যশোরের কেশবপুরে আব্দুল খালেক মান (৯০) নামে এক ব্যক্তির লাশ বাড়িতে রেখে জমি ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালেন দুই সন্তান। একপর্যায়ে তারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই বৃদ্ধের লাশ দাফন করা হয়েছে। সোমবার যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানা গেছে, চার–পাঁচ বছর আগে আবদুল খালেক মানের বড় ছেলে মাহাবুর রহমান মান বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তিনি বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি করে আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর গ্রাম্য মাতুব্বরদের মধ্যস্থতায় ছোট ভাই আছাবুর রহমান মান বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পুরোনো বসতবাড়ি ও কবরস্থান কিনে নেন।
পরে সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থ বাবা বড় ছেলে মাহাবুরের আশ্রয়ে ছিলেন। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হলে পুরোনো পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে যান মাহাবুর। এ সময় ছোট ভাই আছাবুর কবর খোঁড়ায় বাধা দেন। ওই জমি কেনার সূত্রে তিনি কবরস্থানের জায়গার মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরকে মারধর করেন। এতে বড় ভাই মাহাবুর রহমান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং ছোট ভাই আছাবুর রহমান ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের কারণে বাবার দাফনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকাবাসীর সহযোগিতা লাশ দাফন করা হয়। কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, বাবার লাশ বাড়িতে রেখে জমি ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিষয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই ভাই। একপর্যায়ে দুইপক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বৃদ্ধের লাশ দাফন করা হয়েছে।


