গতকাল ছিল তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ২০০৯ সালের ২২ জুলাই, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর সময়সীমা খুবই কম থাকত, কোনো কোনো ছবিতে একটি দৃশ্য বা একটি সংলাপ– ব্যস..। ‘খায়রুন সুন্দরী’ চলচ্চিত্রের ‘খায়রুন লো’ গানটির এই অংশে প্রথমেই বড়পর্দায় যে মুখটি ভেসে ওঠে তিনি হলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অতি পরিচিত মুখ অভিনেতা করিম চাচা। প্রায় ৫ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও ছোটখাটো রোল করতেন বলে তাঁকে হয়তো বড় তারকাদের মতো কেউ মনে রাখেননি। তবুও এত সংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেছেন যে, দর্শকদের কাছে তিনি খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন।
আমরা হয়তো এ ধরনের অভিনেতাদের শিল্পী বলে বিবেচিত করি না বা মরে যাওয়ার পর মনে রাখার চেষ্টাও করি না। তবুও চলচ্চিত্রের মানুষের কাছে অতি প্রিয় ‘করিম চাচা’ বলে খ্যাত, আবদুল করিম খানের অভিনীত মুখ বিভিন্ন সিনেমার পর্দায় যখন ভেসে উঠবে, তখন তিনি তাঁর অস্তিত্ব জানান দেবেন, আমিও ছিলাম চলচ্চিত্রের একজন। সত্তরের দশকে চলচ্চিত্রের অভিনয়ে আসেন তিনি। ৫ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও আর্থিক সচ্ছলতা পাননি তিনি। কারণ একদিকে স্বল্প পারিশ্রমিক অন্যদিকে কাজ করিয়ে নির্মাতারা টাকা–পয়সা প্রায় দিতেন না। তারপরও অভিনয়কে ভালোবাসতেন বলে অভাব–অনটনের মাঝেও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রতিদিন সাভার থেকে ছুটে আসতেন এফডিসিতে। এমনও দিন গেছে পরিবার নিয়ে অনাহারে–অর্ধাহারে দিন কেটেছে তাঁর। নির্মম হলেও সত্য, করিম চাচাদের মতো শিল্পীদের দেখারও কেউ নেই। তাঁদের কেউ মনেও রাখে না।



