‘বৃষ্টি বাদলা নাই, উজানের ধাক্কাও লাগে না। খরার মরায় ধরছে গাঙ্গের পাড়ে। কিতা করবায় কও। রাস্তা গেছে পুরাই। কার কিতা যায় দেহন ছাড়া কিছু করনের নাই…’ বিয়ানীবাজার উপজেলা–সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর অংশে তীরভাঙনের ব্যাপারে এভাবেই আক্ষেপের কথা জানাচ্ছিলেন স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা। সম্প্রতি নদীটির বিভিন্ন অংশের ভাঙন প্রবণতায় আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। যার মধ্যে সর্বশেষ উপজেলার উত্তর দেউলগ্রাম এলাকার বিশাল অংশজুড়ে কুশিয়ারার ভাঙনের তথ্য জানা গেছে। সর্বশেষ সোমবার ভাঙনের মুখে একটি গ্রামীণ সড়কসহ তীরবর্তী এলাকার একাংশ নদীতে বিলীন হওয়ার সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। জানা গেছে, দেশের অন্যান্য নদীগুলোর তুলনায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙন চিত্র ব্যতিক্রম। খরস্রোতা এ নদীতে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় শুকনো মৌসুমে।
চলতি বছরে শুকনো মৌসুম শুরু হতেই কুশিয়ারা নদীর বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চোখের পলকে নদীতে বিলীন হওয়া ভাঙনের একটি দৃশ্য দেখে সোমবার বিকেলেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে সোমবার দুপুরে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউলগ্রামের যাতায়াতের মূল সড়কটিসহ বিশাল অংশ মিনিটের মধ্যে নদীতে আছড়ে পড়ে তলিয়ে যায়। ফলে এলাকার মানুষজনের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় সড়কসহ বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মধ্যে পড়েছে। নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেউলগ্রাম এলাকার বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামসহ একই ইউনিয়নের গোবিন্দচন্দ্র শ্রী, উত্তর আকাখাজানা, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া, তেরাদল, বালিঙ্গা, কোনাশালেশ্বও, দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরিয়া, নয়া দুবাগসহ বেশ কিছু এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ ছাড়া শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া বাজারের কাছে একটি স্টিলের কালবাভার্টসহ সড়ক ও বসতবাড়িও ভাঙনের কবলে পড়েছে। জানা গেছে, ওই অংশটি উপজেলা প্রশাসন থেকে সাময়িকভাবে মেরামত করে দিলেও গত সপ্তাহে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়রা চলাচল করছেন বিভিন্ন বাড়ির উঠান ধরে।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নদীপাড়ের বাসিন্দা হওয়ায় নদী ভাঙনের সঙ্গে তাদের পরিচয় রয়েছে। তবে গত সোমবারের ভাঙনের তীব্রতা ছিল বিস্ময়কর। এর আগে এলাকার কেউ এমনটি দেখেনি। পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামের চলাচলের রাস্তা বিলীন হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
একই এলাকার আশরাফুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে দায়িত্বশীলরা স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে গ্রামের অর্ধেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে বিপদে পড়বেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, শুকনো মৌসুমে কুশিয়ারা নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। দেউলগ্রামের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে অস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।


