নাট্যজন আতাউর রহমান ও অভিনেতা তারিক আনাম খান ছিলেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী। একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন। তারিক আনাম খানের কাছে ছিলেন পছন্দের মানুষ, পছন্দের সহকর্মী। একসময় জমত আড্ডা। সদ্য প্রয়াত অভিনেতা আতাউর রহমানের স্মৃতিচারণ করেছেন তারিক আনাম খান। তিনি বলেন, ‘আজ যাই কাল যাই করে যাওয়াটা আর হলো না। শেষ দেখা, শেষ কথাও আর হলো না। এমন অফুরান জীবনিশক্তির মানুষ চলে যাবেন, এখনো বিশ্বাস হয় না। আতাউর রহমানের নির্দেশনা ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ অধিকাংশ নাটক দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল তার। একইসঙ্গে নিজের নির্দেশিত ও অভিনীত নাটকগুলোও আতাউর রহমান দেখেছেন, সমালোচনা করেছেন এবং প্রশংসা করে পত্রিকায় লিখেছেন। ‘তুঘলক’, ‘ক্রুসিবল’, ‘আরজ চরিতামৃত’ ও ‘বন্দুক যুদ্ধ, গাধার হাট’ নাটক নিয়ে তার লেখা সমালোচনা দলকে অনুপ্রাণিত করেছে।’ তারিক আনাম খানের ভাষ্যে, ‘আতা ভাই আমাদের নবনাট্য আন্দোলনের এক পথিকৃৎ। তিনি ছিলেন আদ্যোপান্ত থিয়েটারে নিবেদিত একজন মানুষ।
কোনদিন দেখিনি আতা ভাই দেরি করে রিহার্সালে কিংবা প্রদর্শনীতে এসেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিহার্সাল বা প্রদর্শনীতে আতাউর রহমানের উপস্থিতি মানেই ছিল আনন্দমুখর পরিবেশ। বয়স কখনোই তার কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’ শেষে তারিক আনাম খান লেখেন, ‘তার সেই হাসিমাখা মুখটাই বারবার মনে পড়ে। অনন্তলোকে আনন্দে থাকুন আতা ভাই।’ প্রসঙ্গত, বাংলা নাট্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার আতাউর রহমান গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী।
তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। তাঁর নিদের্শিত উল্লেখযোগ্য মঞ্চ নাটক ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও, ‘ঈর্ষা, ‘রক্তকরবী, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা,‘এখন দুঃসময়, ‘অপেক্ষমাণ’। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।



