অদ্য শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, বেলা ১৩:৪৭, কানে ভেসে আসছে সুলোলিত বয়ান, জমায়েত ভক্তবৃন্দদের লক্ষ্য করে বয়ান অনুরণিত হচ্ছে, আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করার জন্য মাইক ব্যবহার করা সাধারণত একট রেওয়াজে পরিণত হয়েছে, যদিও তাঁরা কথায় কথায় বলে বসেন, ইন্নাল মুবাজ্জেরীণা কানু এখওয়ানাস শাইওয়াতিন, যার বাংলা অর্থ হলো, বেহুদা খরচকারী শয়তানের ভ্রাতা।
তা তারা জেনে বলেন বা সুরের খাতিরে সুর মিলিয়ে চলেন, আমার কাছে বিষয়টি অতোটা পরিষ্কার নয়! তবে বাংলার মুলুকে কতজন যে আরবী ভাষা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারে সে বিষয়ে সন্দেহ আছে পরিষ্কার। তাছাড়া বক্তাদের মুখে উচ্চারিত আরবি ভাষা আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ পূর্বের ভাষা, ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল, শব্দের পরিবর্তন এনে ভাষাকে সাবলিল করে তোলে যেন অধিক লোক তা সহজেই বুঝতে পারে। যাক, না বুঝলে সাপের মন্ত্র আর লাশের মন্ত্র অবোধ শ্রোতার কাছে সমার্থক! কথায় আছে, কুকুর আপনা বমির দিকে ফেরে, আর ধৌত শুকর পুনরায় পংকাবর্তে ফিরে যায়।
যিনি বয়ান দিচ্ছেন, তিনি অবশ্যই বাংলা ভাষাভাসী। বক্তব্যের মধ্যে মাত্র ২/৪টি আরবি শ্লোক উচ্চারণ করে, আর হয়তো তেমন বাক্যের উপর ভর করে পুরো সময়টা অতীব উচ্চকন্ঠে চিৎকার করে চলছেন, দৃষ্টান্তগুলো সেই আদিম যুগের হীমায়িত ঘটনা পুঞ্জি। হীমঘর থেকে বের না করা হলে সেগুলো বর্তমান প্রজন্মকে উপভোগ করার জন্য পরিবেশন করা সম্ভব হতে পারে কি?
করা সম্ভব নয়, তেমন মন্ত্র শ্রবণ ও পঠন কেবল পন্ডশ্রম। আর যারা তেমন কাজে থাকে লিপ্ত তারা অবশ্যই ইবলিসের ভ্রাতা।
সৌরালোকের দিকে তাকান, বুঝতে পারবেন, যুগ যুগ ধরে গোটা বিশ্বটাকে তরতাজা করে রেখেছে। অন্ধকার পুরিকে খোদা চাইলেন আলোতে পরিপূর্ণ করতে, তাই তিনি আলোক বর্তীকা অর্থাৎ সূর্য সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টি লগ্ন থেকে নিরবধি আলো ছড়িয়ে চলছে দিবাকর। খোদা হলেন সনাতন, আদিতে ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং অনাগত ভবিষ্যত জুড়ে থাকবেন একইভাবে।
আমাদের পূর্বপুরুষ একই সূর্যের আলোতে তপ্ত হতেন আর আজ গবেষণার ফলে ঐ একই সৌরালোক দিয়ে অধিক উপযোগ উপভোগ করে ফিরছি, যা হলো নিয়ত গবেষণার অবদান। খোদাকে নিয়ে গবেষণার ব্যবস্থা রয়েছে অগণিত খোলা দরজা।
যে জাতি গবেষণার সুযোগ বন্ধ করে রেখেছে, তারা কেবল হীমায়িত অবস্থায় পড়ে থাকতে বাধ্য। গবেষণা বন্ধ করে রাখার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো জাতিকে পশ্চাদপদ উন্নয়ন বিমুখ করে রাখা, যাকে বলা চলে মান্ধাতার আমলে বন্দী করে রাখা। গবেষণা বিমুখ ধর্ম ঐ একই কাজ করে থাকে। গোটা জীবন পার করে দিতে দেখেছি তিন কুল আর এক আলহামদু দিয়ে।
খোদার কালাম জারি হয়েছে উশৃঙ্খল পশ্চাদপদ জাতিকে শৃঙ্খল মুক্ত করার কারণে। মানুষের সরকারি পিলার হলো আদম, যাকে খোদা স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে, সর্বপ্রকার ঐশি গুনাবলি দিয়ে সৃষ্টি করলেন। মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, মানুষে মানুষে বিরাজ করবে প্রেম-প্রীতি, সহমর্মিতা, যা হলো খোদার একমাত্র লক্ষ্য। আর অভিশপ্ত ইবলিস মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকে উচকে দেয়, ঈর্ষাকাতর করে তোলে খুন, রাহাজানি সৃষ্টি করার জন্য দিবানিশি কলা-কৌশল রচনা করে চলছে। তাই সহজভাবে বলা চলে, যে মন্ত্র মানুষের সাথে মানুষের বিভেদ, ঝগড়া, কলহ বাধায় তা অবশ্যই ইবলিসের রচিত মন্ত্র।
মহান রাব্বুল আল-আমিন খোদার নিবেদন হলো, তারা যেন এক হয়, পরষ্পরকে যেন আত্মবৎ প্রমে করে। খোদা নিজেই প্রেম, যে ব্যক্তি খোদার মধ্যে অর্থাৎ খোদার বাধ্য থাকে সে অবশ্যই পরষ্পরকে প্রেমের নজরে দেখবে। খোদার সাথে যুক্ত ব্যক্তি খোদার চরিত্রে রূপান্তরিত হতে বাধ্য!
