ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। উল্টো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার মার্কিন হুমকির কড়া জবাব দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, এই ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন আগ্রাসনের’ জন্য ট্রাম্পকে আরও চরম মূল্য চোকাতে হবে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটির বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অমীমাংসিত রেখে এমন কোনো সাময়িক চুক্তিতে তেহরান বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। এই প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি ইরান সফর করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদি।
সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান আলোচক বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর কোনো অভাব নেই। মূল সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক, লোভী ও নিয়ন্ত্রণকামী দৃষ্টিভঙ্গি। শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, মার্কিন প্রশাসন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে শুধু ২০২৮ সালের দিকে চোখ রাখছে।
তাদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আগ্রাসনের ফলে চুক্তি করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এর আগে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, রেললাইন, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরে বোমা হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি তেহরানে নতুন করে হামলা চালান, তবে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।



