আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে বিভিন্ন নদনদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে বন্যা নিয়ে শঙ্কিত এসব অঞ্চলের মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি–বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি–বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি–বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ২৩ জুলাই সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি–বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি–বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিন পরও দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো বন্যার সর্বশেষ খবর–
নীলফামারী : উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব কটি নদনদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই দিন থেকে এসব নদনদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, দুধকুমার নদের পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী ও সেতু পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। ফলে এসব নদনদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি উঠছে। তলিয়ে যাচ্ছে এসব এলাকার বেশ কিছু ফসল। গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠায় বেকায়দায় পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, নদীর পানি উজানের ঢলে বেড়ে যাওয়ায় স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে। জেলার নদীতীরবর্তী ৩৮টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় আমরা সেখানে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। বতমানে ৪৫০ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে।
রংপুর : উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল ৩টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে করে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নদীতীরবর্তী কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী পাট খেত, আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। গতকাল গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদের পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসাীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজশাহী : ঘণ্টা দুইয়েকের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী নগরীর প্রায় সব সড়কে। অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর রাস্তা। গতকাল বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে মুষলধারে বৃষ্টি হয় ৫টা পর্যন্ত। এই বৃষ্টিতে নগরীর সাগরপাড়া, বোসপাড়া, পঞ্চবটী, টিকাপাড়া, তেরখাদিয়া, উপশহর, আলুপট্টি, কুমারপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে কয়েক দিন ধরেই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি ও আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য আবাদ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিল। ভাঙছিল বসতভিটা ও নদীর পার। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সারিয়াকান্দিতে সকাল পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ১৫ দশমিক ৮৩ মিটার সমতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল : যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে টাঙ্গাইল–তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ভূঞাপুর–তারাকান্দি সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রবিবার বিকাল থেকে গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া যমুনা নদীর ২৫ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো বিভিন্ন জায়গা দিয়ে চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল দুপুরে সরেজমিন শাখারিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে চলছে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা। এ সময় স্রোত কমাতে সড়কের পাশে গাছের বড় বড় ডালপালা ও গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
নেত্রকোনা : টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নেত্রকোনা জেলার নদনদীর পানি। তার ওপর সীমান্তে মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দায় উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার বেশির ভাগ নদনদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল কলমাকান্দা সীমান্তের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাংশ স্রোতের তোড়ে ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়েছে একটি সড়কের কয়েকটি অংশ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী শাখার উপদাখালী ডাকবাংলো পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল থেকে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়লেও দুর্গাপুর পয়েন্টে ১৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কংশ নদীর পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট : সিলেটে হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে নদনদীর পানি। গতকাল সকাল থেকে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কয়েকটি পয়েন্টে বাড়তে শুরু করে। এ ছাড়া সারিগোয়াইন ও লোভাছড়া নদীর পানিও বেড়েছে। তবে কমেছে পিয়াইন ও ধলাই নদীর পানি। জেলার সব কটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ১২ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ, শেওলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বেড়েছে যথাক্রমে ৫, ৬ ও ৩ সেন্টিমিটার। তবে শেরপুর পয়েন্টে কমেছে ৩ সেন্টিমিটার। সারিগোয়াইন নদীর পানি সারিঘাটে ১৩ সেন্টিমিটার ও গোয়াইনঘাটে ৬ সেন্টিমিটার এবং লোভাছড়ার পানি লোভা পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ধলাই নদীর পানি ইসলামপুরে ৩ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি জাফলংয়ে ৬ সেন্টিমিটার কমেছে।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জগন্নাথপুর উপজেলার মারকুলি কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে হাওড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই উপজেলার নলজুর নদীর পার উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে নদীতীরবর্তী পাইলগাঁও, আশারকান্দি ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রানীগঞ্জের বালিশ্রী এলাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সড়ক ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এদিকে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এ ছাড়া যাদুকাটা, পুরাতন সুরমাসহ অপরাপর নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।



