সাবেক ইউরোপীয় ১৫০০ মিটার চ্যাম্পিয়ন এবং দুইবারের অলিম্পিয়ান আইরিশ দৌড়বিদ চিয়ারা ম্যাগিয়ান ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর রবিবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক আবেগঘন বার্তায় লেখা হয়, ম্যাগিয়ান ছিলেন এক প্রিয় কন্যা, বোন, স্ত্রী, বন্ধু এবং অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা। তিনি সবার হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। অন্যদিকে, অ্যাথলেটিক্স আয়ারল্যান্ড এক শোকবার্তায় জানায়, আমরা গভীরভাবে শোকাহত। চিয়ারা তার সাহস, দয়া এবং অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের পোর্টাফেরির বাসিন্দা ম্যাগিয়ান কম বয়সে ‘ক্যামোজি‘ খেলার মাধ্যমে ক্রীড়াজীবন শুরু করেন।
পরবর্তীতে অ্যাথলেটিক্সে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তিনি। বয়সভিত্তিক অ্যাথলেটিক্সে দ্যুতি ছড়িয়ে ২০১০ বিশ্ব জুনিয়র ও ২০১১ ইউরোপীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে রূপা জয় করেন তিনি। ইনজুরির কারণে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক মিস করলেও ২০১৬ রিও এবং ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন এই তারকা। তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য আসে ২০২৪ সালে। সেবার রোমে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১৫০০ মিটার ইভেন্টে দুর্দান্ত এক জয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম বড় খেতাব নিশ্চিত করেন তিনি। এছাড়া, ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে রূপা এবং মর্যাদাপূর্ণ ব্রাসেলস ডায়মন্ড লিগে আইরিশ রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণ জয় করেছিলেন তিনি। অ্যাকিলিস ইনজুরির কারণে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক থেকে শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছিল তাকে। পেশাদার অ্যাথলেটিক্স ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
অ্যাথলেটিক্সের বাইরে গত অক্টোবরে দীর্ঘদিনের সঙ্গী থমাস মরানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। চলতি বছরের জুনে এক সাক্ষাৎকারে জীবনের কঠিন সত্য মেনে নিয়ে ম্যাগিয়ান বলেছিলেন, আমি প্রতিদিনের ছোট ছোট আনন্দের মাঝে বাঁচতে শিখছি এবং অ্যাথলেট হিসেবে যে ক্যারিয়ার পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। তার এই অকাল প্রয়াণে আয়ারল্যান্ডসহ সমগ্র বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।



