নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট উৎপাদন ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে চারটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে চারটি প্রতিষ্ঠানের তিনজন মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সিআইডি বলছে, সাভার এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর ঘোষিত ডিগ্রেডেড এয়ারশেড (অবক্ষয়িত বায়ু) এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা ইট তৈরি করে আসছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মো. জাকির হোসেন। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এ,বি,এন অ্যান্ড কোম্পানি’। আরেক অভিযুক্ত হলেন আবু বকর। তিনি ‘এম.এইচ.এস. স্টার’ ও ‘এম.এইচ.বি. স্টার’-এর মালিক। এছাড়া কাওছার আহমেদ নামে আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নাম ‘এ আই এম ব্রিকস’। সিআইডি জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধান কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা।
পরিবেশদূষণ ও সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের প্রবাহ শনাক্তকরণে সিআইডির অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তথ্য–প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত অন্য ইটভাটার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রসমূহের তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুর বার্ষিক মানমাত্রা প্রায় তিন গুণ অতিক্রম করায় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত সাভার উপজেলা মারাত্মক বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ মাস উত্তর–পশ্চিম এবং উত্তর–পূর্ব থেকে দক্ষিণ–পূর্ব এবং দক্ষিণ–পশ্চিমে বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় সাভার উপজেলার বায়ুদূষণ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে বায়ুদূষণের তীব্রতা ব্যাপক মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। এতে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ প্রেক্ষাপটে পরিবেশ অধিদপ্তর ‘বায়ুদূষণ বিধিমালা ২০২২’-এর বিধি ৫–এর ক্ষমতাবলে সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়।
এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার অন্তর্গত সকল ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এসব অবৈধ ইটভাটাগুলোতে উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এটি মানি লন্ডারিংয়ের পরিবেশগত সম্পৃক্ত অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়।



