অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও রিকশাভ্যানের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ সৈয়দপুর শহরবাসী। এর প্রভাবে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট লেগেই থাকছে। দিনদিন এই যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক এখন ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও রিকশাভ্যানের দখলে। শুধু সড়ক নয়, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি।
সূত্রমতে, পৌরসভা থেকে শহরে চলাচলের জন্য এসব যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার। ২০১১ সালে শহরে ইজিবাইক চালু হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও রিকশাভ্যান চালু হয় মাত্র কয়েক বছর আগে। কিন্তু সৈয়দপুর শহরের ঠিক কতগুলো ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও রিকশাভ্যান চলাচল করছে তার সঠিক হিসেব সৈয়দপুর পৌরসভা যানবাহন শাখায় নেই। বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের প্রায় ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহন চলাচল করছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ইজিবাইক। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার যান সৈয়দপুরে চলাচল করায় এসবের সংখ্যা আরও বেশি।
সৈয়দপুরের সচেতন নাগরিক এম আর আলম ঝন্টু বলেন, বহিরাগত ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন প্রবেশ সীমিত করতে শহরে প্রবেশের সকল পথে পৌরসভার পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হলে যানজট অনেকটা কমে আসবে। ট্রাফিক সার্জেন্ট আশরাফ কোরায়শী ও সাদেকুর রহমান সুজন, টিএসআই আব্দুল খালেক বলেন, সৈয়দপুরে যানজট নিরসনে তারা পালাক্রমে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ওপর বিমানবন্দরে ভিআইপিদেরও প্রটোকলে নিয়োজিত থাকতে হয়। সব মিলিয়ে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয় সব সময়।
সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন এবং মাহফুজার আলম জানান, যানজট নিরসনে তারা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনে তাদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। তবে, জনবল কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে বলে তারা স্বীকার করেন। তারা আরও জানান, শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান জানান, এতদিন সমন্বয় ছিল না। এবার সম্মিলিতভাবে যানজটে পৌরসভা কাজ করবে। এতে মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।