গ্রীষ্মের বিরল পরিযায়ী পাখি পান্না কোকিল। পান্না পাপিয়া, শ্যামা পাপিয়া, শ্যামা পাপিয়া কোকিল বা এশীয় সবুজাভ কোকিল নামেও পরিচিত। এরা কোকিল পরিবারের এক প্রজাতির সবুজ পাখি। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের দেশে আসে। জুলাইয়ের শেষে চলে যায়। এদের দেখা পাওয়া বিরল। এরা চিরসবুজ বনের পাখি। ইংরেজি নাম Asian Emerald Cuckoo আর বৈজ্ঞানিক নাম Chrysococcyx maculatus. আইইউসিএনের তালিকায় এ প্রজাতিটি ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত। হিমালয়ের গাড় ওয়ারের পূর্বাঞ্চল থেকে নেপাল, আসাম, মণিপুর, দক্ষিণ–পূর্ব তিব্বত, দক্ষিণ চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও মধ্য ভিয়েতনাম এদের মূল আবাস। এরা গ্রীষ্মে বাংলাদেশ, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, মালয় উপদ্বীপ ও সুমাত্রায়া পরিযায়ী হয়। সম্প্রতি হবিগঞ্জের সাতছড়ি বন থেকে এ বিরল পাখির ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার রাশেদ খান। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার। স্ত্রী ও পুরুষের রঙে ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষের পিঠের ওপর চকচকে পান্না–সবুজ, তাতে রয়েছে সোনালি–ব্রোঞ্জ আভা। থুঁতনি, গলা ও বুকেও একই রং। পেটের নিচ সাদা, তার ওপর ধাতব ব্রোঞ্জ–সবুজ ডোরা রয়েছে। লেজের নিচ ধাতব সবুজ, তাতে সাদা ডোরা রয়েছে। স্ত্রীর মাথা ও ঘাড়ের পেছন সোনালি লাল। পিঠের পালকের ব্রোঞ্জ–সবুজ। লেজ খয়েরি–কালো ডোরা, তাতে রয়েছে ডগা সাদা। চোখ ও চোখের পাতা গাঢ় লাল। ঠোঁট কমলা–হলুদ, আগা কালো। অপ্রাপ্ত বয়সে সব পান্না কোকিল দেখতে স্ত্রী পাখির মতোই। কেবল কাঁধ–ঢাকনি ও ডানায় লালচে–কমলা ডোরা থাকে। মাথার চাঁদিতেও ডোরা দেখা যায়। এরা সাধারণত পিঁপড়া, শুঁয়োপোকা, ছারপোকা ও নরম পোকামাকড় খেতে থাকে।


