একই বস্তু জনে জনে দর্শনে মন মননে পরিবর্তন আসে। যেমন একটি সহজ দৃষ্টান্ত টানা হলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। বাতাসে দোলায়মন ধানক্ষেত, একজন কবির দৃষ্টিতে মনে হবে ঢেউ খেলানো নদী; আবার ঐ একই দৃশ্যপট দেখে ধানক্ষেতের মালিকের মনে ক্ষণ গণনা শুরু হবে, আর ক’টা দিন বাকী আছে সোনালী ফসল ঘরে তোলার জন্য।
জনতার ভিড় দেখতে পেয়ে ঈসা মসিহ বুঝতে পারলেন ফসল সত্যিই বিপুল, কিন্তু ছেদনকারীর অভাব রয়েছে যথেষ্ট রিমানে (মথি ৯ঃ ৩)। বিবদমান বিশৃঙ্খল অসহায় জনগোষ্টিকে তিনি ফসলের সাথে তুলনা করেছেন, আর ধানক্ষেতের মালিকের মত মনে করেছেন, হারিয়ে যাওয়া খোদার ফসল পিতৃগৃহে ফিরিয়ে নেবার বিষয়টি। কেননা মানুষগুলো আসলেই তো রয়েছে দিশেহারা, যেই অন্ধকারে নিয়েছে জন্ম তেমন কুসংস্কারাচ্ছন্ন পরিবেশ ও গন্ডীভেদ করে কতোটা লোক লাভ করেছে প্রকৃত মুক্তি ও স্বাধীনতা; সমস্ত ভ্রান্তিকর শিক্ষা, কুসংস্কার ও যাবতীয় দাসত্বের জিঞ্জির থেকে অবমুক্তি, তা অবশ্যই সর্বাগ্রে বিবেচ্য বিষয় হতে হবে।
মানুষ নিয়ে ভাবতে গেলে অবশ্যই ভাবতে হবে সেই প্রথম মানুষটিকে নিয়ে। মানুষ আজ বিবদমান; বিশ্বযুদ্ধ, আঞ্চলিক যুদ্ধ, খন্ডকারীন যুদ্ধ, কোল্ডওয়ার, মগফাইট, সীমানায় লেগে থাকা দুই দেশের পাহারাদার সৈনিকদের মধ্যে বারংবার ঘটে যাওয়া খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ, রক্তক্ষয়, প্রাণ বিয়োগ অমানবীয় এ সকল ঘটনাগুলো কি প্রমান করছে না; মানব সমাজ আজ কতোটা ধ্বংসপ্রাপ্ত।
আল্লাহপাক হলেন শৃঙ্খলার আল্লাহ, শান্তির আল্লাহ, যিনি ঘোষণা করেছেন, মানুষের জন্য সুন্দর একটি অধ্যায়; তাঁর সাথে থাকবে মধুময় এক নিবীড় সম্পর্ক, আত্মিয়তা, কেননা, মানুষ হলো তাঁরই সৃষ্ট, স্বীয় প্রতিভু হিসেবে বাছাইকৃত, মানুষকে বলা হয়েছে খোদার সুরতে গড়া খোদার দৃশ্যমান প্রতিনিধি, কেননা তিনি হলেন প্রেম ক্ষমার গুণে পরিপূর্ণ অদৃশ্য এক মহাশক্তি, যিনি গোটা বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন নিজের মনের মাধুরী মিলায়ে, স্বীয় সৃষ্টির প্রতি তাকিয়ে আনন্দ ও প্রত্যয়ের সুরে ঘোষণা করলেন “উত্তম” আর মানুষ দেখে অভিভুত হয়ে বললেন, “আশরাফুল মাখলুকাত” অর্থাৎ যাবতীয় সৃষ্টির মধ্যে মানুষই হলো সর্বোত্তম, কেননা এই মানুষ বহন করবে খোদার গুনাবলী, যা অন্য কোনো সৃষ্টির কাছ থেকে তিনি প্রত্যাশা করেন না; তিনি ঘোষণা দিলেন, (পয়দায়েশ ১ ঃ ২৬–২৮ তুলতে হবে)। আমাদের মত আমাদের সাথে মিল রেখে সবকিছুর উপর কর্তৃত্ত করার অধিকার প্রসংগক্রমে খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের উক্ত একটি বাণী তুলে ধরছি, (মথি ২৮ ঃ ১৮–২০ তুলতে হবে।)
