Wednesday, July 15, 2026
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
No Result
View All Result

মানব প্রেম (এম এ ওয়াহাব)

alorfoara by alorfoara
October 19, 2024
in সংখ্যা ৯৯ (১৯-১০-২০২৪), সম্পাদকীয়
0
0
SHARES
Share on FacebookShare on Twitter

খোদা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজের মত করে নিজের সাথে মিল রেখে নিজের সুরতে তাকে সৃষ্টি করলেন। তিনি আর কোনো মানুষ নিজের হাতে সৃষ্টি করেন নি, যা হলো কিতাবী বর্ণনা। ঐ একই মানুষের একটি পঞ্জর নিয়ে একজন নারী সৃষ্টি করলেন, তাদের জুড়ি বেধে দিলেন, প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হয়ে গোটা বিশ্ব ভরে তোলার আশির্বাদ করলেন। অবশ্য সকল প্রাণীকুল এমনি করে প্রজননের মাধ্যমে আবাদ করার ব্যবস্থা করলেন। (কিতাবুল মোকাদ্দস ১ : ২৬–৩১; ৫ : ১–২)।

মানুষ ব্যতীত তিনি ভূচর, খেচর ও জলচর সৃষ্টি করেছেন, তবে অন্যান্য সকল সৃষ্টি মানুষের অধীনস্থ করে দিলেন। আর মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যা দিলেন। কেননা, তিনি মানুষের মাধ্যমেই স্বীয় মনোভাব প্রকাশ করতে চাইলেন।

খোদা হলেন এক রূহানী সৃষ্টি, যাকে চর্ম চোখে দেখা সম্ভব নয়। খোদার সৃষ্টি বৃহৎ জ্যোতির প্রতি খালি চোখে একবার তাকিয়ে দেখুন, আপনার চোখের অবস্থা বা দৃষ্টি শক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে। মূসা নবী খোদার নূর দেখতে গিয়ে চোখ ঢেকে ফেললেন। “মাবুদ বললেন, “আর কাছে এসো না। তুমি পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে আছ। তোমার পায়ের জুতা খুলে ফেল” (হিজরত ৩ : ৫)। খোদা আপন মহিমা প্রকাশ করার জন্য মানুষকে মাধ্যম হিসেবে মনোনীত করলেন। তবে প্রথম মানুষ আদম তার স্বভাব আচরণের মাধ্যমে খোদার হুবহু প্রকাশ ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যার্থ হলেন; আর আদমের ঔরষজাত সকল সন্তান খোদার পদাঙ্ক অনুসরণ না করে আদমের স্বভাব আচরণ অনুযায়ী চলে আসছে। খোদার পরিকল্পনা হলো মানুষের মধ্যে চিরকালের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। মানুষ নিজের ইচ্ছামাফিক চলতে গিয়ে আজ বিশ^টা একটা নরকপুরীতে হয়েছে পরিণত।

খোদা হলেন অনন্ত প্রেমের অফুরাণ পারাবার। বিপরীতক্রমে মানুষ হয়ে পড়েছে চরম স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রীক। প্রেম ও আত্মত্যাগ আর স্বার্থপরতা একই উৎসে একই পাত্রে অবস্থান করতে পারে না; যেমন আলো আর অন্ধকার, মিষ্টি জল আর তেতো জল একই উৎস থেকে প্রবাহিত হয় না। খোদা হলেন এক জীবন্ত জ্বলন্ত নূর, যেমন উক্ত নূরের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ পেয়েছে ঐশি মানব খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের মাধ্যমে। অবশ্য আন্তরিকভাবে যারাই মসীহের সাথে একাত্ম হয়েছেন, তাদেরকে খোদা ঐশি নূরে পরিণত করেছেন। “সেই নূর অন্ধকারের মধ্যে জ্বলছে কিন্তু অন্ধকার নূরকে জয় করতে পারে নি। আল্লাহ ইয়াহিয়া নামে একজন লোককে পাঠিয়েছিলেন। তিনি নূরের বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন যেন সকলে তাঁর সাক্ষ্য শুনে ঈমান আনতে পারে” (ইউহোন্না ১ : ৫–৭), “পরে ঈসা আবার লোকদের বললেন, “আমিই দুনিয়ার নূর। যে আমার পথে চলে সে কখনও অন্ধকারে পা ফেলবে না, বরং জীবনের নূর পাবে” (ইউহোন্না ৮:১২), “তোমরা দুনিয়ার আলো। পাহাড়ের উপরের শহর লুকানো থাকতে পারে না” (মথি ৫ : ১৪)।

