ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের স্বজনের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতি মেনে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। কারাসূত্র জানায়, বিয়ের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের পর জামিন পাবেন মামলার আসামি ও বর তরিকুল ইসলাম (২৬)। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত–উল ফরহাদ ইনকিলাবকে বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম। তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার ভুক্তভোগীর সঙ্গে কারাগারে বিয়ের আদেশ দেন।
বিয়ে সম্পাদনের শর্তে তার জামিনও মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর–কনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজী ডেকে রেজিষ্ট্রি করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কারাসূত্র জানায়, আসামি তরিকুল একটি দোকানের কর্মচারি। অপরদিকে কনে (৩৫) স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারের সহকারী। দুজনেরই আলাদা সংসার রয়েছে। তারপরও তারা অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পারেন ওই নারীর স্বামী। এতে তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। এক পর্যায়ে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তরিকুল তাতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে সম্পর্কের অবনতি হলে তরিকুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই নারী। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মেলে। বাদি তার শাস্তির কথা চিন্তুা করে ওই নারী বাদিকে বিয়ে করতে রাজী হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ বিয়ে করার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্মত হন। তখন আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে বিচারক তাদের বিয়ের আদেশ দেন। আর বিয়ে সম্পাদনের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের শর্তে তরিকুলের জামিনও মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের পরবর্তী (জামিন) আদেশ না আসা পর্যন্ত তরিকুলকে কারাগারেই থাকতে হবে।
কারাগারের পরিবেশে এমন আয়োজনে ঘটনাটি উপস্থিত সবার মধ্যেই কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ছিল না কোনো জাঁকজমক কিংবা আলোকসজ্জা, তবুও সেখানে ছিল নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি, সম্পর্কের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে সাজানোর এক নীরব প্রত্যয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতের নির্দেশনা ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই–বাছাই শেষে কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন হয়।