উপরিউক্ত আয়াত সমূহের আলোক পরিষ্কার বুঝতে পারা যায় মানুষই হলো খোদার জীবিত কর্মক্ষম অধিকারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি! মনে রাখবেন, খোদা মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জাতির নামে বজ্জাতি তিনি করেন না। খোদার মহান সৃষ্টির বিষয়ে কোন ভাষাতে আলোচনা করতে চান; বিশ্বে বর্তমানে প্রচলিত রয়েছে অগণিত ভাষা, মোটামুটি একটি হিসেব হলো, সাত হাজারের উর্ধ্বে রয়েছে প্রচলিত ভাষা, আসলে, যতগুলো সাধারণের মুখে রয়েছে প্রচলিত, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত, হিসেবের ক্ষেত্রে, ওগুলোকেই মানুষ গণনা করে থাকে; তবে আরো যে কত ভাষা মানুষ ব্যবহার করে তা অনেকেরই থাকে অজানা। বলুনতো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত নিষিদ্ধ সেন্টিনেন্টাল দ্বীপে বসবাসরত আদিবাসিদের ভাষার নাম কি; আর তা শুনতে বা লিখতে কোন ধরণের বর্ণমালা রয়েছে প্রচলিত? জানেন না, জানার সুযোগও নেই, কেননা উক্ত দ্বীপটি হলো নিষিদ্ধ; ওখানকার লোকজন, বহিবিশ্বের কোনো লোক, আপন করে নিতে চায় না; তারা কারো প্রবেশ হেথা অভিনন্দন করে বিষাক্ত তীর ধনুকের মাধ্যমে। যারাই ওখানে যেতে চেষ্টা করেছে, তারাই বর্ষাবিদ্ধ হয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করেছে। সদাসয় প্রজাবৎসল্য সরকার বাহাদুর তাই সাধারণের জন্য উক্ত দ্বীপটি নিষিদ্ধ দ্বীপ বলে ঘোষণা করেছেন।
পানেয় জল কতটা রয়েছে তা কি আপনি জানেন? সম্ভবত এত গেল ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি নিয়ে আলোচনা। আমার প্রশ্ন; বহুবিধ ভাষার মধ্যে জীবন বাঁচানোর ভাষা অনুযায়ী পানিও থাকবে বহুবিধ! আমরা শ্রেফ আহম্মক! পানি মাত্র একই প্রকার যা হলো খোদার সৃষ্টি, তা সাত ঘাটের জল খাওয়াতে পারেন হাবাগোবা লোকদের, কিন্তু প্রকৃতার্থে যারা জ্ঞানবান, তারা কিন্তু ধরে ফেলবে, আপনার সুন্দর সুন্দর প্রস্তাবনার মধ্যে নিহীত লুপ্ত অভিলাষ! বিশেষ করে জগতের প্রাণীক মানুষের কাছ থেকে পার পেলেও অন্তর্যামী খোদার চোখ এড়াবেন কি করে! তিনি আপনার নির্মাতা, আপনার অগ্রপশ্চাৎ রয়েছে তার জানা ও বলতে অত্যুক্তি হবে না, জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি তথা ক্ষুদে জীবদ্দসার আগে পিছে যাবতীয় বিষয় রয়েছে তার নিয়ন্ত্রনে। তিনি সম্পূর্ণ অব্যয় অক্ষয়, চিরজাগ্রত কল্যাণকর প্রেমের পারাবার। আপনার প্রতি রয়েছেন তিনি নেগাবান। মানুষ কেবল বিশ্বাসহেতু বেঁচে থাকে। কর্মহেতু কেউ ধার্মিক বলে গণ্য হতে পারে না। বিশ্বাসের আদি পিতা হযরত ইব্রাহীম নবী কেবল বিশ্বাসহেতু অর্থাৎ খোদার প্রতিজ্ঞায় নিরঙ্কুষ বিশ্বাস স্থাপনের ফলেই ধার্মিক বলে বিবেচিত হয়েছেন (পয়দায়েশ ১২ ঃ ১–৩)।