নিঃস্বার্থ প্রেম, ক্ষমা করতে প্রাণীত করে। খোদা সদাসর্বদা মানুষকে ক্ষমা করার জন্য থাকেন অপেক্ষারত। মসীহ ঈসা মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত পরিশোধ করেছেন নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে। বিশে^র তাবৎ মানুষকে প্রেম ও ক্ষমার প্লাটফর্মে একত্রিত করার জন্য মানুষের মধ্যে নতুন আত্মা ও নতুন হৃদয় স্থাপন করে দিয়েছেন। কালামপাকে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সৃষ্টি হবার গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যেমন– “ঈসা নীকদীমকে বললেন, “আমি আপনাকে সত্যিই বলছি, নতুন করে জন্ম না হলে কেউ আল্লাহর রাজ্য দেখতে পায় না” (ইউহোন্না ৩ : ৩), “তোমরাই যে মসিহের লেখা চিঠি আর আমাদের কাজের ফল তা পরিষ্কার দেখা যায়। এই চিঠি কালি দিয়ে লেখা হয় নি বরং জীবন্ত আল্লাহর রূহ দিয়েই লেখা হয়েছে। এটা কোন পাথরের ফলকের উপরে লেখা হয় নি, মানুষের দিলের উপরেই তা লেখা হয়েছে” (২করিন্থীয় ৩ : ৩), “হে আল্লাহ, তুমি আমার মধ্যে খাঁটি অন্তর সৃষ্টি কর; আমার মন আবার স্থির কর” (আল জবুর ৫১ : ১০), “আমিই যে মাবুদ তা জানবার দিল আমি তাদের দেব। তারা আমার বান্দা হবে আর আমি তাদের আল্লাহ হব, কারণ সমস্ত দিল দিয়েই তারা আমার কাছে ফিরে আসবে” (ইয়ারমিয়া ২৪ : ৭), “তোমরা যাতে তোমাদের সমস্ত মন–প্রাণ দিয়ে তাঁকে মহব্বত করে বেঁচে থাক সেজন্য তিনি তোমাদের ও তোমাদের বংশধরদের অন্তরের খৎনা করাবেন” (দ্বিতীয় বিবরণী ৩০ : ৬)।

