রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত মে মাসে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপ করেছিলেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে রয়েছেন। গোয়েন্দারা এই গোপন ফোনালাপের তথ্য জানতে পারেন। পরে তা সরকারের উচ্চমহলেও জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করলেও প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি। বরং রাষ্ট্রপতি নিজে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি ৯ মে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। এর মধ্যেই লন্ডন থেকে দিল্লিতে ফোনে আলাপ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই তাঁকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। কারণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি যথেষ্ট স্পর্শকাতর মনে হয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ একই ইস্যুতে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এরকম যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।’ ফোনালাপের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন রাষ্ট্রপতি নিজেই। তিনি এটাকে পুরোটাই মিথ্যা বলেছেন। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় বলেছেন, ‘এটি কল্পনার বাইরে।’ ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন সাহাবুদ্দিন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের আগের শীর্ষ কোনো সাংবিধানিক পদে এখনো বহাল আছেন।


