স্বাধীনতাদিবস আর স্বাধীনতা, জন্মদিন এবং জীবন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ধার্মিকতা, কামানের আওয়াজ আর কামান, ক্রান্তিলগ্ন এবং যুগকলাপ, দেয়ালে টাঙ্গানো ক্যালেন্ডারের পরে চোখ বুলানো এবং কর্মক্ষেত্রে মনোনিবেশ করা পারস্পরিক তুলনা করা চলে।
স্বাধীনতাদিবসের জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি বরং স্বাধীনতা লাভের জন্য দেশ ও দশের দুশমনদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছি। বছরে একটি দিনকে জমকালো রূপে পালন করে চোখ ধাঁধানো সহজ, কিন্তু শহরটি লব্ধ স্বাধীনতাকে প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য তাৎপর্যবহ করে তোলাটাই হলো আসল বিষয়।
অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়, পিতার বিরুদ্ধে পুত্র শ্বশুরের কাছে নালিশ করছে। যিনি কমছেকম ২৫টি বছর লালন–পালন করে সন্তানটিকে মানুষ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে শ্বশুরের কাছে অভিযোগ করা, বসন্তের কোকিলের কাছে অভিযোগ করার সমতুল্য। ধার্মিক সাজা আর ধার্মিক হওয়া যেন কৃত্রিম চুম্বক এবং স্থায়ী চুম্বকের দৃষ্টান্ত।
বিদ্যুৎপ্রবাহ দ্বারা যে–কোনো লৌহদন্ডকে চুম্বকে পরিণত করা সম্ভব, যেমন কলিং বেল। বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হবার সাথে সাথে লৌহদন্ডটি হারিয়ে ফেলে আকর্ষণ করার শক্তি অর্তাৎ চুম্বকত্ব। কিন্তু স্থায়ী চুম্বকের ক্ষেত্রে দন্ডটিকে হাজারভাগে বিভক্ত করা হলেও চুম্বকখন্ডগুলো তাদের ধর্ম হারায় না। চুম্বকের ধর্ম আকর্ষণ করা। চুম্বক যতোক্ষণ পর্যন্ত অস্তিত্বমান থাকে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তার ধর্মও বিদ্যমান থাকে। দিবারাত্র–ঋতুচক্র–স্থান–কাল–পাত্র চুম্বকের ধর্মে প্রভাব ফেলতে পারে কি?
গাড়ি–বাড়ি–নারী–অর্থ–প্রতিপত্তি–সুখ–শান্তি–ভোগবিলাস প্রভৃতির বিনিময়ে গড়ে ওঠা ভক্তি, শ্রদ্ধা, ধার্মিকতা ততোক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকে, যতোক্ষণ পর্যন্ত সাপ্লাই লাইন প্রাচুর্যময় থাকে। ডলার বা পেট্রোডলারের আধিক্যে আমাদের দেশে অনেকগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান স্প্রিংআপ হয়ে উঠতে দেখা গেছে। কথায় বলে, দারিদ্র্যের কারণে আপন মায়ের শ্রাদ্ধ পালন করা সম্ভব হয় না, কিন্তু প্রাচুর্যের ধাক্কায় মাসির শ্রাদ্ধও ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
ধর্মীয় ক্ষেত্রে বর্তমানে মানুষের জীবনে যতোটা আলোড়ন ও সতর্কতা দৃষ্ট হচ্ছে, তার সিকিভাগ ধার্মিকতা তাদের মধ্যে রয়েছে কি? কাগুজে ফুল দিয়ে সিনেমায় শুটিং করা চলে, তবে তেমন ফুল থেকে মধুকর মধু চয়ন করতে পারে না, পারে না লোকে ফুলের নির্যাস বের করে নিতে। কয়েক গজ কাপড় জড়িয়ে দর্শকদের নয়ন ভোলানো ধার্মিক না সেজে চরিত্রগত পরিবর্তনের দ্বারা প্রকৃত ধার্মিক হলে দেশ থেকে দুর্নীতি, অনাচার, অবিচার অতি দ্রুত দূর হবে, ফিরে আসবে শান্তির পরিবেশ নিঃসন্দেহে।