কথায় বলে ঐক্যে আসে বল ও শক্তি, আর অনৈক্যে সে শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়। একই আদমের ঔরষজাত সন্তান আজ অগণীত ভাগে বিভক্ত ও অহিনকুল সম্পর্কে পরষ্পরকে খতম করার কাজে রয়েছে ব্যস্ত। যার চোখ আছে সে সহজেই দেখতে পাবে। আর যার রয়েছে বিবেচনাবোধ সে বুঝতে পারে মানব বাগান নরকপুরীতে পরিণত হবার মূল কারণ। মহব্বত গড়ে তোলে আর অহংবোধ ঐক ভেঙ্গে দেয়। বিশ্বের সকলেই দাবি করে তারা খোদাকে জানে এবং তাঁর সাথে রয়েছে তাদের এক আন্তরিক মধুময় সম্পর্ক, অথচ সেই মহাজ্ঞানী ব্যক্তিরাই মানুষকে কতল করে আসছে প্রথম দিন থেকে, অর্থাৎ খোদার পথ থেকে স্খলিত হবার সাথে সাথে। ছোট্ট একটা দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে ক্লান্তি লাগার কথা নয়। ধর্মের অজুহাতে মানুষের ঐকশক্তি ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে কেন? তবে তা কি খোদার কারণে; না মাতাল লোভী নারীলিপ্সু তষ্কর লুটেরার নিজেদের ভোগ বিলাসের কারণে? এর প্রকৃত জবাব জ্ঞানী পাঠককুলের কাছ থেকে প্রত্যাশা করছি। একই খোদাকে নিয়ে বিবদমান দলগুলো আসলে তাড়িত হচ্ছে অভিশপ্ত ইবলিসের দ্বারা, যে কিনা বিশ্বটাকে নৃশুণ্য করার কাজে নিয়ত উৎসাহ দিয়ে চলছে। সেই প্রথম দিনের কথাই ধরুণ, কাবিলকে উত্তেজিত করে তুলেছিল ভ্রাতা হননের কাজে। ইবলিস হলো খোদার চিরন্তন দুষমন। মানব বাগান হলো খোদার ঐশি গুনাবলী বাস্তবায়ন করার একমাত্র ক্ষেত্র; আর কুলটা প্রতিজ্ঞা করে এসেছে, সেই সাজানো গোছানো বাগান ভেঙ্গে চুরে লন্ডভন্ড করার ফিকিরে। খোদার শান্তি বা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য অত্যাবশ্যক উপাদান হলো নিঃস্বার্থ প্রেম ও ক্ষমা। কালামপাকে যথার্থ বর্ণীত রয়েছে; “আইস আমরা উত্তর প্রতুত্তর করি” (ইশাইয়া ১ : ১৮)। “আমি, আমিই আমার নিজের জন্য তোমার অন্যায় মুছে ফেলি; আমি তোমার গুনাহ্ আর মনে আনব না” (ইশাইয়া ৪৩ : ২৫), “মেঘের মত করে তোমার সব অন্যায় আর সকাল বেলার কুয়াশার মত করে তোমার সব গুনাহ্ আমি দূর করে দিয়েছি। তুমি আমার কাছে ফিরে এস, কারণ আমিই তোমাকে মুক্ত করেছি” (ইশাইয়া ৪৪ : ২২), “কিন্তু যদি একজন দুষ্ট লোক তার দুষ্টতা থেকে ফিরে ন্যায় ও সৎ কাজ করে, তবে সে তার প্রাণ বাঁচাবে” (ইহিস্কেল ১৮ : ২৭), “পৌল যখন সৎভাবে চলা, নিজেকে দমনে রাখা এবং রোজ হাশরের বিষয়ে বললেন, তখন ফীলিক্স ভয় পেয়ে বললেন, তুমি এখন যাও; সময়–সুযোগ মত আমি তোমাকে ডেকে পাঠাব” (প্রেরিত ২৪ : ২৫), “তোমার মত আল্লাহ আর কেউ নেই যিনি তাঁর বেঁচে থাকা লোকদের গুনাহ ও অন্যায় মাফ করে দেন। তুমি চিরকাল রাগ পুষে রাখ না বরং তোমার অটল মহব্বত দেখাতে আনন্দ পাও। তুমি আবার আমাদের উপর মমতা করবে; তুমি আমাদের সব গুনাহ পায়ের তলায় মাড়াবে এবং আমাদের সব অন্যায় সাগরের গভীর পানিতে ফেলে দেবে” (মিকাহ ৭ : ১৮–১৯)।

খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ হলেন মানবরূপে আবির্ভুত খোদার পুর্ণাঙ্গ প্রকাশ, যিনি এসেছেন পথভুলো মানুষদের সঠিক পথের অর্থাৎ খোদার প্রকৃত পথের সন্ধান দিতে এবং তাদেরকে নিজের স্কন্ধে বহন করে নিয়ে যেতে। “মনে রেখো, ইবনে–আদম সেবা পেতে আসেন নি বরং সেবা করতে এসেছেন এবং অনেক লোকের মুক্তির মূল্য হিসাবে তাদের প্রাণের পরিবর্তে নিজের প্রাণ দিতে এসেছেন” (মথি ২০ : ২৮), “আমিই সেই জীবন্ত রুটি যা বেহেশত থেকে নেমে এসেছে। এই রুটি যে খাবে সে চিরকালের জন্য জীবন পাবে। আমার শরীরই সেই রুটি। মানুষ যেন জীবন পায় সেজন্য আমি আমার এই শরীর দেব” (ইউহোন্না ৬ : ৫১), “চোর কেবল চুরি, খুন ও নষ্ট করবার উদ্দেশ্য নিয়েই আসে। আমি এসেছি যেন তারা জীবন পায়, আর সেই জীবন যেন পরিপূর্ণ হয়” (ইউহোন্না ১০ : ১০), “পরে মাবুদ আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, ইসরাইলের পালকদের বিরুদ্ধে তুমি নবী হিসাবে এই কথা বল যে, আল্লাহ মালিক বলছেন, ঘৃণ্য ইসরাইলের সেই পালকদের, যারা কেবল নিজেদেরই দেখাশোনা করে। মেষপালের দেখাশোনা করা কি পালকদের উচিত নয়? তোমরা তো চর্বি খাও, পশম দিয়ে কাপড় বানিয়ে পর এবং বাছাই করা ভেড়া জবাই কর, কিন্তু তোমরা মেষদের যত্ন কর না। তোমরা দুর্বলদের সবল কর নি, অসুস্থদের সুস্থ কর নি, আহতদের ঘা বেঁধে দাও নি। যারা বিপথে গেছে তাদের তোমরা ফিরিয়ে আন নি কিংবা হারিয়ে যাওয়া লোকদের তালাশ কর নি, বরং কড়া ও নিষ্ঠুরভাবে তাদের শাসন করেছ। পালক নেই বলে তারা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বুনো জন্তুর খাবার হয়েছে। আমার মেষেরা সমস্ত পাহাড়–পর্বতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা গোটা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ তাদের তালাশ করে নি” (ইহিস্কেল ৩৪ : ১–৬), “তিনি রাখালের মত করে তাঁর ভেড়ার পাল চরাবেন, ভেড়ার বাচ্চাগুলো তিনি হাতে তুলে নেবেন আর কোলে করে তাদের বয়ে নিয়ে যাবেন; বাচ্চা আছে এমন ভেড়ীদের তিনি আস্তে আস্তে চালিয়ে নিয়ে যাবেন” (ইশাইয়া ৪০ : ১১), “আমি আল্লাহ মালিক আমার জীবনের কসম খেয়ে বলছি যে, পালকের অভাবে আমার পাল লুটের জিনিস হয়েছে এবং বুনো জন্তুর খাবার হয়েছে। আমার পালকেরা আমার পালের খোঁজ করে নি এবং দেখাশোনাও করে নি; তার বদলে তারা নিজেদের দেখাশোনা করেছে। সেজন্য, ওহে পালকেরা, আমার কথা শোন। আমি আল্লাহ মালিক বলছি যে, আমি পালকদের বিপক্ষে; আমি তাদের হাত থেকে আমার মেষদেরকে আদায় করে নেব। আমার পাল চরানোর কাজ থেকে আমি তাদের সরিয়ে দেব যাতে তারা আর নিজেরা লাভবান হতে না পারে। তাদের মুখ থেকে আমি আমার পাল রক্ষা করব এবং মেষেরা আর তাদের খাবার হবে না” (ইহিস্কেল ৩৪ : ৮–১০), “তাঁদের খাওয়া শেষ হলে পর ঈসা শিমোন–পিতরকে বললেন, “ইউহোন্নার ছেলে শিমোন, ওদের মহব্বতের চেয়ে কি তুমি আমাকে বেশী মহব্বত কর?” শিমোন–পিতর তাঁকে বললেন, “জ্বী, প্রভু, আপনি জানেন আপনি আমার কত প্রিয়।” ঈসা তাঁকে বললেন, “আমার মেষশাবকগুলোকে চরাও।” ঈসা দ্বিতীয় বার তাঁকে বললেন, “ইউহোন্নার ছেলে শিমোন, তুমি কি আমাকে মহব্বত কর?” শিমোন–পিতর তাঁকে বললেন, “জ্বী, প্রভু, আপনি তো জানেন আপনি আমার কত প্রিয়।” ঈসা তাঁকে বললেন, “আমার মেষগুলোকে লালন–পালন কর।” পরে তিনি তৃতীয়বার শিমোন–পিতরকে বললেন “ইউহোন্নার ছেলে শিমোন, সত্যিই কি আমি তোমার প্রিয়?” (ইউহোন্না ২১ : ১৫–১৭), “তোমাদের মধ্যে আল্লার যে ভেড়ার দল আছে তোমরা তার রাখল হও। দেখাশোনা করতে হবে বলে যে তাদের দেখাশোনা করবে তা নয়, বরং নিজের ইচ্ছাতেই তা কর, কারণ আল্লাহ তোমাদের কাছে তা–ই চান। লাভের আশায় এই কাজ কোরো না, কিন্তু আগ্রহের সংগে কর; তোমাদের অধীনে যারা আছে তাদের উপর প্রভু হয়ো না, বরং এমন হও যাতে তোমাদের দেখে তারা শিখতে পারে। তাহলে যখন প্রধান রাখাল দেখা দেবেন তখন তোমরা জয়ের মালা হিসাবে তাঁর মহিমার ভাগী হবে, আর তা কখনও ম্লান হবে না” (১ পিতর ৫ : ২–৪), “আমি জানি যে, আমি চলে যাবার পর লোকেরা হিংস্র নেকড়ে বাঘের মত করে আপনাদের মধ্যে আসবে এবং ভেড়ার পালের ক্ষতি করবে” (প্রেরিত ২০ : ২৯), “মসিহের সংগে মরে তোমরা যখন দুনিয়ার নানা রীতিনীতির কাছ থেকে দূরে সরে এসেছ তখন দুনিয়ার লোকদের মতই তোমরা কেন আবার দুনিয়ার নিয়মের অধীন হচ্ছ। যে সব জিনিস ব্যবহার করতে করতে নষ্ট হয়ে যায় সেই সব জিনিসের বিষয়ে এই রকম নিয়ম আছে– ধোরো না, খেয়ো না, ছুঁয়ো না। এই সব নিয়ম তো কেবল মানুষের দেওয়া হুকুম ও শিক্ষা। এই সব নিয়মগুলো দেখতে মনে হয় বেশ জ্ঞানে পূর্ণ, কারন কি করে এবাদত করা যায়, কিভাবে নিজেদের নীচু করা যায়, কিভাবে নিজের শরীরকে কষ্ট দেওয়া যায়, তা এই নিয়মগুলো লোকদের জানায়, কিন্তু গুনাহ–স্বভাবকে বশ করবার ব্যাপারে এগুলোর কোন মূল্যই নেই” (কলসীয় ২ : ২০–২৩), “ভন্ড আলেম ও ফরীশীরা, ঘৃণ্য আপনারা! আপনারা চুনকাম করা কবরের মত, যার বাইরের দিকটা সুন্দর কিন্তু ভিতরটা মরা মানুষের হাড়–গোড় ও সব রকম ময়লায় ভরা। ঠিক সেভাবে, বাইরে আপনারা লোকদের চোখে ধার্মিক কিন্তু ভিতরে ভন্ডমী ও গুনাহে পূর্ণ” (মথি ২৩ : ২৭–২৮)।

