ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এক বিতর্কে সরগরম ছিল বিশ্বকাপ। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হওয়া মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। শেষ পর্যন্ত শাস্তি স্থগিত হওয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শুরুর একাদশেও জায়গা পান বালোগান। তবে এত কিছুর পরও মাঠের লড়াইয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোল আর মার্কিন রক্ষণভাগের একের পর এক ভুলে স্বাগতিকদের ৪–১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। ঘরের মাঠে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রেড ডেভিলদের সামনে সেই স্বপ্ন টিকল না।
কোয়ার্টার ফাইনালে এবার বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বেলজিয়াম। মাত্র নবম মিনিটে বক্সের ভেতর বল পেয়ে সহজ ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন চার্লস ডি কেটেলার। ৩১ মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মালিক টিলম্যানের নেওয়া ফ্রি–কিক প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট। ৩৪তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলার। ২–১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৪তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। বল ক্লিয়ার করতে অনেক দূর বেরিয়ে আসেন মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। কিন্তু বলের নাগালই পাননি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাক্সিম ডি কুইপার বল বাড়ান হান্স ফানাকানের কাছে। তার শট গোললাইন থেকে সহজেই ঠেকিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল ডিফেন্ডার টিম রিমের। কিন্তু তিনিও বল মিস করলে অনায়াসেই জালে ঢুকে যায় বল। রক্ষণভাগের এই অবিশ্বাস্য ভুলে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে শেষ আঘাতটি হানেন রোমেলু লুকাকু। বক্সের ভেতর বল পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৪–১ করেন এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। মাঠের বাইরে যত বিতর্কই থাকুক, মাঠের ফুটবলে ছিল বেলজিয়ামের একচ্ছত্র আধিপত্য। হোয়াইট হাউসের তদবিরে বালোগানকে দলে ফেরানো গেলেও রক্ষণভাগের ভুল আর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে ঘরের মাঠ থেকেই বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হলো যুক্তরাষ্ট্রকে।



