত্য সেনের বাড়ি প্রতীচীর জমির মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি বিভাস রঞ্জন দে।
আগামী বুধবার বীরভূম জেলার জজ কোর্টে ঐ মামলার শুনানি হবে। আগামী ৬ মের মধ্যে শান্তিনিকেতনে প্রতীচীর জমি খালি করার জন্য অমর্ত্য সেনকে নোটিশ পাঠায় বিশ্বভারতীর যুগ্ম রেজিস্টার। ঐ বিজ্ঞপ্তির ওপর বৃহস্পতিবার স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
অন্যদিকে দুদিনের মালদায় সফরে থাকা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অমর্ত্য সেনের উদ্দেশে বলেছেন, আমি মালদায় আছি, কোনো অসুবিধা হলেই আমাকে জানাবেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ি প্রতীচী বুলডোজার দিয়ে ভাঙতে এলে রুখে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে হেনস্তা ও প্রতীচী থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে আগামী শনিবার অমর্ত্য সেনের বাড়ির সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দুদিনের অবস্থান কর্মসূচিতে বসছে তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়া পথসভার কথা রয়েছে সেখানে। ইতিমধ্যেই সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অমর্ত্য সেন জোরপূর্বক বিশ্বভারতীর ১৩ ডেসিমেল জমি দখল করে রেখেছেন। একাধিকবার জমি ফেরতের নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ৬ মে প্রতীচীর জমি খালি করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নোটিশ পাঠায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর অভিযোগ, অমর্ত্য সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডেসিমেল জমি জোর করে দখল করে রেখেছেন। ঐ জমি ফেরত চেয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অমর্ত্য সেনকে তিনবার চিঠি দিয়েছে।
১৯৭১ সালের ভূমি দখলদারি উচ্ছেদের আইনে নোটিশ দেওয়া হয় অমর্ত্য সেনকে। ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদি ঐ জমি তিনি নিজে খালি না করেন তাহলে বলপ্রয়োগ করে জমি দখল করে নেওয়া হবে বলেও নোটিশে হুঁশিয়ারি দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

