ম্যাচজুড়ে ছিল গোল, পাল্টা আক্রমণ আর উত্তেজনা। তবে শেষ বাঁশির আগে যে দৃশ্য দেখা গেল, সেটি ফুটবল ম্যাচের চেনা চিত্রকে ছাড়িয়ে হয়ে উঠল রীতিমতো হাতাহাতি। ইন্টার মিয়ামি ও ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের লড়াই শেষ পর্যন্ত ২–২ গোলে অমীমাংসিত থাকলেও ম্যাচের শেষ মুহূতেৃর উত্তেজনা ছাপিয়ে গেছে বাকি সবকিছুকে। মিয়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার ক্যাভিন সুলিভানকে দেখতে হয়েছে লাল কার্ড। এর আগে অবশ্য মিয়ামিকে এগিয়ে দিতে গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফিলাডেলফিয়া। ম্যাচের ১১ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের গোলে এগিয়ে যায় তারা। ক্যাভিন সুলিভানের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে ছুটে উঠে ফ্রাঙ্কি ওয়েস্টফিল্ড বক্সে দারুণ ক্রস করেন। সেই ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ভাসিলেভ। তবে ১০ মিনিট পরই সমতায় ফেরে মিয়ামি। বক্সের বাইরে থেকে মেসির চমৎকার লব পাস গিয়ে পৌঁছায় লুইস সুয়ারেজের কাছে। সুয়ারেজের মাথা ছুঁয়ে আসা বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান ড্যানিয়েল পিন্টার। এর পাঁচ মিনিট পরই মিয়ামিকে এগিয়ে দেন মেসি। ইয়ান ফ্রের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ফিলাডেলফিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন তারকা।
আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিসের হতাশা পেছনে ফেলে এদিন মেসি নিজেও খুঁজে পান স্বস্তি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফিলাডেলফিয়া। ৫৮ মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে ফ্রি–কিক পায় তারা। মিলান ইলস্কির নেওয়া দারুণ বল থেকে হেড করে গোল করে নিল পিয়ের সমতা ফেরান। চার মিনিট পর ইলস্কি নিজেই ফিলাডেলফিয়ার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেছিলেন। কিন্তু ভিডিও রিপ্লে দেখে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এরপর একের পর এক সুযোগ পেয়েও জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি ফিলাডেলফিয়া। ৭১ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও ইলস্কি তার গায়ে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। সাত মিনিট পর তার পাস থেকে কেভিন সুলিভানের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় আরও ৯ মিনিট। কিন্তু সেই সময়ও পেরিয়ে যাওয়ার পর ঘটে নাটকীয় ঘটনা। মিয়ামির বক্সে একটি চ্যালেঞ্জে পড়ে যান বদলি হিসেবে নামা কুইন সুলিভান। উঠে দাঁড়ানোর সময় মিয়ামির ইয়ান ফ্রে তার সঙ্গে বিবাদে জড়ান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কুইন ফ্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে দুই দলের খেলোয়াড়েরা ছুটে আসেন। এ সময় ব্রাইট কুইনকে টেনে সরানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাটি দেখে ছুটে আসেন কুইনের ছোট ভাই ক্যাভিন সুলিভান। ব্রাইটের সঙ্গে তার হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। একপর্যায়ে সতীর্থরা দুজনকে আলাদা করেন। পরে রেফারি ব্রাইট ও ক্যাভিন–দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
কুইন সুলিভান দেখেন হলুদ কার্ড। এর কিছুক্ষণ পরই শেষ বাঁশি বাজে। ম্যাচের এই উত্তপ্ত সমাপ্তির সঙ্গে বাংলাদেশেরও একটি বিশেষ যোগসূত্র আছে। কেভিন ও কুইন সুলিভানের নানি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি সুলতানা আলম। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সী ক্যাভিনকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালে মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এমএলএসে অভিষেক করে রেকর্ড গড়েন কেভিন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রধান পেশাদার ক্রীড়া লিগগুলোর মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে অভিষিক্ত খেলোয়াড়। ১৮ বছর বয়সে তার ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার কথা। গত মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল ক্যাভিনের। তার বড় ভাই ২২ বছর বয়সী কুইন ২০২১ সাল থেকে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে খেলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অন্য দুই ভাই রোনান ও ডেক্লান সুলিভানের ইচ্ছা বাংলাদেশের হয়ে জাতীয় দলে খেলা। এরই মধ্যে রোনান বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–২০ দলের হয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নজর কেড়েছেন। ফলে সুলিভান পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের সম্পর্কও দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।


