দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমের মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর অংশ নেবে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী। তবে দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। ঢাকার বাইরে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম— সবখানেই এখন লোডশেডিং নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইন ক্লাস ও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী নাছরিন আক্তার জানায়, রাতে পড়তে বসলেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়।
গরমে ঠিকমতো পড়াশোনায় মন দেওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও অকেজো হয়ে পড়ে। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার হাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী আশিকুজ্জামান টুলু একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলে, রাতে বিদ্যুতের দেখা মেলা ভার। দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা ১০ মিনিটের বেশি থাকে না। দিনরাত একই অবস্থা চলছে। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বিদ্যুতের এমন সংকট শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে শুধু পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের আগের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।



