চোর-ডাকাত ও সমাজের ক্ষতিকারক দুষ্কৃতিকারী সন্ত্রাসী ব্যক্তিদের কর্মকান্ডের বিষয় যখন কেউ সোচ্চার হয়, তখন সমাজের কালো শক্তির সাথে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, প্রতিবাদি যদি শক্ত সামর্থ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে পারে, পারে উক্ত সমাজ সংস্কারের আন্দোলন ও অভিযানে সমাজের নিষ্পেষিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে, তবে বাংলা ভাইয়ের মত কঠিন অপশক্তিও শেষ পর্যন্ত জাগ্রত গণশক্তি ও নিরলস প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য। বিশে^র ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করা হলে অপশক্তির উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করা কোনো কঠিন বিষয় নয়।
ধর্ম কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়। মানুষ স্বীয় শ্রমের বিনিময়ে যখন কোনো কিছু উৎপাদন করে তখন উক্ত দ্রব্যের বাণিজ্যিক মূল্য থাকে, থাকতে হয়। উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রি হয়ে গেলে পুনরায় তা উৎপাদন করতে হবে আর সেজন্যই উক্ত দ্রব্যের একটা মূল্য ধার্য করে দেয়া হয়, যার মধ্যে সর্বপ্রকার খরচা থাকে ধরা, যেন মুলধন উঠে আসে পুনরায় ইনভেষ্ট করার জন্য।
কিন্তু ধর্ম বা ধর্মীয় বাণী বিশে^র পতিত ব্যক্তির হাতে সৃষ্টি হয় নি, পরম করুনাময় মাবুদ গোটা বিশ^বাসিকে পাপ ও ইবলিসের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য বিশেষ এক উপায়, বিনামুল্যে দান করেছেন, আর তেমন সুখবর গোটা বিশ^বাসির কাছে বিতরণ ও পরিবেশনকরার জন্য আজ্ঞা দিয়েছেন। ঐশি সুসমাচার খোদা নিজেই আমাদের কাছে তুলে দিয়েছেন বিনামূল্যে, যেন আমরা ভোক্তা ও উপযোগী ব্যক্তিরা দাতব্য এ দানের খবর বিশ্বের সকল ব্যক্তিবর্গের কাছে তুলে ধরতে পারি।
অন্ধকার কক্ষে আলো পেতে মোম জ্বালানো একটি দ্বায়িত্ব ও কাজ, আপনি মোমটি জ্বালুন তারপর চুপচাপ বসে থাকুন। অন্ধকার তাড়ানোর দায়িত্ব আপনার হাতের প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের, আর আপনার কাজ হলো প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা। মনে করুন, আপনি নিজেই তেমন একটি জীবন্ত প্রদীপ যা অন্য কেউ জ্বালিয়ে প্রদীপ দানির উপর স্থাপন করলেন, তখন উক্ত প্রদীপটির দায়িত্ব হবে, নিয়ত জ¦লতে থাকা; তেমনি করে আপনার গোটা জীবদ্দশায় নিভে যাওয়া চলবে না। পাক-কালামে তেমন একটা আয়াত রয়েছে, “তোমরা আমাকে বেছে নাও নি, কিন্তু আমিই তোমাদের বেছে নিয়ে কাজে লাগিয়েছি যাতে তোমাদের জীবনে ফল ধরে আর তোমাদের সেই ফল যেন টিকে থাকে। তাহলে আমার নামে পিতার কাছে যা কিছু চাইতে তা তিনি তোমাদের দেবেন। এই হুকুম আমি তোমাদের দিচ্ছি যে, তোমরা একে অন্যকে মহব্বত কোরো (ইউহোন্না ১৫ ঃ ১৬, ১৭)।
ভালো কথা তথা ভালো উপদেশ সম্বলিত লিফলেট বিতরণ প্রচার, প্রকাশ করায় লাভ আছে, তবে চুড়ান্ত লাভ হবে, উক্ত উপদেশাবলি অনুযায়ী ব্যক্তি জীবনে যদি কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যেত, তবে অবশ্যই অধিক লাভ আশা করা সমীচিন হবে। প্রত্যেকটি কাজের প্রত্যাশিত ও কাঙ্খিত অভিপ্রায় বুঝতে হবে। লক্ষ্যবিন্দু স্থির করে তবে শুরু করতে হবে যাত্রা। নিনবি যেতে হলে অবশ্যই তথাকার জাহাজে চড়তে হবে, আর তর্শীসগামী জাহাজ পরিহার করতে হবে, নতুবা নতিজা বোধকরি সকলেরই রয়েছে জানা।
ইভাঞ্জেলিজম আর ইমিগ্রেশন কি কখনো এক হতে পারে! কর্মক্ষেত্রে পার্ফমেন্সের উৎকর্শ প্রদর্শন করে মথুরা পার হওয়া, ঘোষণার সাথে জীবন আচরণের বেজায় পার্থক্য ঘটে যায়। কোনো ব্যক্তিকে সুসমাচার দেওয়ার অর্থ হবে না তাকে বিপন্ন করে তোলা; বরং উক্ত ব্যক্তি বর্তমানে যেভাবে অন্ধকারে বিচরণ করছে, তেমন দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা থেকে উঠে আসতে সাহায্য করা। মসিহ পরিষ্কার জানান দিয়েছেন, তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন জীবন পায় এবং তা পরিপূর্ণরূপে। তিনি অবশ্য শুভ শক্তি ও অশুভ শক্তির প্রভাব, প্রবণতা ও কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে তুলে ধরেছেন; ‘চোর কেবল চুরি, খুন ও নষ্ট করবার উদ্দেশ্য নিয়েই আসে। আমি এসেছি যেন তারা জীবন পায়, আর সেই জীবন যেন পরিপূর্ণ হয় (ইউহোন্না ১০ ঃ ১০)।
মসিহ একদা ধর্মধাম বায়তুল মোকাদ্দসে প্রবেশ করে তাজ্জব বনে গেলেন। ধর্মধাম এমন একটি স্থান বা পরিবেশ মনে করা হয়, যেথা অনুতপ্ত ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য হাজির হবে। খোদার কাছে জিগির ফরিয়াদ জানাবে, নিজেকে খোদার হাতে করবে সমর্পন; এক কথায় বলা চলে, দুষ্ট আর দুষ্টামি কর্মে লিপ্ত থাকবে না, খোদার অপার রহমত ও সীমাহিন প্রেম ও শক্তির উপর নির্ভর করে বাকি জীবনটা করবে পরিচালনা।
মানুষের ভ্রান্তির কারণ বলুন অথবা প্রচারিত পাক-কালাম না বোঝার কারণ বলুন, একদল জালেম সম্প্রদায় সাধারণের চোখ বেধে দিয়েছে, পাইকারি হারে তাদের তাড়িয়ে ফিরছে অনন্ত দোযখের পথে, অথচ তারা মুখে এমন সব বক্তব্য, খইয়ের মতো ফুটাচ্ছে, যার সম্যক অর্থ নিজেরাই জানে না। খোদা তো মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে দোয়া করেছেন, প্রজ্ঞা ও ক্ষমতায় পুষ্ট করেছেন, আশির্বাদ দিলেন প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তান-সন্তুতি উৎপাদন করে গোটা বিশ^ ভরে তুলতে, আবাদ করতে।
কথাটা যদি তেমন হয়, আর সকলে যদি উক্ত বিষয়টি খোদার পরিকল্পনা বলে নির্বিবাদে মেনে নেয়, যদি তাদের হৃদয়ে থাকে খোদার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা, তবে আজকে তারা অর্থাৎ আলেম সম্প্রদায় কোন অধিকারে বলে, মানুষ আজ বহুধা বিভক্ত? ধর্মীয় বাণী মানুষের মধ্যে অবক্ষয় অমিল দলাদলি দূর করার জন্য হয়েছে প্রদত্ত। দেখা গেছে, উক্ত ধর্মীয় চাকু দিয়ে আজ মানুষকে কচুকাটা করা হচ্ছে। সামাজিক বৈসম্য মতবাদের কারণে মানুষ যতোটা বিভক্ত তার চেয়ে অধিক পরিমানে খন্ডিত হয়ে আছে ধর্মীয় মতদ্বৈততার কারণে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান-ইহুদি ইত্যাদি ঘটেছে ধর্মবাণীর মর্ম উপলব্ধি করতে না পারার কারণে। অবশ্য এর পিছনে বাণিজ্য, রাজনীতি ও স্বার্থান্ধতা প্রবলভাবে প্রভাব ফেলে রেখেছে।
বায়তুল মোকাদ্দসে প্রবেশ করে তিনি যা কিছু দেখতে পেলেন, তাতে তিনি হৃদয়ে ব্যাথা পেলেন। পিতার গৃহ হলো এবাদতের গৃহ, যা তারা ব্যবসা বাণিজ্যের আড়তে পরিণত করে ফেলেছে। পিতার গৃহ ভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য তিনি তাদের আপত্তি জানালেন, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পশরা বের করে দিলেন, ফলে তদানিন্তন আলেম সমাজ তাদের পরিণাম দর্শন করতে পেরে ভীষণভাবে ক্ষেপে গেল, তাদের নাজায়েজ ফায়দার পথ বন্ধ হওয়ার ভয়ে। হযরত পৌলের প্রচারে, এথেন্স শহরে একবার আপত্তি জাগলো পুতুল পূজার বিরুদ্ধে কথা বলার ফলে। মূলত: আপত্তি তুলেছিল পুতুল নির্মাতাদের পক্ষ থেকে, কেননা তাদের রুটি রুজি আসতো পুতুল নির্মানের পেশা থেকে।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পাঁচটি মৌলিক চাহিদা বা দ্রব্যের প্রয়োজন; আর তা হলো: অন্ন, বস্র বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। ব্যতিক্রমহীনভাবে সকল প্রাণীর এমন মৌলিক চাহিদা রয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বলতে পারেন সকল প্রাণীর কমবেশি অত্যাবশ্যক। তবে অনেক প্রাণীর বস্রের প্রয়োজন হয় না, তবে তেমন ক্ষেত্রে দেখবেন গরুর লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার জন্য লেজ রয়েছে ইত্যাদি যা বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে। মানুষ প্রাণী জগতের অন্যতম, যাকে বলা হয় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, অন্য ভাষায় বলা হয় ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। অর্থাৎ গোটা সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
কেন মানুষ এমন হলো, তা জানতে পারলে চেতনাদৃপ্ত হওয়া যেত। কালামের আলোকে দেখা যায় খোদা স্বীয় সুরতে নিজ প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তিনি মানুষ সৃষ্টি করলেন। দিলেন তার মধ্যে ঐশি গুনাবলি, যেন উক্ত মানুষ অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি হিসেবে সমাজে চলতে পারে। খোদা মানুষ দেখেই মন্তব্য করেছেন উত্তম, অতি উত্তম। মানুষের প্রতি তিনি বিশেষ নজর রাখেন, বিশেষ প্রেম রয়েছে এই মানুষের প্রতি।
যদিও মানুষ প্রথমেই খোদার আজ্ঞা তুচ্ছ জ্ঞান করে অভিশপ্ত ইবলিসের কুটচাল মাথা পেতে নিল, যার পরিণতি তারা টের পেল হাড়ে হাড়ে; আর আমরা নিত্যদিন জ্বলেপুড়ে নিঃশে^ষিত হচ্ছি। কোনো মানুষ ভালো নেই, প্রত্যেকের হৃদয়ে রয়েছে অপরিসীম দুঃখ ব্যাথা জ্বালা-যন্ত্রণা অনুতাপ অনুসোচনার বহ্নিমান চিতা। অবশ্য চিন্তাশীল ব্যক্তি নিজের অবস্থান পরিষ্কার দেখতে পায় খোদা দত্ত দশটি আর্শিপানে চোখ বুলালে। হয়তো বুঝতে পেরেছেন, দশটি আর্শি মানে খোদার দশটি হুকুম।
দোষী ব্যক্তির গায়ে প্রথম পাথর ছুড়ে মারার লোকটি আর খুঁজে পেলেন না, আর মসিহ নিজেও পাথর ছুড়ে অপরাধিকে মারার জন্য আগত নন, বরং গোটা বিশে^র গুনাহগার লোকদের স্নাতশুভ্র করার জন্য এবং জীবন দানের জন্য তথা পিতার ক্রোড়ে ফিরিয়ে দেবার জন্যই তিনি এসেছেন, পাপের কাফফারা পরিশোধ দিলেন স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মুল্যে অর্থাৎ প্রাণের বিনিময়ে, যা হলো ঐশি প্রেমের চূড়ান্ত প্রকাশ।
আজ আমাদের নির্ভয়ে মসিহের কাছে ছুটে আসতে হবে পূতপবিত্র মুক্তপাপ হবার জন্য, তিনিই একমাত্র ঐশি ব্যবস্থা, তাকে ধরে, তাঁর মাধ্যমে ভব দরিয়া পারি দেয়া সম্ভব, আর এ নিশ্চয়তা তিনি সকলের কাছে জানান দিয়েছেন (ইউহোন্না ১৪ ঃ ৬-১৪)।