দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা পৌঁছে যাচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিভাগসহ দেশের ২৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার তাপমাত্রার হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা কম। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য অংশসহ খুলনা বিভাগ এবং ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এদিকে বুধবারের তুলনায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
গতকাল ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রাজশাহী ব্যুরো : উত্তরের জনপদ রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। এরই মধ্যে গত বুধবার রাজশাহীর মোহনপুরে হিট স্ট্রোকে একজনের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তীব্র রোদের সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেককে রাস্তার পাশে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতে কিংবা পানি পান করে কিছুটা স্বস্তি পেতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৬০ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই মৃদু তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি চলমান থাকতে পারে। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।


