নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। শীর্ষ সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়ে জোর দিয়ে বলছেন, বিক্ষোভ প্রত্যাহারের জন্য ৫৭ বছর বয়সী এই মন্ত্রীর পদত্যাগ অত্যাবশ্যক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সরকারি সূত্র এনডিটিভি–কে বলেন, ‘জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট (রায়) দিয়েছে এবং আমরা কাজ করে দেখাব।’ সূত্রটি আরও যোগ করে, ‘সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সমস্যাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করছে এবং এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।
প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত অনেক চক্রকে আমরা ধরেছি। আরও ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে, যার ফলে বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করে। এই আন্দোলনকে বিরোধী দলগুলোও সমর্থন দিয়েছে। এদিকে ওড়িশার নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান এক্স–এ সক্রিয় রয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর গভীর রাতের একটি ভিডিও পুনরায় শেয়ার করেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে ‘প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা’ আসতে যাচ্ছে।বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে সংসদের দিকে পদযাত্রা করার দুদিন পর ২২ জুলাই মন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীদের নিয়ে হওয়া এক সম্মেলনে ভাষণ দেন। ২৩ জুন এনডিটিভি–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী সিজেপি–কে ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর বি–টিম’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
জুনে এনডিটিভি–কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধান বলেছিলেন, ‘তারা হলো বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর বি–টিম। গণতন্ত্রে যারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারা ছদ্মবেশে এসেছে এবং এখন সিস্টেমের পেছনে লেগেছে। যারা দেশকে বিভক্ত করতে চায়, তারা তাদের জন্য স্লোগান দেয়। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) হলো ভারতের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, যেখানে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পেতে পরীক্ষায় বসেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর মে মাসে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। এরপর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।



