২০২৩ সালে টেনিস থেকে অবসর নেওয়া সানিয়া সাত বছর বয়সী এক সন্তানের মা। তবে নিজের ত্বকের যত্নে কোনো ছাড় দিতে চান না তিনি। সকালে প্রায় ১০টি ধাপে ত্বকের পরিচর্যা করেন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও অনুসরণ করেন একাধিক ধাপের রূপচর্চা। এ ক্ষেত্রে কোরীয় সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন পদ্ধতির ওপরও নির্ভর করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সানিয়া জানান, গত এক বছরে তার রূপচর্চার রুটিনে যুক্ত হয়েছে রেড লাইট থেরাপি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এই থেরাপি নিতেন তিনি। তার ভাষ্য, থেরাপির পর ত্বকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিজেই লক্ষ করেছেন।
চুলের ক্ষেত্রেও উপকার পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই টেনিস তারকা। রেড লাইট থেরাপি একধরনের আলোকভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি, যা লো–লেভেল লাইট থেরাপি নামেও পরিচিত। এতে লাল আলো এবং নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে ত্বকের কোষের কার্যকলাপকে উদ্দীপিত করার চেষ্টা করা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করলে এই থেরাপি ত্বকের বলিরেখা ও কিছু দাগছোপ কমাতে, প্রদাহ প্রশমিত করতে এবং ত্বকের গঠন উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।
ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনার কারণেও পদ্ধতিটি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল পাওয়া যায় না। চুলের যত্নেও রেড লাইট থেরাপি ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে চুল পড়ার কারণ, থেরাপির ধরন এবং ব্যবহারের নিয়মের ওপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করে। রেড লাইট থেরাপিতে ত্বকের কিছু সমস্যার উন্নতি হতে পারে। তবে একে বয়সের ছাপ পুরোপুরি মুছে ফেলার বা চিরযৌবন ধরে রাখার পদ্ধতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
নিয়মিত ব্যবহার করলেও ফল পেতে সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি যন্ত্রের মান, আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, ব্যবহারের মাত্রা এবং ব্যক্তির ত্বকের ধরন ফলাফলে প্রভাব ফেলে। সানিয়া মির্জা নিজের অভিজ্ঞতায় ত্বক ও চুলে উপকার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একই ফল হবে— এমন নিশ্চয়তা দেয় না। রেড লাইট থেরাপি সাধারণত নির্দিষ্ট সময় ও মাত্রা মেনে ব্যবহার করা হয়। আলো কতটা তীব্র, যন্ত্রটি কী ধরনের এবং কতক্ষণ ব্যবহার করা হচ্ছে— এসব বিষয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থেরাপি দেওয়া হয়। তবে সব যন্ত্রের জন্য একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।



