কাঠগোলাপ আমাদের চেনা ফুল, যা গুলাচি, কাঠচাম্পা, গোলকচাঁপা, গৌরচাম্পা, গুলঞ্চ নামেও পরিচিত। এটি মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপ এলাকার উদ্ভিদ। এশিয়ার নানান দেশে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে আগমন ঘটেছে। বাংলাদেশের মূলত শহর এলাকায় রোপণ করা হয়েছে। বিশেষ করে শহরের পার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। রাজশাহী নগরীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে ২০১২ সালে প্রায় ২০০ কাঠগোলাপের গাছ লাগানো হয়। সড়ক বিভাজকের গাছগুলো ইতোমধ্যে শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে নগরবাসীর নজর কাড়ছে। ৫–৬ বছর থেকেই এই গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। এবার ফুল এসেছে সবচেয়ে বেশি। রাজশাহী নগরীর গ্রেটার রোড দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় কেউ এই সৌন্দর্যের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারবেন না।
আষাঢ় মাসের প্রথম দিন থেকেই রাজশাহী শহরে দিনের কোনো না কোনো সময় বৃষ্টি হচ্ছেই। এত দিন এই গাছের ঘন সবুজ পাতা ধুলায় ধূসর হয়ে থাকত। এখন বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পাতার সবুজ রংটা যেন আরও উজ্জ্বল, আরও প্রাণপ্রাচুর্যের সম্ভার হয়ে উঠেছে। রাজশাহী শহরে বেড়ে ওঠা উম্মে সালমা বলেন, ‘কাঠগোলাপ আমাদের অতি চেনা একটি গাছ। শহরে এত কাঠগোলাপ ফুটে আছে যে, গ্রেটার রোড দিয়ে যাওয়ার সময় মুগ্ধ না হয়ে পারাই যায় না।’ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ–উল–ইসলাম জানান, নগরীর দুটি সড়কে প্রায় ৬০০ গাছ লাগানো হয়েছে। প্রায় সারা বছরই এই গাছে ফুল থাকে। বড় বড় পাতাগুলো সবুজ। শুধু শীতে পাতা ঝরার সময় ছাড়া সব সময়ই গাছগুলো শহরে সবুজ মায়া তৈরি করে রাখে।



