সোমবার (২০ জুলাই) রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুবাই হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (শিপ পারসোনেল বিভাগ) ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন এবং টানা দুর্ভোগে নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৭ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন নাবিক সাধারণত সর্বোচ্চ প্রায় ১১ মাস জাহাজে দায়িত্ব পালন করেন। জাহাজের ৩১ জন নাবিকের মধ্যে যারা এই সময়সীমা পূর্ণ করেছেন বা পূর্ণ করার কাছাকাছি ছিলেন এবং ১১৫ দিন আটকে থাকার কারণে শারীরিকভাবে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, তাদের দেশে ফেরার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা নাবিকদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার, চিফ অফিসার, প্রকৌশলী, ক্যাডেট ও রেটিং রয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের পরিবর্তে ১৭ জন নতুন নাবিককে ডারবানে পাঠানো হয়েছে।
তারা জাহাজে উঠে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান বলেন, পরবর্তী পণ্য বোঝাই শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘বাংলার জয়যাত্রা‘ ডারবান ত্যাগ করবে। জাহাজটির পরবর্তী সম্ভাব্য গন্তব্য মালয়েশিয়া। তিনি বলেন, জাহাজটি যদি মালয়েশিয়ার কোনো বন্দরে যায়, তাহলে আরও কিছু নাবিককে বদলি করে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর আগে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ‘বাংলার জয়যাত্রা‘ প্রায় ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে ছিল। বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি শেষ পর্যন্ত ২৩ জুন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালে নির্মিত জাহাজটির ডেডওয়েট ধারণক্ষমতা ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন এবং এতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক কর্মরত রয়েছেন।



