গ্রামবাংলায় এখনো এমন অনেক বিশ্বাস টিকে আছে, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তেমনই একটি প্রচলিত ধারণা–তেঁতুল গাছের ডাল কাটলে নাকি অমঙ্গল হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কেউ ভয় পান অশরীরী আতঙ্কে। রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান তেঁতুলতলা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে একটি রহস্যঘেরা প্রাচীন তেঁতুল গাছ। স্থানীয়দের দাবি, গাছটির বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি। তবে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের কেউই এর প্রকৃত বয়স নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গাছটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা অলৌকিক গল্প, বিশ্বাস ও জনশ্রুতি। হরিয়ান তেঁতুলতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা চারদিকে বিস্তৃত হয়ে আশপাশের দোকানঘরের ভিতর দিয়েও চলে গেছে। কিন্তু ডালপালা ঘরের ভিতরে ঢুকে থাকলেও কেউ তা কাটতে সাহস পান না। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই গাছের ডাল কাটলে অমঙ্গল নেমে আসে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা সামশুল ইসলাম জানান, ছোটকাল থেকেই তিনি গাছটিকে এভাবেই দেখে আসছেন। মানুষের মুখে শুনেছেন, যারা গাছের ডাল কাটার চেষ্টা করেছেন, তারা নানা বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বলেন, একবার রাস্তার দিকে ডাল বের হয়ে থাকায় কয়েকজন মিলে সেই ডাল কাটতে গিয়েছিলেন। পরে শুনলাম তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজনের মুখ দিয়ে রক্তও বের হয়েছিল। এরপর থেকে মানুষ আরও ভয় পেতে শুরু করে। স্থানীয়দের অনেকে জানান, গাছটির নিচে মানুষ মানত করে, দোয়া পড়ে এবং রোগব্যাধি থেকে মুক্তির আশায় অনেক কিছু বেঁধে রাখে। কেউ কেউ আবার গাছটিকে অলৌকিক শক্তির অধিকারী বলেও মনে করেন। একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাগর মণ্ডল বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি ও শুনেছি, এই গাছকে ঘিরে অনেক রহস্যময় ঘটনার কথা মানুষ বলে। কখনো কখনো হঠাৎ বৃষ্টির মতো পানি পড়তে দেখা যায়। আবার অনেকে দাবি করেন, তারা সাদা দাঁড়িওয়ালা এক বৃদ্ধের মতো কাউকে দেখেছেন। কেউ কেউ বলেন, গাছের এক ডাল থেকে আরেক ডালে যেন কোনো অদৃশ্য উপস্থিতি চলাফেরা করে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, গাছ থেকে স্বাভাবিকভাবে তেঁতুল পাড়লে কোনো সমস্যা হয় না। গ্রামের মানুষ সেই তেঁতুল খায়ও। তবে গাছের ডাল কাটা বা গাছের ক্ষতি করাকে সবাই ভয় পান। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে প্রশাসনের লোকজন গাছটি পরিদর্শনে এলেও কেউ এটি কাটার উদ্যোগ নেননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছটি গ্রামটির এক ধরনের ঐতিহ্য ও রহস্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রাচীন এ তেঁতুল গাছকে ঘিরে রহস্য, লোকবিশ্বাস ও ভয়–সব মিলিয়ে হরিয়ান তেঁতুলতলা গ্রাম এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গ্রামবাসী এখনো বিশ্বাস করে এই গাছটিতে জ্বিন বসবাস করে



