কয়লার পরশে কোনো বস্তু কালিমা যুক্ত হলে পর তা পুনরায় পরিষ্কার করা সম্ভব; তবে খোদ কয়লার চাক নিয়ে যদি পরিষ্কার করার কসরত শুরু করেন, তবে বোধ করি আপনি কষ্মিণকালেও কামিয়াব হবেন না। ধুতে ধুতে সবটাই শেষ হয়ে যাবে, পরিষ্কার করা আর হবে না।
বলছি মানুষের কথা; মানুষ আসলে খোদার প্রতিনিধি; খোদা নিজের সুরতে ঐশি গুণাবলী দিয়ে মহান মাবুদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। যে ঘটনার উদ্বৃতি এক্ষেত্রে টানলাম, তখন কোনো ভাষা বা ভাষাতত্ত্বাবিদ প–িতের জন্ম হয় নি, ছিল না কোনো রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মের গীতি দলমতের কলহ, কেননা সবে মাত্র প্রথম মানুষটিকে খোদা সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টির বর্ণনায় অধিক আলোচনা করবো না, তবে খোদা মাটি দিয়ে প্রথম একটি মানুষের মূর্তী সৃষ্টি করলেন, তারপর তার নাশিকায় প্রাণবায়ু ফুকে দেওয়া মাত্র প্রজ্ঞাময় আদমের সৃষ্টি হলো। খোদা তাকে অশেষ দোয়া করলেন, ক্ষমতা দিলেন, প্রজাবন্ত ও বহুবংশ উৎপাদন করত: গোটা বিশ্ব আবাদ করা ও আবাসভূমি রচনা করার জন্য।
মানুষের শত্রু মানুষ নয়। মানুষের চরম শত্রু হলো খোদ ইবলিস (১ম পিতর ৫ : ৮)।
মানুষ মোহান্ধ হতে পারে, ক্ষিপ্ত হতে পারে, লোভ ও লাভের মিশ্র আকর্ষণ অনৈতিক কাজ করে বসতে পারে এবং তেমন কাজে জড়িয়ে আপন ভ্রাতা পর্যন্ত খুন করে বসলো। বলছি কাবিল যেভাবে তার সহোদর ভাই হাবিলকে হত্যা করে বসলো। মানবেতিহাসে প্রথম ঘাতক হলো কাবিল আর প্রথম নিহত ব্যক্তি হলো হাবিল। তবে মজার বিষয় হলো আদম হাওয়া দুজনেই প্রথম অবাধ্য খোদাদ্রোহী ব্যক্তি, যাদের ঔরষে জন্মপ্রাপ্ত বর্তমানকার মানব সমাজ।
মানুষ দোষী, তা নিঃসন্দেহে হলফ করে বলতে চাই, সকলে পাপ করেছে, খোদার গৌরব নষ্ট করেছে, সাদা বস্তু মশিলিপ্ত হয়ে পড়েছে (রোমীয় ৩ : ২৩, ইশাইয়া ৬৪ : ৬)। নিত্যদিন ব্যবহারের ফলে আমাদের পোশাক পরিচ্ছেদ, আসবাবপত্র, থালাবাটি নোংরা হয়ে পড়ে, তখন কি আমরা তা সাথে সাথে ফেলে দেই অথবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার নিমিত্তে যথাযথ ব্যবস্থা হাতে নিয়ে থাকি? পোশাক পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পূর্বে ধোপার হাতে তুলে দিতাম আর বর্তমানে, গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফলে লব্ধ ওয়াশিং মেশিনে চাপিয়ে দিয়ে পুনরায় পরিষ্কার ব্যবহারোপযোগী করে ব্যবহার করে থাকি! ওয়াশিং ডিটারজেন্ট দিয়ে নোংরা কাপড় পরিষ্কার করা সম্ভব, এমনকি কঠিন দাগ পর্যন্ত তুলে ফেলার ডিটারজেন্ট আবিষ্কৃত হয়েছে যা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
মানুষ কিন্তু ইবলিস নয়, তবে হয়ে পড়েছে ইবলিসাশ্রিত, যাকে পুনরায় ইবলিসের কবল থেকে অবমুক্ত করা সম্ভব। যেমন ভুতের বাহিনী গাদারীয়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে বশীভুত করে রেখে ছিল; খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ ভুতদের তাড়িয়ে দিয়ে ব্যক্তিটিকে মুক্ত করে দিলেন (লুক লিখিত সুসমাচার ৮ : ২৬–৩৯)।
