মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট কাটাতে এরই মধ্যে সরকারের জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাজ্য থেকে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ত্রুটি সারাতে কাজ শুরু করেছে। তবে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি। গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকবার দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাসের আওতাভুক্ত সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগতে হবে।
এর আগে শনিবার পেট্রোবাংলা আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ কারিগরি ত্রুটি সারাতে দেশি ও বিদেশি টেকনিক্যাল টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। দ্রুত এ কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এ কারিগরি ত্রুটির জন্য তিতাস গ্যাসের আওতাধীন আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজিসহ সব শ্রেণির গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এফএসআরইউ–তে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমেছে।
এতে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ এমএমসিএফডি থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৭০ এমএমসিএফডিতে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি। বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এগুলো থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ করা হয়, যা মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭ শতাংশ। বর্তমানে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জানা যায়, শর্টসার্কিটের কারণে সৃষ্ট আগুনে টার্মিনালে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনাল চালুর তাগিদ দেওয়া হলেও এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ এখনো নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি। আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।