ঝগড়া ফাসাদ হলো অভিশপ্ত ইবলিসের কর্মকান্ড, খোদার সুমহান পরিকল্পনা বানচাল করার ব্রত নিয়ে থাকে দিবানিশি ব্যস্ত। সদা থাকে হুশিয়ার, খোদার কাজ ভন্ডুল করে পরিবর্তে পার্থিব স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করার ফিকিরে উক্ত ইবলিস ও তার আশ্রিত দলবল থাকে সদাজাগ্রত। সাধারণ মানুষ হলো ইবলিসের ভোগ্য পন্ন। ভোক্তা ভোগ্যবস্তু দলে মথে এককার করে তোলে।
খোদা ভোক্তা নন। সবকিছু সুন্দরভাবে সৃষ্টি করে তিনি অবলোকন করলেন, প্রীত হলেন, মানুষ সৃষ্টি করে হলেন উৎফুল্ল, উপাধি দিলেন আশরাফুল মাখলুকাত, অর্থাৎ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, মহাজ্ঞানী খোদার নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি, মানুষ দর্শণ করে খোদাকে দেখার ইচ্ছা ও আকাঙ্খা হবে পরিপূর্ণ।
পথিমধ্যে সমস্ত মানুষ পাপের পঙ্কে ডুবে গেছে। একজন নয়, দুইজন নয়, পাইকারীহারে সকলেই! আদম নিজেই তেমন পথে যাত্রা শুরু করলেন। গর্ভবতী মা যে পথে চলে, পেটের সন্তান কি ভিন্ন পথে চলার ক্ষমতা রাখে? খোদাদ্রোহী আদমের পুত্র কাবিল ভ্রাতা হাবিলকে খুন করে মানব হত্যার নজির স্থাপন করে বসলো। পরবর্তী সময়ে আমরা তেমন জঘন্য কাজের অবতারণা দেখে দেখে অভ্যস্থ! আমরা সাধারণ মানুষ নিরুপায়। অবশ্য আমরা নিজেরাও নই পূতপবিত্র, এবং তেমন পবিত্রতা অর্জনের উপায় আমাদের হাতে নেই, আদমের ঔরশজাত কোনো মানুষের পক্ষেও নিজেকে পূতপবিত্র রাখার ক্ষমতা বা ধার্মিকতা নেই এবং সম্ভব নয়!
