তাইজুল ইসলামের বলে উড়িয়ে মারতে গেলেন খুররম শাহজাদ। কেউ একজন চিৎকার করে বললেন, ‘ক্যাচ তামিম ক্যাচ… আছে… আছে…।’ মানে, ‘বল সীমানার ভেতরই আছে’, ক্যাচের সুযোগ ‘আছে’। লং অনের ফিল্ডার তানজিদ হাসান তামিম বাউন্ডারি লাইনে এসে ঠিকই ক্যাচটি নিলেন। নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের জয়। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে উল্লাসে মাতল লাল–সবুজের দল। গতকাল সিলেট টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ জিতল ২–০ ব্যবধানে। প্রথম টেস্টে তারা জিতেছিল শতরানের বেশি ব্যবধানে। এই নিয়ে টানা দুইবার টেস্টে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় কোন টেস্ট দল যারা পাকিস্তানকে টানা দুইবার হোয়াইটওয়াশ করল। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়েছিলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম টানা চারটি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। এই সিরিজের আগে তারা গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জিতেছিল। এক জায়গায় বাংলাদেশ একমাত্র। পাকিস্তানকে হোম ও অ্যাওয়েতে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করা একমাত্র দল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে পাকিস্তানকে টানা চার সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বার কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতল টানা চার টেস্ট।
এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জেতার নজির ছিলো (২০১৩–১৪)। এই জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে টেবিলের পাঁচে উঠে এলো বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অনেক খেলা বাকি থাকলেও আপাতত ইংল্যান্ড, ভারতের উপরে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। বড় জয়ের আভাস ছিলো আগের দিন থেকেই। বৃষ্টিতে ১৫ মিনিট বিলম্বে শুরু হওয়া শেষ দিনের খেলায় বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়াচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান, বাড়ছিলো হতাশাও। প্রথম ঘন্টার বিরতির পর বদলে গেল সব। শরীরী ভাষায় বারুদ নিয়ে দ্রুতই মুড়ে দিল প্রতিপক্ষকে। ৪৩৭ রানের রেকর্ড তাড়ায় পাকিস্তান থামল ৩৫৮ রানে। দিনের প্রথম ঘন্টা চরম হতাশার। আলগা বলে বেছ কিছু রান বেরিয়ে গেল, হাতছাড়া হলো সুযোগ। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের চিন্তা বাড়াচ্ছিলেন সাজিদ খান। শেষ পর্যন্ত পানি পানের বিরতিটা কাজে লাগল খুব, নেতিয়ে পড়া মানসিকতা থেকে জেগে উঠল গোটা দল। বিরতির পর ফিরেই তাইজুল সাজিদকে আউট করে পান নিজের পঞ্চম উইকেট। ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে নেমে আরও ৪২ রান যোগ করেন রিজওয়ান–সাজিদ।
৮ম উইকেট জুটিতে ৫৪ আনার পর সাফল্য আনেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার। তার বলে সিøপে ক্যাচ ধরেন অধিনায়ক শান্ত। পরের ওভারেই রিজওয়ানের কাঁটা দূর করেন শরিফুল। সেঞ্চুরির কাছে থাকা পাকিস্তানের কিপার ব্যাটার গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে জমা পড়তে উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ। বাকিটা ছিলো ¯্রফে সময়ের ব্যাপার। তাইজুল ৬ উইকেট নিয়ে মুড়ে দেন সফরকারীদের ইনিংস। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে এই নিয়ে টানা পাঁচটি টেস্ট জিতল বাংলাদেশ, যা তাদের সবচেয়ে ধারাবাহিক সাফল্য। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর পর, অনেক বছর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশ দল অবশেষে যেন সাফল্যের পথ খুঁজে পেয়েছে।