বিশ্বাস ছাড়া ধার্মিক হওয়া সম্ভব নয়, আর প্রকৃত বিশ্বাস ব্যতিরেকে খোদাকে সন্তুষ্ট করাও সম্ভব নয় (ইব্রানী ১১:৬ )। আমাদের মূল আলোচনার বিষয় হলো দৃষ্টিভঙ্গি। একই দৃশ্যপট দেখে দুই ব্যক্তির মানসপটে দু’ধরনের ছবি ভেসে ওঠলো; ধান ক্ষেত দেখে কবি ভাবলো ঢেউ খেলানো নদী, বিশাল জলরাশি, আর ক্ষেতের মালিকের ব্যস্ততা বেড়ে গেল সোনালী ধান গোলাজাত করার নিমিত্তে। তাই একই দৃশ্যপট যদি ভিন্ন ভিন্ন মনে ভিন্ন ভিন্ন ধারনার জন্ম দিতে পারে, তবে অদৃশ্য সত্তার বিষয়ে মানুষের মধ্যে নানাবিধ ধারণা, স্বপক্ষ–বিপক্ষ, জন্ম নিবে তা কতইনা স্বাভাবিক। আর খোদার বিষয়ে প্রাঞ্জল ধারণা না থাকার কারণেই যুগে যুগে ধর্ম হয়ে আসছে বিবাদের বস্তু; আবার কারো কাছে বাণিজ্যিক ফলপ্রসু সহজলভ্য পুঁজি। অজ্ঞতাহেতু প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে ধর্মের সেবার অযুহাতে।
আসলে, খোদার জন্য আপনার আছে কি কিছু করার? নন কি তিনি হাইউল কাইউম, চিরজাগ্রত চিরকল্যাণকর অব্যয় অক্ষয় সর্বশক্তিমান রূহানি সত্ত্বা! আর্তপীড়িত দুস্থ জনগোষ্টির জন্য আপনার কিছু করার আছে, আর মাবুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, তেমন অসহায় লোকদের প্রতি যখন আপনি কররেন সাহায্যের হাত প্রসারণ, অমনি সর্বশক্তিমান প্রেম পারাবার হয়ে গেলেন আশাতীত তৃপ্ত আপনার উপর একবার খোদার অনুমোদন লঅভ করতে পারলে যথেষ্ট হয়ে গেল আপনার জন্য। মাবুদ আমার সহায়, মনুষ্য আমার কি করিতে পারে। নবীদের উপর কম অত্যাচার–নির্যাতন চালানো হয় নি; তবুও খোদাভক্ত থাকেন সর্বাবস্থায়। একবার পীড়িত দুস্থ জনগোষ্টির জন্য আপনার কিছু করার আছে, আর মাবুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, তেমন অসহায় লোকদের প্রতি যখন আপনি কররেন সাহায্যের হাত প্রসারণ অমনি সর্বশক্তিমান প্রেম পারাবার হয়ে গেলেন আশাতীত তৃপ্ত আপনার উপর। একবার খোদার অনুমোদন লাভ করতে পারলে, যথেষ্ট হয়ে গেল আপনার জন্য। মাবুদ আমার সহায়, মনুষ্য আমার কি করতে পারে? নবীদের উপর কম অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয় নি; তবুও খোদাভক্ত থাকেন সর্বাবস্থায় স্থির। একটা কথা আছে, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহে ফাহুয়া হাসবুহু অর্থাৎ খোদার উপর নির্ভরতা থাকা ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট।
নানান ভাষায় জলের বর্ণনা দেখে নিরক্ষর ব্যক্তি ধারণা করে নিবে জলের ভিন্নতা নিয়ে। সেই সুবাদে আপনি তাকে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত জলের বর্ণনা গিলাতে পারেন; যেহেতু উৎস ভিন্ন, তাই জলও ভিন্ন হতে পারে। বন্ধু, আপনার অপকৌশলের ফলে নিরক্ষর ব্যক্তি পটে যেতে পারে, তবে প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি আপনাকে প্রশ্ন করে বসবে, ঠিক তখন যদি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন, তবে আপনি পার পেয়ে গেলেন।
