আমন মৌসুমে লালমনিরহাটে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ডিলারের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, বর্তমানে আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। এ সময়ে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। সদর উপজেলার কৃষক নজরুল বলেন, এখন আমনের ভরা মৌসুম। জমিতে সারের খুব প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না।
সার সংগ্রহ করতেই যদি দিনের পর দিন চলে যায়, তাহলে সময়মতো জমিতে সার দেওয়া সম্ভব হবে না। কৃষক বদিয়ার রহমান বলেন, সরকারিভাবে বলা হচ্ছে– সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কিন্তু ডিলারের কাছে গেলে গুদামে সার নেই বলে জানানো হচ্ছে। আবার বেশি দাম দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, কিছু ডিলার সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সরকারি মূল্যে প্রকৃত কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার না পেলেও অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ডিলারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে।
তবে বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাময়িকভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার বিতরণে কোনো অনিয়ম, মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে দ্রুত সার সরবরাহ স্বাভাবিক করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাহিদা অনুযায়ী সার নিশ্চিত করতে হবে। এতে সময়মতো সার প্রয়োগের মাধ্যমে আমন আবাদ ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।



