কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; তার মধ্যে ছিল কৃষক কার্ড। এ কারণে আমরা পহেলা বৈশাখেই কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলাম। পহেলা বৈশাখ কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কিত। ব্যবসা বাণিজ্যের খাতা খুলতে হয় পহেলা বৈশাখেই। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের সব মানুষকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে ১১টি উপজেলায় প্রি–পাইলটিং কৃষক কার্ডের উদ্বোধন চলছে। ২২ হাজার কৃষককে আমরা ১০টি সুবিধাসংবলিত কৃষক কার্ড দিচ্ছি। এছাড়াও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোনের সুদ মওকুফ করেছি। দেশের ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন মওকুফ করেছিল। এছাড়াও ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমি খাজনা মওকুফ করেছিল। এক সময় এদেশের কৃষকরা সেচের মৌসুমে জমিতে পানি পেত না।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তখন এক বছরের মধ্যে দেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ লোক না খেয়ে মারা গিয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে খাল খনন করে কৃকদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ করেছিলেন। ফলে ওই সময় কিছু পরিমাণ খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। এ দেশের ৪০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। এ দেশের প্রধান পেশা কৃষি। বিএনপি বিশ্বাস করে, এ দেশের কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে খাল খনন করে সেচের মাধ্যমে সব কৃষককে সেচের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কৃষকদের সেচের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরাও খাল খনন শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। যাতে করে কৃষকরা বন্যার পরে পানি ধরে রাখতে পারে এবং ফসল উৎপাদন সহজ হয়। তারেক রহমান বলেন, সাধারণ নলকূপ ও গভীর নলকূপ ব্যবহারের ফলে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যায়। যা দেশের মানুষের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার। এ কারণে খাল খনন ও নদী খননের মাধ্যমে আমরা পানির নিচের স্তর ঠিক রাখতে পারব।
কৃষি নির্ভরশীল এলাকায় আমরা কৃষকদের পাশে থাকবো। শুধু কৃষি পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেতে কৃষি সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। কৃষিপণ্য যাতে বিদেশে রপ্তানি করা যায় সে চেষ্টাও করতে হবে। কৃষিপণ্য সম্পর্কিত কলকারখানা তৈরি করার জন্য আমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। যাতে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান। কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, টাঙ্গাইলের মধুপরে প্রচুর আনারস উৎপাদন হয়। কিন্তু কোল্ডস্টোর করে রাখার ব্যবস্থা নেই। আনারস ছাড়াও অন্যান্য কৃষিপণ্য স্টোরজাত করে রাখলে কৃষকরা অনেক লাভবান হয়। যে সব এলাকায় প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদন হয় সেসব এলাকায় সরকার কোল্ড স্টোর তৈরি করবে। তার সরকার সে ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিএনপি সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এ দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। বিএনপি সরকার আপনাদের আস্থার মর্যাদা দিবে। এখন দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশাপাশি নারী সমাজকেও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ফ্যামিলি কার্ড আমরা চালু করবো। সে কাজেরও পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব ফ্যামিলি নারী প্রধানের কাছে কার্ড পৌঁছে দিবো। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন। দেশের মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন। নিরাপত্তার সঙ্গে যেন এ দেশে মানুষ বসবাস করতে পারে।
এ জন্য তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা চান। কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ফাও–এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জাইয়োকান শি, উপকারভোগী কৃষানি জুলেখা আক্তার, উপকারভোগী কৃষক কবির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ। এদিকে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে উপস্থিতি হয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি–পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে ১৫ জন কৃষককে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের এক হাজার ৪৭০ জন কৃষক কার্ডের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থেকে ১০০ জন কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। তাদের মধ্যে যাচাই বাছাই করে প্রধানমন্ত্রী ১৫ জনকে নিজ হাতে একটি করে গাছের চারা ও কার্ড বিতরণ করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, ঋণ এবং কৃষি উপকরণের সুবিধা পাবেন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক ভূমিহীন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষক আর্থিক অনুদান হিসেবে গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা সমমূল্যের ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ পাবেন।