ভাষা খোদা নয়; আর ভাষান্তরে খোদার সত্ত্বার কোনো পরিবর্তন ঘটে না, ঘটতে পারে না। ব্যক্তি তার নিজস্ব একগুয়েমি মনোভাব বলবৎ করার জন্য যুক্তির ক্ষেত্রে অর্থবিত্ত ও পেষির বল প্রয়োগ করে আসছে আদমের সেই প্রথম পতনের ক্ষণ থেকে। অভিশপ্ত ইবলিস এসে আদম হাওয়াকে করলো প্রলুব্ধ; কেচ্ছাখতম! পেলব পলি প্রবল চাপ, তাপ, উম্মাদনার কারণে কখন যে শীলায় পরিণত হলো, তা আন্দাজ অনুমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিয়জন কখন যে দুর্জনে পরিণত হলো, সমাধানকল্পে তা খুঁজে ফেরা আবশ্যক। প্রত্যেকটি ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি নিয়ত হচ্ছে হয়রান, সমস্যার মুল কারণ খুঁজতে গিয়ে। সমস্যার সমাধান পেতে হলে, অবশ্যই তার উৎপত্তিস্থল নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করতে হবে।
আপন সুরতে খোদা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান বিশ্বে সাতশত কোটি জনগোষ্টি, সকলেই মানুষ, আর তারা অবশ্যই আদমের ঔরষজাত। কথাটা মেনে নিবেন কিনা জানি না, তবে আমি উক্ত প্রাপ্তধারণা থেকে পিছনে যাবো না। আমি আদম সন্তান, আর আপনাকে আদম সন্তান হিসেবে সম্মাননা দিয়ে আসছি। তা হোক না কেন ভাষার ভিন্নতা, মুল জৈবিক বিষয়ে আমরা সকলেই একই পর্যায়ে পড়ে আছি। ধ্যান–ধারণা, চাওয়া–পাওয়া বিষণ্নতা, স্থান–কাল–পাত্র অবশ্যই ভিন্নতর হয়ে আছে। আমাদের মধ্যে ভাষাভেদ সৃষ্টি হলো সেই আদিযুগে, যার বর্ণনা দেখা যাবে কিতাবুল মোকাদ্দসে পয়দায়েশ ১১অধ্যায়। বিশেষ করে ১১ ঃ ১–৫পদ ক’টি পাঠের অনুরোধ রাখছি।
যে কোনো বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা জন্মাতে সহায়ক একটি অবিকল ফটোকপি। অদৃশ্য খোদা নিজেকে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করলেন কুমারী গর্ভজাত বেগুনাহ মসিহের মাধ্যমে। মানবজাতির জন্য তিনি হলেন একক অদ্বিতীয় দৃষ্টান্ত (কলসীয় ১ : ১৫, ইউহোন্না ৬ : ৪৫–৪৭)। তিনি দাবি করে বলেছেন, আমি পিতার মধ্যে আছি, আর পিতা আমার মধ্যে আছেন… যে আমাকে দেখেছে সে পিতাকেও দেখতে পেয়েছে (ইউহোন্না ১৪ : ৯–১০)।
এবার আলোকপাত করা যাক ঈসা মসিহকে নিয়ে, তাঁর শিক্ষা, কর্মকান্ড, মনমানসিকতা, সাধারণ জনতাকে দেয়া উপদেশ তথা খোদার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা তিনি যেভাবে তুলে ধরেছেন, তেমন নিরঙ্কুষ নির্ভেজাল ধারণা কোনো ব্যক্তির পক্ষে প্রকাশ করা বা প্রদর্শণ করা আদৌ সম্ভব নয়! তিনি হলেন কুমারী গর্ভজাত, খোদার জীবন্ত কর্মক্ষম কালাম ও পাকরূহ, যা আমাদের মধ্যে প্রবেশ করেন মানবদেহে। পুরো রহস্যটি এক্ষেত্রে লুকায়িত! খোদার কালাম ও পাকরূহ মানবদেহে বিরাজমান। তিনি সম্পূর্ণ বেগুনাহ জীবন যাপন করেছেন। গুনাহগার বলে কোনো শত্রুপক্ষই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারে নি। বহুবার তাকে ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করেছে প্রচলিত আইন কানুনের পরিপন্থি বলে। শরীয়তের বিরুদ্ধে তিনি কোনো কথা বলেন নি। একদা ব্যভিচারনী এক মহিলার বিসয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলো, পাথর মেরে তাকে মেরে ফেলা উচিৎ হবে কিনা। কেননা শরীয়তের ব্যবস্থা হলো তা–ই। তিনি দেখলেন শরীয়তের অপব্যবহারের কারণে কত প্রাণ অকালে ঝড়ে পড়ে। বারবার তাকে প্রশ্ন করেই চললো উৎসুক জনতা; তিনি শরীয়তের পক্ষেই থাকলেন, তবে জুড়ে দিলেন একটি শর্ত; আর তা হলো, প্রথম পাথর সেই ব্যক্তি ছুড়ে মারবে, যে হবে সম্পূর্ণ বেগুনাহ। তারপর দেখা গেল জনতার ভীড়ে একটি লোকও খুঁজে পাওয়া গেল না মহিলাকে পাথর ছুড়বার জন্য।