যেহেতু খোদা হলেন রূহানী সত্ত্বা যিনি সতত: ন্যায় ও সত্যে বাস করেন, তাই তার বর্ণনা অবশ্যই হতে হবে সত্য চিত্তে ও রূহানী পর্যায়ে উন্নীত হয়ে। “আল্লাহ রূহ; যারা তাঁর এবাদত করে, রূহে ও সত্যে তাদের সেই এবাদত করতে হবে” (ইউহোন্না ৪ : ২৪), “এই লোকেরা মুখেই আমাকে সম্মান করে, কিন্তু তাদের দিল আমার কাছ থেকে দূরে থাকে। তারা মিথ্যাই আমার এবাদত করে; তাদের দেওয়া শিক্ষা মানুষের তৈরী কতগুলো নিয়ম মাত্র” (মথি ১৫ : ৮–৯), “যিনি মহান ও গৌরবে পূর্ণ, যিনি চিরকাল জীবিত, যাঁর নাম পবিত্র, তিনি বলছেন, “আমি উঁচু ও পবিত্র জায়গায় বাস করি, কিন্তু যার মন নম্র, যার মন ভেংগে চুরমার হয়েছে আমি তার সংগেও বাস করি যাতে নম্রদের ও মন ভেংগে চুরমার হওয়া লোকদের দিলকে আমি নতুন করে তুলতে পারি” (ইশাইয়া ৫৭ : ১৫), “কিন্তু মাবুদ শামুয়েলকে বললেন, তার চেহারা কি রকম কিংবা সে কতটা লম্বা তা তুমি দেখতে যেয়ো না, কারণ আমি তাকে অগ্রাহ্য করেছি। মানুষ যা দেখে তাতে কিছু যায়–আসে না, কারণ মানুষ দেখে বাইরের চেহারা কিন্তু মাবুদ দেখেন অন্তর” (১শমুয়েল ১৬ : ৭), “তুমি কি মনে কর ষাঁড়ের গোশত আমার খাবার? ছাগলের রক্ত কি আমি খাই? আল্লাহর কাছে তোমার শুকরিয়াই তোমার কোরবানী হোক; সেই মহানের কাছেই তোমার সব মানত পূরণ করতে থাক। তোমার বিপদের দিনে তুমি আমাকে ডেকো; আমি তোমাকে উদ্ধার করবে আর তুমি আমাকে সম্মান করবে।” কিন্তু আল্লাহ দুষ্ট লোকদের এই কথা বলেন, “আমার শরীয়তের কথা বলার কিংবা আমার ব্যবস্থার কথা মুখে আনার তোমার কি অধিকার আছে? তুমি তো আমার শাসন ঘৃণা কর আর আমার কথার ধার ধারো না। চোরকে দেখলে তুমি তাকে সায় দাও, জেনাকারীদের সংগে মেলামেশা কর। খারাপ কথায় তোমার মুখ খোলা, তোমার জিভ ছলনার বশে থেকে কথা বলে। তুমি বসে বসে তোমার নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে থাক আর তার নিন্দা কর” (জবুর ৫০ : ১৩–২০)।

