একটি অংকুর খোসা থেকে বেরিয়ে আসে বনস্পতি হবার মানসে, আর সে কারণে তাকে কলায় কলায় বৃদ্ধি লাভ করতে হয়, সুশোভিত হতে হয় পত্র পুষ্পে শাখা–প্রশাখায়। কালের প্রবাহে দেখা যায় ওই চারাটি পূর্ণতা লাভ করে বিশাল মহিরূহ হয়ে বাগানের শোভা বর্ধণ করে চলছে। এটাই অংকুরোদগমের স্বার্থকতা।
মানব শিশু ভূমিষ্ট হয় পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে সমাজকে অলংকৃত করার জন্য, সমাজের অবক্ষয় দূর করে শান্তি শৃঙ্খলা সমৃদ্ধি বয়ে আনার জন্য।
বৃক্ষ যেমন ঐশী দান, মানুষ কেবল যত্ন প্রতিরক্ষা দিয়ে তা আকারে ও সংখ্যায় বৃদ্ধি করতে পারে, করেও থাকে। একইভাবে মানুষও আল্লাহপাকের হাতে হয়েছে সৃষ্ট, তাকে যতœ নেয়া, রোল–মডেল হিসেবে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করার দায়িত্ব সহমানবের ওপর বর্তায়।
চলার পথে একটি লক্ষ্যবিন্দু নিয়ে চলতে হয়। জীবনে সাফল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও তদ্রুপহাজার প্রকার অনুষদ থেকে একটি অনুষদ বেছে নিতে হয় সাফল্য অর্জনের জন্য। কথায় বলে Jack of all trades but master of none. সবজান্তা, আসলে কিছুই জানে না। তেমন অর্থহীন ভূমিকা পালন করা কারো কাম্য নয়।
আসলে, মানুষ সৃষ্ট হয়েছে মহান আল্লাহপাকের সুরতে, কেবল তাঁরই প্রতিনিধিত্ব করণার্থে। প্রথম আদম হলেন মানুষের রোল–মডেল। দুঃখের বিষয়, তিনি মহাজ্ঞানি আল্লাহপাকের হুকুমের অবাধ্য হলেন, পাপ করলেন, ফলস্বরূপ হলেন বিতাড়িত আল্লাহপাকের মনোরম পরিবেশ থেকে। মানুষ হারিয়ে বসলো ঐশী গুণাবলি, নেমে গেল নীচে, সম কাতারে সামিল হলো আর দশটা প্রাণীর সাথে।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের এহেন করুণ দশা সহ্য হবার নয়, সীমাহীন মহব্বতের তাগিদে আল্লাহপাক তাই আর একজন রোল–মডেল পাঠালেন মানবের মাঝে, মানব–সুরতে। তিনি হলেন প্রেমের পরাকাষ্ঠা, মানবের মুক্তির মাশুল শোধকল্পে পূতপবিত্র এক ঐশী মেষ, যিনি কোরবানি দিয়েছেন নিজ প্রাণ। পূতপবিত্র আল্লাহপাকের জীবন্ত ও ক্ষমতাধর কালাম এবং পাকরূহ যিনি মানবরূপে, মানবের মাঝে নেমে এসেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মে আল্লাহপাকের বাতেনি কুদরতের হয়েছে হুবহু প্রকাশ। যে কেউ তাঁকে দেখেছে সেই বাতেনি খোদাকে দেখার সুযোগ পেয়েছে। যে কেউ তাঁর সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে সেই মহান পিতার সাথে বাক্যালাপ করার সুযোগ পেয়েছে। তাই স্বাভাবিক কারণে মনে প্রশ্ন জাগে, বর্তমানে এমন কী ব্যবস্থা আছে যার মাধ্যমে খোদা ও মসিহের সাথে কথা বলার সুযোগ ঘটবে? ঈসা মসিহের সাহাবিগণ তাদের নিজেদের জ্বালা যন্ত্রণা ও সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতেন মসিহের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে। অবশ্য বর্তমানে ঐশী নির্দেশনাবলি লিখিত আকারে পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে সকল প্রকার নির্দেশনা খুঁজে নেয়া সম্ভব। তবে উত্তম হয় যদি সরাসরি আলাপ করা।
মসিহের ভক্তবৃন্দগণের মধ্যে বর্তমানে এমন কেউ আছে কী যার সাথে আলাপ করে প্রাণে স্বান্তনা জাগে এবং অশান্ত হৃদয় শান্ত হয়। আজ আমাদের খুঁজে নিতে হবে তেমন ব্যক্তিকে যিনি কথায় কাজে ধ্যান ধারণায় তথা জীবনের প্রতিটি সত্তায় মসিহকে জনসমক্ষে তুলে ধরছেন, যার সাথে বাক্যালাপ করার ফলে মনে হবে মসিহের সাথে আলাপ চলছে।