তিনি এসেছেন মানুষের কৃত পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য, হারানো মানিকদের খুঁজে নেবার জন্য। যেমন হারানো মেষ বনে–বাদারে বিপন্ন অবস্থায় পেয়ে বাঘ–শিয়াল তাদের ক্ষুধা নিবারণ করে, যা বড়ই স্বাভাবিক। তবে মেষের রাখাল যদি সাথে সাথে চলেন তবে তেমন ভয় আর থাকে না। মসিহ অবশ্য প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি তাঁর মনোনীত সন্তানদের সাথে সাথে থাকবেন, ফলে কোনো কেন্দুয়া তাঁর পরাক্রান্ত হস্ত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। তিনি পরিষ্কার জানান দিয়েছেন, জীবন করার জন্য আর উপচেপড়া জীবন দেবার জন্য (ইউহোন্না ১০ : ১০)।
মানুষ দোষী, আর তাদের পতন হয়েছে প্রথম মানুষ আদমের থেকে। তিনি হলেন খোদার অবাধ্য, হলেন এদন–কানন থেকে বিতাড়িত। কথাটা শুনে কে যে কি মন্তব্য করে বসবে, তা আমার পক্ষে আঁচ করা বেশ কষ্টকর। তবে সকলেই যে উক্ত আদমের বংশধর তা অবশ্যই স্বীকার করে থাকে। তারপরও কাবিলদের কিছু খুরচা মন্তব্য থেকে যায়। খোদা নিজেই তেমন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। ঐশি দত্ত উপহার বিধান ব্যবস্থা নিয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করে না। করেও লাভ নেই। কেননা খোদার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করলেবন তেমন আদালত খুঁজে পেয়েছেন কি? খোদার পরিকল্পনা হলো মানুষের কল্যাণ আর কল্যাণ। খোদার মনে অকল্যাণের কিছুই নেই মানুষকে নিয়ে। মানুষ তো পরিষ্কার খোদার নয়নের মণিতুল্য, নিজের প্রাণের অধিক রয়েছে প্রেম তাদের প্রতি (যিরিমীয় ২৯ : ১১, ইউহোন্না ৩ : ১৬)।
মসিহ মানুষকে অকৃত্রিমভাবে মহব্বত করেন। মানুষ বিপন্ন নেই তাদের হাতে ধার্মিকতা, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা, নেই কোনো গুনাবলী যার বিনিময়ে তার জীবনের ঘটে যাওয়া অবক্ষয় ঘাটতি পুরণ করে খোদার দাবি–দাওয়া বাস্তবায়ন করতে পারবে। আদমের অবাধ্যতার ফল তাদের বিতাড়ন এবং একপুত্র সহোদরকে খুন করে বসলো, তা দেখে খোদা দুঃখ পেলেন।
মাত্র একজন ব্যক্তির ঔরষ থেকে সকলের জন্ম হবে, ফলে তারা থাকবে স্বজন–প্রিয়জন, প্রেম–সহমর্মীতার বাধনে পরষ্পরকে সাহায্য করবে বন্ধুর পথে চলার জন্য! তা সে কোন শাপে প্রাণের ভায়া উল্টো রথে চড়ে বসলো, আজ তারা অহিনকুল সম্পর্কের অসহায় শিকার। মানুষ আর মানুষের আপন জন থাকলো না, হয়ে দাঁড়ালো অরিন্দম, যে ক্ষেত্রে প্রবণতা হলো, পরষ্পরকে বিনাশ করে তবে হবে রণে ক্ষান্ত!