অনুপম দয়াময় মাবুদ অবশ্যই এক ব্যবস্থা প্রেরণ করেছেন হতচ্ছাদাড়ের উদ্ধার করার জন্য। স্বীয় কালাম ও পাকরূহ মানবাকারে করলেন জগতে প্রেরণ। সম্পূর্ণ নিষ্পাপ প্রেমের পরাকাষ্টা, মানবদরদী খোদাবন্দ হযরত ঈসা কালেমাতুল্লাহ বিশ্বের তাবৎ মানুষের জন্য নিজের প্রাণ করলেন কোরবান। গুনাহগার আদম সন্তানদের পাপের কাফফারা শোধ দিলেন স্বীয় পবিত্র রক্তের মূল্যে, ফলে বিশ্বাসহেতু আজ সকলে হতে পারলো মুক্তপাপ; অধিকন্তু পেয়ে গেল তারা খোদার সকাশে সমাসিন হবার অধিকার, যা অন্ধ জাতির কাছে ছিল কল্পনাতীত।
কালামে একটি বিশেষ আয়াত রয়েছে, ‘যদি কেউ মসিহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে সব নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহর থেকেই হয়। তিনি মসিহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে অন্যদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসিহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানুষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা মসিহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসিহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, ‘তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।’ ঈসা মসিহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসিহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয় (২করিন্থীয় ৫ : ১৭-২১)।
তা তারা জেনে বলেন বা সুরের খাতিরে সুর মিলিয়ে চলেন, আমার কাছে বিষয়টি অতোটা পরিষ্কার নয়! তবে বাংলার মুলুকে কতজন যে আরবী ভাষা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারে সে বিষয়ে সন্দেহ আছে পরিষ্কার। তাছাড়া বক্তাদের মুখে উচ্চারিত আরবি ভাষা আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ পূর্বের ভাষা, ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল, শব্দের পরিবর্তন এনে ভাষাকে সাবলিল করে তোলে যেন অধিক লোক তা সহজেই বুঝতে পারে। যাক, না বুঝলে সাপের মন্ত্র আর লাশের মন্ত্র অবোধ শ্রোতার কাছে সমার্থক! কথায় আছে, কুকুর আপনা বমির দিকে ফেরে, আর ধৌত শুকর পুনরায় পংকাবর্তে ফিরে যায়।
যিনি বয়ান দিচ্ছেন, তিনি অবশ্যই বাংলা ভাষাভাসী। বক্তব্যের মধ্যে মাত্র ২/৪টি আরবি শ্লোক উচ্চারণ করে, আর হয়তো তেমন বাক্যের উপর ভর করে পুরো সময়টা অতীব উচ্চকন্ঠে চিৎকার করে চলছেন, দৃষ্টান্তগুলো সেই আদিম যুগের হীমায়িত ঘটনা পুঞ্জি। হীমঘর থেকে বের না করা হলে সেগুলো বর্তমান প্রজন্মকে উপভোগ করার জন্য পরিবেশন করা সম্ভব হতে পারে কি?
করা সম্ভব নয়, তেমন মন্ত্র শ্রবণ ও পঠন কেবল পন্ডশ্রম। আর যারা তেমন কাজে থাকে লিপ্ত তারা অবশ্যই ইবলিসের ভ্রাতা।
সৌরালোকের দিকে তাকান, বুঝতে পারবেন, যুগ যুগ ধরে গোটা বিশ্বটাকে তরতাজা করে রেখেছে। অন্ধকার পুরিকে খোদা চাইলেন আলোতে পরিপূর্ণ করতে, তাই তিনি আলোক বর্তীকা অর্থাৎ সূর্য সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টি লগ্ন থেকে নিরবধি আলো ছড়িয়ে চলছে দিবাকর। খোদা হলেন সনাতন, আদিতে ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং অনাগত ভবিষ্যত জুড়ে থাকবেন একইভাবে।
আমাদের পূর্বপুরুষ একই সূর্যের আলোতে তপ্ত হতেন আর আজ গবেষণার ফলে ঐ একই সৌরালোক দিয়ে অধিক উপযোগ উপভোগ করে ফিরছি, যা হলো নিয়ত গবেষণার অবদান। খোদাকে নিয়ে গবেষণার ব্যবস্থা রয়েছে অগণিত খোলা দরজা।
যে জাতি গবেষণার সুযোগ বন্ধ করে রেখেছে, তারা কেবল হীমায়িত অবস্থায় পড়ে থাকতে বাধ্য। গবেষণা বন্ধ করে রাখার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো জাতিকে পশ্চাদপদ উন্নয়ন বিমুখ করে রাখা, যাকে বলা চলে মান্ধাতার আমলে বন্দী করে রাখা। গবেষণা বিমুখ ধর্ম ঐ একই কাজ করে থাকে। গোটা জীবন পার করে দিতে দেখেছি তিন কুল আর এক আলহামদু দিয়ে।
খোদার কালাম জারি হয়েছে উশৃঙ্খল পশ্চাদপদ জাতিকে শৃঙ্খল মুক্ত করার কারণে। মানুষের সরকারি পিলার হলো আদম, যাকে খোদা স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে, সর্বপ্রকার ঐশি গুনাবলি দিয়ে সৃষ্টি করলেন। মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, মানুষে মানুষে বিরাজ করবে প্রেম-প্রীতি, সহমর্মিতা, যা হলো খোদার একমাত্র লক্ষ্য। আর অভিশপ্ত ইবলিস মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকে উচকে দেয়, ঈর্ষাকাতর করে তোলে খুন, রাহাজানি সৃষ্টি করার জন্য দিবানিশি কলা-কৌশল রচনা করে চলছে। তাই সহজভাবে বলা চলে, যে মন্ত্র মানুষের সাথে মানুষের বিভেদ, ঝগড়া, কলহ বাধায় তা অবশ্যই ইবলিসের রচিত মন্ত্র।
মহান রাব্বুল আল-আমিন খোদার নিবেদন হলো, তারা যেন এক হয়, পরষ্পরকে যেন আত্মবৎ প্রমে করে। খোদা নিজেই প্রেম, যে ব্যক্তি খোদার মধ্যে অর্থাৎ খোদার বাধ্য থাকে সে অবশ্যই পরষ্পরকে প্রেমের নজরে দেখবে। খোদার সাথে যুক্ত ব্যক্তি খোদার চরিত্রে রূপান্তরিত হতে বাধ্য!