কালামপাকে পরিষ্কার বর্ণীত রয়েছে, খোদা জগতকে প্রেম করেন, যার অর্থ তিনি মানুষকে মহব্বত করেন। তিনি মানুষের বিপন্ন দশা আদ্যাপন্ত পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন; মানুষ নিজেদের মহাজ্ঞানী ভেবে বসে আছে। খোদার নামে খোদার প্রিয় মানুষকে অবহেলা করে, খোদার নামে নগর জনপদ কচুকাটা করে ফিরছে। তারপরেও তাদের দাবি, তারা নাকি খোদাভক্ত। প্রহসন আর প্রহসন! কালামপাকে চেতনা দেয়া রয়েছে, যে দেখা ভাইকে মহব্বত করতে ব্যার্থ সে কেমন করে অদেখা বা অদৃশ্য খোদাকে মহব্বত করতে পারে? “আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই পাহাড়ে এবাদত করতেন, কিন্তু আপনারা বলে থাকেন জেরুজালেমেই লোকদের এবাদত করা উচিত ” (ইউহোন্না ৪ : ২০)। খোদার প্রতি প্রেম যা আপনি আমি দাবি করি, আমাদের হৃদয়ে খোদাপ্রেম ছাড়া আর কিছুই নেই বা থাকা উচিত নয়, তাদের নতুন করে খোদার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। খোদাপ্রেম বাস্তবে হবে মানব প্রেম, খোদা নিজেও মানুষের প্রতি তাঁর চুড়ান্ত প্রেম প্রকাশ করেছেন; তাদের পাপের কাফফারা পরিশোধ করার জন্য এক ঐশি মেষ কোরবানি দিয়েছেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন মানবরূপে আবির্ভূত পাকরূহ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ, যিনি হলেন কোরবানি–যোগ্য সম্পূর্ণ নিখুঁত নিষ্পাপ ঐশি তনয়। গুনাহের কোরবানি দেবার বেগুনাহ মেষ!

আসুন সর্বান্তকরণে মানুষ ভালবাসি। দুষ্ট পালকের মত মেষদের জবাই না করে তাদের লালন পালন করি যা হবে আমাদের ঐশি দায়–দায়িত্ব। মানুষের মধ্যে সৃষ্ট দলাদলি ভাগাভাগী এবং সর্বপ্রকার বিবেদের দেয়াল চূর্ণ–বিচূর্ণ করে সকলে একই প্রেম–পারাবারে সন্তরণ করি, স্নাতশুভ্র হয়ে পিতার সন্তান পিতার ক্রোড়ে ঠাঁই নেই, যে জন্য পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা অপেক্ষারত রয়েছেন। “মাবুদ বলছেন, “হে পিপাসিত লোকেরা, তোমরা সবাই পানির কাছে এস; যার পয়সা নেই সেও এসে কিনে খেয়ে যাক। এস, বিনা পয়সায়, বিনামূল্যে আংগুর–রস আর দুধ কেনো।” (ইশাইয়া ৫৫ : ১), “ঈদের শেষের দিনটাই ছিল প্রধান দিন। সেই দিন ঈসা দাঁড়িয়ে জোরে জোরে বললেন, “কারও যদি পিপাসা পায় তবে সে আমার কাছে এসে পানি খেয়ে যাক” (ইউহোন্না ৭ : ৩৭)

ShareTweet
Next Post

ভিলার জয়ের দিনে মার্টিনেজের দুর্দান্ত সেভ

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

  • Amy1660 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Valerie2737 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Haven4448 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

Recent News

আমাদের পৃথিবী (মোর্শেদা খানম)

আমাদের পৃথিবী (মোর্শেদা খানম)

July 15, 2026
ভেসে উঠছে ক্ষত কমছে পানি

যেসব জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

July 15, 2026
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা

blp-market SEO Test Anchor Visit W3Schools
blp-market SEO Test Anchor Visit W3Schools
No Result
View All Result
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা