সোমবার দুপুরে সারা দেশে একযোগে ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি নিজেই একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এরপর উপস্থিত শিশু–কিশোরদের উদ্দেশে এই গল্প বলেন।সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ কীভাবে সবুজ ছায়া দিচ্ছে, সেই ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা শিশুদের গল্প আকারে শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে একটি নিমগাছ রোপণ করলাম। এই নিমগাছ নিয়ে তোমাদের একটা সত্যিকারের ঘটনা বলি। তোমরা যারা ছোট বন্ধুরা আছো, তোমরা নিশ্চয়ই আরাফাতের ময়দানের নাম শুনেছো। এখন যদি তোমরা আরাফাতের ময়দানের ছবি দেখো, দেখবে সেখানে অনেক গাছ লাগানো আছে। সেই গাছগুলো কিন্তু সব নিমগাছ। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না।
১৯৭৮ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আরাফাতের ময়দান দেখে তৎকালীন সৌদি বাদশাহকে বলেছিলেন, এই মাঠটি এত ফাঁকা কেন? এখানে গাছ লাগালে হজ করতে আসা হাজি সাহেবরা গরমে গাছের নিচে সুন্দরভাবে বসতে পারতেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন সৌদি বাদশাহ বলেছিলেন, মরুভূমিতে তো কোনো গাছ হবে না, আমরা কী গাছ লাগাব? এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে বের করলেন যে সেখানে নিমগাছ বেঁচে থাকতে পারবে। পরে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ নিমগাছের চারা সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। সৌদি সরকার পরবর্তীতে সেই চারা থেকে কলম করে আজ আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আরাফাতের ময়দানে গেলে যে গাছগুলো দেখা যায়, তার সবই বাংলাদেশের নিমগাছ। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সৌদি আরবের মানুষ কিন্তু ওগুলোকে নিমগাছ বলে ডাকে না। ওটা তাদের কাছে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।


