মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল ঋষিপাড়া ব্রিজের পাশে এক টুকরো টিনের ঘরে বসবাস করে চার সদস্যের একটি পরিবার, যাদের জীবনের প্রতিটি দিন চলে চরম মানবেতর অবস্থার মধ্যে। পরিবারটির কর্তা ৯০ বছর বয়সী রাধেশ্যাম মনি দাস দৃষ্টিহীন। বড় মেয়ে সাগরিকা দাস জন্মলগ্ন থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী, আর ছোট মেয়ে নাগরী দাস একটানা ১০ বছর বিছানায় শুয়ে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসার চলছে মা গীতা রানী দাসের ভিক্ষার টাকায়। পরিবারটি একটি জলাশয়ের ধারে ভাঙাচোরা টিনের ঘরে বাস করে, যেটির চারপাশে ঝোপঝাড়, পোকামাকড়, সাপ ও নানা রকম প্রাণীর উৎপাত নিত্যদিনের ঘটনা। টিনের ছাউনি ফুটো, বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে। নেই বিদ্যুৎ, নেই টয়লেটের নিরাপদ ব্যবস্থা। চৌকি বা খাট তো দূরের কথা, সবাই মাটিতেই ঘুমায়। সম্প্রতি ঘরে একটি বড় গোখরা সাপ ঢুকে পড়েছিল। সবাই আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে ছিল বেশ কিছুক্ষণ। ২৫ বছর বয়সী সাগরিকা দাস শুধু তাকিয়ে থাকে, কথা বলতে পারে না। মাথা চুলকে ও বিরবির করে কী যেন বলে। কোনো কাজ করতে পারে না। আর ছোট মেয়ে নাগরী দাস ১০ বছর ধরে বিছানাতেই বন্দি। উঠতে বা নড়াচড়া করতে পারে না। শুয়ে শুয়েই গোসল, প্রস্রাব–পায়খানা সবকিছু করতে হয়। গায়ে কয়েক বছরের পুরনো নোংরা কাপড়। চরম অপুষ্টি ও সংক্রমণে তার শরীর প্রায় কঙ্কালসার। চিকিৎসা বলতে মাঝে মাঝে ফকিরের পানি পড়া বা তাবিজই ভরসা।
রাধেশ্যাম মনি দাস জানান, আমার বয়স ৯০, চোখে দেখি না। হাঁটাচলাও করতে পারি না। এক সময় বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছিলাম, কিন্তু দুইবার পাওয়ার পর আর দিচ্ছে না। ঘরে পানি পড়ে, কেউ মেরামত করে না। বাস–ট্রাকের শব্দে রাতভর ঘর কাঁপে, আমরা কাঁপতে কাঁপতে ঘুমাই। তিনি বলেন, অনেকে চালের কার্ড পায়, ঘর পায়, আমাকেতো কেউ দেয় না। মা গীতা রানী দাস বলেন, ভিক্ষা করে চারজনের মুখে ভাত তুলে দিই। মেয়েদের চিকিৎসা করাতে পারি না। একটা ছাগল ছিল, সেটাও মারা গেছে। মাছ–মাংস খাইনি তিন মাসেরও বেশি। একটা সাংবাদিক পাঙ্গাস মাছ দিয়েছিল, ঈদে একটুকরো মুরগি খেয়েছিলাম। এখন শুধু শাক–পাতার ঝোলেই দিন চলে।মাঝে মাঝে মনে হয় মেয়েগুলো মরে গেলেই বাঁচতাম। আবার ভাবি আমি মরলে ওদের কী হবে? ওদের তো দেখার কেউ নেই…