কে মানুষের চিরদুষমন, যে কিনা ভ্রান্ত মন্ত্রণা দিয়ে ফিরছে খোদার সুমহান পরিকল্পনা বানচাল করে দেবার জন্য। বুঝতে কারো বেগ পাবার কথা নয়। আলেম ফাজেল মুখ খুলেই যে দোয়াটি পাঠ করে উক্ত দোয়ার মধ্যে রহস্যটি রয়েছে লুকানো। “আউজুবিল্লাহ হে মিন আশ শাইতোয়ানের রাজীম।” ক্ষতিকারক শয়তানের দাগা বা আঘাত থেকে বাঁচার জন্য মাবুদের স্মরণাপন্ন হচ্ছে। কথাটা শতভাগ সমর্থনযোগ্য। সর্বাবস্থায় মাবুদ আমাদের সহায়, যুগের শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদের সাথে সাথে থাকবেন, সুরক্ষা করবেন, প্রয়োজন মিটাবেন, যেমন মেষের রাখাল তার মেষপাল পরিচালনা করে থাকে। যেমন দাউদ নবী তার গানে লিখেছেন, আল যবুর সদাপ্রভু আমার পালক… (আল–যবুর ২৩)।
একজবন বিশ্বাসি বিশ্বটিকে অবলোকন করে তার বিশ্বাসের চোখ দিয়ে। আবার যার চোখ অদ্যাবধি রয়েছে অন্ধ, তার উপায় কি হতে পারে? তাকে অবশ্যই অন্ধ বরতিমাউসের মত মসিহের কাছে আর্জি জানাতে হবে চোখ খুলে দেবার জন্য; যেন এক কালের অন্ধ সবকিছু অবলোক করার ফলে খোদার শুকরিয়া আদায় করে। মাবুদ মেহেরবান। সার্বক্ষণিক, সকলের প্রতি। গুনাহগার যেন আর তেমন পূর্বের অন্ধকারের জীবন যাপন না করে, সেজন্যই তিনি তাদের তাগিদ দিয়ে ফিরছেন অনবরত। নাজাত প্রাপ্ত ব্যক্তিদের তিনি ফেলে দেন না, ঈমানদারদের হৃদয়ে সর্বক্ষণ বসবাস করার জন্য এক সহায় প্রেরণ করেছেন, যিনি হলেন সত্যের আত্মা, মানুষের কল্যাণ সাধন করে চলা উক্ত পাকরূহের কর্তব্য।
আমাদের আলোচনার এক পর্যায়ে প্রসংগ উঠেছে, অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিনিধি নিয়ে; যাকে দেখার মাধ্যমে আমাদের মানসপটে পরিষ্কার ধারণা জন্মাবে সেই অদেখা মাবুদের বিষয়ে; যার বিষয় আজন্ম শুনে এসেছি, খোদা মহব্বত ও ক্ষমার পারাবার। যে কেউ উক্ত পারাবারে ডুব দেয়, তিনি সম্পূর্ণ ¯œাতশুভ্র ক্লেদকালিমামুক্ত হয়ে ওঠেন।
মসিহ অবশ্য নিজেকে দুনিয়ার নূর হিসেবে দাবি করেছেন, আর তাঁর এমন দাবিটি সম্পূর্ণ সত্য নির্ভরযোগ্য অকাট্ট বলে প্রমাণীত। তিনি হলেন শতভাগ পূতপবিত্র, আর তাঁর আবির্ভাব ঘটেছে অন্ধকারে গুমড়ে মরা অসহায় ব্যক্তিদের নাজাত করার জন্য; অবশ্য জগতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ দিতে গিয়ে তাঁকেই দিতে হয়েছে এক চূড়ান্ত মূল্য। আপনি জানেন কি প্রেমের তাগিদে তাকে কতবড় মূল দিতে হয়েছে। তিনি তাঁর পূতপবিত্র জীবন করেছেন কোরবান।
তাঁর মুখে কোনো ছলনার আভাস ছিল না! অন্যকে তিনি যে সকল শিক্ষা দিয়েছেন তা নিজের জীবনে শতভাগ করেছেন বাস্তবায়ন। খোদার প্রেম ও পবিত্রতার জ¦লন্ত প্রতীক হলেন তিনি। মানুষকে ভালবেসেছেন, তাদের পাপ অপরাধ ক্ষমা করেছেন, মন্দ পথ থেকে তাদের ফিরিয়ে এনেছেন, করেছেন সত্যানুরাগী। যারাই তাঁকে বিশ্বাস করেছে, তাদের জীবন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তিনি মুখের কথায় সুস্থ করে তুলেছেন, মৃতকে পর্যন্ত জীবিত করে তুলেছেন। এক কথায় অদৃশ্য খোদার সার্বিক ক্ষমতা ও গুণাবলী তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন অবলিলাক্রমে।
