তীব্র খরতাপ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন। খাল–বিল, ছোট নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয় দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মৎস্যজীবী, মাছচাষি ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৩৯৬ হেক্টর আয়তনের সরকারি বিল রয়েছে ১৭টি, ২৪ হেক্টর আয়তনের খাল রয়েছে ১৭টি এবং ৩৪৪ হেক্টর আয়তনের ছোট–বড় নদী রয়েছে ৫টি। কিন্তু খরা, অপরিকল্পিত পানি উত্তোলন ও জলাশয় ভরাটের কারণে এসব জলাশয়ের অনেকগুলোতেই এখন সারা বছর পানি থাকে না। গ্রামের মৎস্যচাষি শ্রী অতুল কুমার জানান, কয়েক বছর আগেও উপজেলার খাল–বিল ও জলাশয়ে সারা বছর পর্যাপ্ত পানি থাকত। তখন সহজেই শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটি, টাকি ও চিংড়িসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী খরা, জলবায়ু পরিবর্তন ও জলাশয় ভরাটের কারণে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। উপজেলার কয়েকজন জেলে জানান, আগে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাছ শিকার করেই সংসার চালানো যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও তেমন মাছ পাওয়া যায় না।
এতে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী হাসান ও ফারুক বলেন, দেশীয় মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যায় না। ফলে বাইরে থেকে মাছ এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। বেসরকারি পরিবেশবাদী সংগঠন –এর জেলা সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল রুমন বলেন, খাল–বিল দখল ও ভরাট বন্ধ না হলে এবং জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে। তিনি জলাশয় পুনঃখনন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শেফাউল আলম বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আশুরার বিলের বুড়িদহ ও করতোয়া নদীর সিরাজ বালুয়াপাড়া এলাকায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে দুটি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।
এসব অভয়াশ্রম দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, খাল–বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা করা না গেলে শুধু মাছের উৎপাদনই নয়, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয় জলাশয় রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।