সমস্ত মানুষ ঐ একই আদমের বংশধর। আপনার কি কোনো আপত্তি আছে এমন মন্তব্যে? হনুমানের বংশ বলে কাউকে আমি চিনি না। তবে বলতে পারেন, ডাষ্টবিণে পড়ে থাকা কাপড়ের মধ্যে কোনটি আসলে সাদা তা বুঝবেন কেমন করে? আপনার কি জানা আছে, সর্ব আকারের কাপড়ের টুকরা সংগ্রহ করে বর্তমানে কাজে লাগানো হচ্ছে, লোকে পরিধান করে মজা নিচ্ছে, তবে অনেকেরই জানা নেই, ওগুলো কোনো এক গার্মেন্ট শিল্পের বর্জ। বর্তমান বাজারে নতুন চোখ ধাধানো দেযা যায়। মানুষ কিনে নিচ্ছে, আদি কথা কেউ জানে না। বস্তু ক্ষয় হয় না, আকার আকৃতি বদলায়। মানুষ অবশ্যই অবমুক্ত হবে ইবলিসের কবল থেকে। নোংরা কাপড় অবশ্যই পরিষ্কার করা হবে পুনরায় ব্যবহার করার জন্য। তবে কাপড়ের ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট মানের ডিটারজেন্ট খুঁজে নিতে হবে; সরিষা দিয়ে ভুত তাড়ানো হয়ে থাকে, তবে সরিষার মধ্যে আশ্রিত ভুত তাড়াবেন, তেমন ব্যবস্থা কোথা পাবেন।
সমস্ত মানুষ গুনাহগার; আর তা শুরু হয়েছে প্রথম মানুষ আদমের পতনের থেকে (পয়দায়েশ ৩অধ্যায়)।
মাবুদ কিন্তু আপন সুরতে, স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে, মানুষ সৃষ্টি করেছেন, দিয়েছেন তাদের উচ্চমর্যাদা; কোনো এক ফেরেশতা ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়লো, খোদার হুকুম পর্যন্ত লঙ্ঘন করে বসলো। তথাপিও মানুষকে স্বীয় ক্রোড়ে ফিরিয়ে নেবার জন্য মাবুদ এক চুড়ান্ত ব্যবস্থা সম্পাদন করলেন, যা স্বার্থান্ধ মানবের চিন্তায় ধরাপড়ার কথা নয়!
মানুষের হাতে গড়া এমন কোনো ফিতে কি খুঁজে পাবেন যা দিয়ে সাগরের জল মেপে নিকাশ দিবেন। যেহেতু আদমের ঔরষেজাত সকলেই অবাধ্য গুনাহগার, তাই খোদা নিজেই এক অভিনব অব্যর্থ ব্যবস্থা হাতে নিলেন মানব মুক্তির জন্য। তিনি স্বীয় কালাম ও পাকরূহ জগতে করলেন প্রেরণ, ঐশি মেষ হিসেবে, যাকে কোরবানী দেয়া হলো বিশ্বের তাবৎ পাপের কাফফারা পরিশোধ করার নিমিত্তে। কেবলমাত্র উক্ত একক নিখুঁত কোরবানি, আদম বংশের তাবৎ গুনাহের কাফফারা পরিশোধ করলো, যা হলো ঐশি বিধান। তা কেউ মানে কেউ মানে না, তাই বলে ঐশি ব্যবস্থায় কোনো প্রকার ভেদ হতে পারে কি?
মানুষের কোনো দোষ দেখি না। নিজেকে অবমুক্ত করার জন্য সে নিয়ত কৃচ্ছ্রসাধনা করে চলছে। দিবানিশি, বুঝে না বুঝে, একই মন্ত্র, বার বার মনে মনে স্মরণ করছে, কখনো কখনো উচ্চ নিনাদে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলছে, পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে। যদি মিলে যায়, বল ক্ষতি কি তায়!
মোদ্দাকথা হলো ভুত মুক্ত হওয়া। পাপ থেকে মুক্তি লাভ হলো প্রত্যেকের একমাত্র কামনা। তেমন ক্ষেত্রে, যদি অন্তরের সদেচ্ছার জন্ম হয়, তবে অবশ্যই সেই ঐশি সুমহান বেগুনাাহ মেষের কোরবানি, নিজেদের কোরবানি হিসেবে মেনে নিয়ে, সকলে হয়ে উঠবে স্নাতশুভ্র পূতপবিত্র খোদার ক্রোড়ে সমাসীন হবার যথাযোগ্য, নতুন সৃষ্টি।
কেবল বিশ্বাস নিয়ে সেই বেগুনাহ উপহার আপন হৃদয়ে গ্রহণ করে আমি হতে পেরেছি চিরকালেল জন্য ধন্য! শতভাগ খোদার রহমতে হয়েছে তা সাধিত, মানুষের কৃচ্ছ্রতা সর্বপ্রকার ফালতু পরামর্শ, আনুষ্ঠনিকতা এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষ্ফল (ইফিষীয় ২ : ৮–১০)।
শুকরিয়া আদায় করি মহান রাব্বুল আলামিন মাবুদের যিনি আপনাকে আমাকে আপন মহিমায় সৃষ্টি করেছেন, তারই প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। আর তা সম্ভব হয়েছে খোদাবন্দ হযরত ঈসা কালেমাতুল্লাহ রক্তের মূল্যে নিষঙ্কুষ বিশ্বাস স্থাপনের ফলে।
আমিন, ছুম্মা আমিন।


