শীর্ষ গণমাধ্যম রয়টার্স নিশ্চিত করেছে সায়মা ওয়াজেদ বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে স্পর্শকাতর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার অভিযোগ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এখন ভারতে অবস্থান করছেন। সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।
তার আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করার পর তাকে ওই বছরের জুলাই মাসে প্রথমবার ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের দেখা ডব্লিউএইচওর কাছে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পাঠানো গত বছরের ৩ জুলাইয়ের একটি চিঠি অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ‘চীন সফরে আর্থিক জালিয়াতি’ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসের কাছে লেখা সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগপত্রের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধভাবে এক জমি দখলের অভিযোগও এনেছে।
সায়মা ওয়াজেদ বলেছেন, তিনি ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগে জমিটির মালিক হন এবং বাংলাদেশের একটি আইন অনুযায়ী তিনি এটি পাওয়ার অধিকারী ছিলেন। ওই আইনে শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের এ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। বুধবার রাতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লিখেছেন, আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং আমি আন্তরিকভাবেই তা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, যেহেতু আপনি আমার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দিয়ে যাচ্ছেন, সেহেতু ডব্লিউএইচওতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। তাছাড়া আমাকে অবৈতনিক ছুটিতে রাখার সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এর আগে জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, নিয়মিত ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।
সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাকে গত বছরের শেষের দিকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠিয়েছিল ডব্লিউএইচও।