ঝগড়া ফাসাদ হলো অভিশপ্ত ইবলিসের কর্মকান্ড, খোদার সুমহান পরিকল্পনা বানচাল করার ব্রত নিয়ে থাকে দিবানিশি ব্যস্ত। সদা থাকে হুশিয়ার, খোদার কাজ ভন্ডুল করে পরিবর্তে পার্থিব স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করার ফিকিরে উক্ত ইবলিস ও তার আশ্রিত দলবল থাকে সদাজাগ্রত। সাধারণ মানুষ হলো ইবলিসের ভোগ্য পন্ন। ভোক্তা ভোগ্যবস্তু দলে মথে এককার করে তোলে।
খোদা ভোক্তা নন। সবকিছু সুন্দরভাবে সৃষ্টি করে তিনি অবলোকন করলেন, প্রীত হলেন, মানুষ সৃষ্টি করে হলেন উৎফুল্ল, উপাধি দিলেন আশরাফুল মাখলুকাত, অর্থাৎ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, মহাজ্ঞানী খোদার নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি, মানুষ দর্শণ করে খোদাকে দেখার ইচ্ছা ও আকাঙ্খা হবে পরিপূর্ণ।
পথিমধ্যে সমস্ত মানুষ পাপের পঙ্কে ডুবে গেছে। একজন নয়, দুইজন নয়, পাইকারীহারে সকলেই! আদম নিজেই তেমন পথে যাত্রা শুরু করলেন। গর্ভবতী মা যে পথে চলে, পেটের সন্তান কি ভিন্ন পথে চলার ক্ষমতা রাখে? খোদাদ্রোহী আদমের পুত্র কাবিল ভ্রাতা হাবিলকে খুন করে মানব হত্যার নজির স্থাপন করে বসলো। পরবর্তী সময়ে আমরা তেমন জঘন্য কাজের অবতারণা দেখে দেখে অভ্যস্থ! আমরা সাধারণ মানুষ নিরুপায়। অবশ্য আমরা নিজেরাও নই পূতপবিত্র, এবং তেমন পবিত্রতা অর্জনের উপায় আমাদের হাতে নেই, আদমের ঔরশজাত কোনো মানুষের পক্ষেও নিজেকে পূতপবিত্র রাখার ক্ষমতা বা ধার্মিকতা নেই এবং সম্ভব নয়!
অনুপম দয়াময় মাবুদ অবশ্যই এক ব্যবস্থা প্রেরণ করেছেন হতচ্ছাদাড়ের উদ্ধার করার জন্য। স্বীয় কালাম ও পাকরূহ মানবাকারে করলেন জগতে প্রেরণ। সম্পূর্ণ নিষ্পাপ প্রেমের পরাকাষ্টা, মানবদরদী খোদাবন্দ হযরত ঈসা কালেমাতুল্লাহ বিশ্বের তাবৎ মানুষের জন্য নিজের প্রাণ করলেন কোরবান। গুনাহগার আদম সন্তানদের পাপের কাফফারা শোধ দিলেন স্বীয় পবিত্র রক্তের মূল্যে, ফলে বিশ্বাসহেতু আজ সকলে হতে পারলো মুক্তপাপ; অধিকন্তু পেয়ে গেল তারা খোদার সকাশে সমাসিন হবার অধিকার, যা অন্ধ জাতির কাছে ছিল কল্পনাতীত।
কালামে একটি বিশেষ আয়াত রয়েছে, ‘যদি কেউ মসিহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে সব নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহর থেকেই হয়। তিনি মসিহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে অন্যদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসিহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানুষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা মসিহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসিহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, ‘তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।’ ঈসা মসিহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসিহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয় (২করিন্থীয় ৫ : ১৭-২১)।