বর্তমান বিশ্বেঅনেকেই খোদার বিষয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন, তবে নিজেদের জীবনে তেমন শিক্ষার প্রভাব পড়তে দেখা যায় না। মসিহ হলেন মানবরূপী পাকরূহ ও জীবন্ত কর্মক্ষম খোদার কালাম। প্রথমেই কালাম ছিলেন, কালাম খোদার সাথে ছিলেন এবং কালাম নিজেই খোদা ছিলেন। উক্ত কালাম মানুষ হয়ে জন্ম নিলেন (ইউহোন্না ১ : ১–১৮)।
সর্বোপুরি আলোচনার বিষয় হলো খোদার এবাদত বন্দেগী নিয়ে। খোদা বলেছেন, তিনি পবিত্র বলে আমাদেরও পবিত্র হতে হবে, নতুবা তাঁর সাথে সহভাগীতা লাভ করব কি করে? তাছাড়া খোদা হলেন রূহ ও সত্য, সে সুবাদে খোদার বন্দেগী অবশ্যই হতে হবে রূহানিভাবে ও সত্যনিষ্টভাবে (ইউহোন্না ৪ : ২৪ লেবীয় ১১ : ৪৪)।
তাছাড়া তিনি যেমন শততঃ থাকেন জাগ্রত, তার সাথে সংযোগসেতু অবশ্যই থাকতে হবে শততঃ নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্যকর। মানুষের জীবন হলো অবিচ্ছেদ্য, মানুষের হৃদপিন্ড সবসময় থাকে চালু। ফুসফুস সবসময় অক্সিজেন টেনে নিয়ে শরীরের শিরা উপশিরার মধ্যে প্রবাহিত করে থাকে, কোনোভাবেই ব্যাত্যয় ঘটে না। এ প্রক্রিয়াটি অবশ্য শুরু হয় মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় আর বিরতি ঘটে মৃত্যুর সাথে সাথে।
ব্যক্তির সাথে খোদার নিবীড় সম্পর্ক অবশ্যই সার্বক্ষণিক, কোনো ছে¦দ দেয়া চলবে না। ছেদ দিতে গিয়ে আদম জাতির অবস্থা নাস্তানাবুদ হয়েছে। ভাই ভাইকে হত্যা করা অবশ্যই অভিশপ্ত ইবলিসের ব্রত; মানুষ আজ ইবলিসের কব্জাগত। সে চরমভাবে পরাভুত, পদানস্থ, অসহায়, নিরুপায় আজরির চিহ্ন গোটা শরীরে পরিষ্কার দৃষ্ট হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তিরহিত, স্বজন–প্রিয়জন কাউকে চিনতে পারছেনা। পরষ্পর হয়ে দাঁড়িয়েছে অহিনকুল অবস্থা।
প্রেমিক পরাক্রান্ত পিতা আপন সন্তানদের এভাবে ভাগাড়ে পড়ে থাকতে দেখে দারুনভাবে মর্মাহত। তিনি আসু ব্যবস্থা নিলেন, পারঙ্গম উদ্ধারকারী প্রেরণের বিষয়ে। সকল মানুষ পতীত, আদমের কলুষিত বীর্যস্খলিত; পাপের প্রবণতা ছুটে বেড়াচ্ছে সকলের ধমনিতে। কোনো কলুষিত মেষের কোরবানী কলুষতা দূর করার ক্ষমতা আদৌ রাখে না। কোরবানির মেষ অবশ্যই হতে হবে নিখুঁত। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ হলেন ঐশি মেষ, সম্পূর্ণ পূত পবিত্র, যিনি রাজী হলেন গুনাহগারদের গুনাহের বোঝা নিজের স্কন্ধে তুলে নিতে, আর বিকল্প কোরবানি হিসেবে নিজেকে কোরবানি দিতে, যেন তাঁর মৃত্যুর বিনিময়ে বিশ্ববাসি হতে পারে মুক্তপাপ, খোদার সাথে পুণর্মিলনের অপার সুযোগ লাভ করতে হয়সক্ষম।
খোদার এবাদত অবশ্যই হতে হবে রূহে ও সত্যে। দৈহিক অঙ্গভঙ্গী এক্ষেত্রে সংজোযন ছাড়া আর কি হতে পারে। যেহেতু তিনি হলেন অন্তর্যামী এক পরম সত্ত্বা, মানুষের হৃদয়ের গভীরের আন্দোলন পর্যন্ত তিনি দেখতে পান; তাছাড়া খোদার পাক দরবারে হাজিরা দিতে; চন্দ্র–সূর্য–গ্রহ–নক্ষত্রের গতিবিধিতে মানুষের আবর্তীত হবার কোনোই কারণ থাকতে পারে না, আর জানেনইতো একজন ঈমানদার ভক্তের হৃদয় হলো খোদার নিবাস, তিনি কি প্রশ্ন করেন নাই, কতবড় ঘর আমার জন্য তৈরি করবে, আসমান আমার সিংহাসন আর জমীন হলো পা রাখার পাদানী। তিনি শততঃ জেগে থাকেন, ঘুমে ঢুলেও পড়েন না তিনি। তাঁর সাথে নিবীড় সম্পর্ক স্থাপন করার একমাত্র উপায় হৃদয়গত, যাকে বলা চলে হার্ট টু হার্ট (Heart to Heart), তাকে ডাকার জন্য অথবা পাওয়ার জন্য বিশেষ কোনো দিন বা লগ্নের প্রয়োজন পাড়ে না, বিশ্বাসীদের জন্য লগ্নভ্রষ্ট বলে কিছু নেই। ভক্তের হৃদয় জুড়ে হলো তাঁর বসতী। আমার একটি গানের একটি কলি তুলে ধরি– “শততঃ প্রার্থনা, যোগায় মোরে আলোর কণা, ফল পেয়েছি শুভ ফল, দূর হয়েছে বিড়ম্বনা।”
আপনার কি জানা আছে, খোদার কাছে হাজিরা দেবার ক্ষণলগ্ন কে সৃষ্টি করে রেখেছে? তাছাড়া খোদার মনপুত ভাষা কোনটি; সে খবর আপনি রাখেন কি? তার ভাষা হলো প্রেমভক্তি, যার মধ্যে প্রেমভক্তি জন্ম নিয়েছে, খোদা থেকেই তার জন্ম হয়েছে। খোদা নিজেই প্রেম আর যিনি প্রেমে বাস করেন, তিনি খোদার হৃদয়জুড়ে সদাসর্বদা অবস্থান করেন।
খোদার কালাম কখনোই ব্যবসার পুজি হতে পারে না (ইউহোন্না ২ : ১৬)। আর সংক্ষেপে বলা চলে, খোদা যেমন প্রেম ও পবিত্র, মানুষকেও তদ্রুপ প্রেম–পূর্ণ পবিত্র জীবন যাপন করতে হবে; যা হলো খোদার একমাত্র কাম্য। তিনি তো তেমনভাবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন (পয়দায়েশ ১ : ২৬–২৮)।
আসুন, সত্য ও নূরে পরিপূর্ণ হয়ে খোদার গৌরব বর্ধন করে চলি। খোদার কাছে যুক্ত হতে হবে ব্যীক্তগতভাবে; যা দলগতভাবে করা সম্ভব নয়। কেননা ব্যক্তিকে স্বীকার করতে হবে, খোদার প্রয়োজনীয়তার কথা, ব্যক্তি যে ইতোমধ্যে পাপের অতলে ডুবে গেছে, তা অন্তরে অন্তরে স্বীকার করতে হবে। তাকে জানতেও হবে, কে ক্ষমতা রাখেন এবং কে স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মুল্যে তাকে ক্রয় করে নিলেন, কে রয়েছে তার হৃদয়দ্বার জুড়ে নিয়ত করাঘাত করে চলছেন, পাপাক্রান্ত বেহুস বুদ হয়ে থাকা ব্যক্তির হৃদয়প্রান্তে। খোদার ডাকে সাড়া দিতে হবে কেবলমাত্র ব্যক্তিকেই, যেমন বৈবাহিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেই কবুল বলতে হয়, কাবুল বলা যাবে না, ওটা আফগানিস্তানের রাজধানী।
ডাক্তারদের সমিতিতে প্রত্যেকটি সদস্যের অবশ্যই ডাক্তার হতে হবে, এমন কি কম্পাউন্ডারের সুযোগ তেমন সমিমিতে থাকে না। ঈমানদারদের জামাতে অবশ্যই ঈমানদার ব্যক্তিবর্গের সমন্বয় ঘটাতে হবে। মসিহিদের সমিতিতে কে কে সদস্যপদ লাভ করতে পারবে, একটু ভেবে দেখুন!
মসিহ এসেছেন গুনাহগারদের স্নাতশুভ্র করে দিতে। কোনো বাহ্যিক নামধাম, পোশাক পরিচ্ছদ, খানাদানা, কৃষ্টিকালচার পরিবর্তন করার তাঁর প্রয়োজন নেই। ওয়াসিং মেশিন নোংরা কাপড় পরিষ্কার ব্যবহারের উপযোগী করে দেয়, অন্য কিছু নয়, যেন উক্ত পোশাকটি পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব হয়। যা কিছু হারিয়ে গেছে তা খুঁজে পেতে মনুষ্যপুত্র ধরাপৃষ্টে আবির্ভুত হয়েছেন (লুক ১৯ : ১০)।


