আমি মাবুদ অনেক দিন চুপ করেছিলাম, আমি শান্ত থেকে নিজেকে দমন করে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন প্রসবকারিনী স্ত্রীলোকের মত আমি চিৎকার করছি, শ্বাস টানছি ও হাঁপাচ্ছি (ইশাইয়া ৪২ : ১৭ (১০-১৭)।
আমি পাহাড়পর্বতগুলো গাছপালাহীন কবর আর সেখানকার সমস্ত গাছপালা শুকিয়ে ফেলব; আমি নদীগুলোকে দ্বীপ বানাব আর পুকুরগুলো শুকিয়ে ফেলব। আমি অন্ধদের তাদের অজানা রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাব, যে পথ তারা জানে না সেই পথে তাদের চালাব। তাদের আগে আগে আমি অন্ধকারকে আলো করব আর আসমান জায়গাকে সমান করে দেব। এ সবই আমি করব নিশ্চয়ই করব। কিন্তু যারা খোদই করা মূর্তির উপর ভরসা করে, যারা ছাঁচে ঢালা মূর্তিগুলোকে বলে তোমরা আমাদের দেবতা, আমি তাদের ভীষণ লজ্জ্বায় ফেলে ফিরিয়ে দেব।
পাহাড় পর্বত গাছপালাহীন, অর্থবিত্ত হাতছাড়া, সন্তান সন্তুতি অকালে মারা যাওয়া, গর্বিত ব্যক্তিদের অহংকার অকষ্মাৎ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া; জীবিকা নির্বাহ করার আয় রোজগার অনিশ্চিত হওয়া, স্বজন-প্রিয়জন সম্পর্কহীন-অচেনা লোকের মত হয়ে পড়া, শ্রোতহীন নদ-নদীর জল প্রবাহ থেমে যাওয়া, ডুবো চর জেগে ওঠা, নাব্যতা হারিয়ে ফেলা, বিপরীতক্রমে এককালের খরশ্রোতা নদী মরুভূমিতে পরিণত হওয়া, এসবই হলো অপরাধ অহমিকার অবাধারিত শাস্তি ও অনাকাঙ্খিত করুন পরিণতি!
মজার বিষয় হলো হলো, হঠাৎ আগত বানের জল প্রথমে প্রবাহিত হতে শুরু করে শুকিয়ে যাওয়া নদীর অববাহিকা দিয়ে ধিরে ধিরে নদীর চেহারা বদলে যায় এবং জলাধিক্যের কারণে দুই তটরেখা ভাসিয়ে এবং ছাপিয়ে পুরো এলাকা বানের জলে ডুবিয়ে দেয়, যা হলো আচমকা পাহাড়ি ঢলের চরিত্র।
পাকরূহের হঠাৎ আবির্ভাব দেখতে পেলাম মৃতকল্প, দিশেহারা, ভিত সন্ত্রস্থ, আশাহত, উপায়হীন সাহাবীদের উপর পাকরূহের অভিষেকের মাধ্যমে, পঞ্চসত্তমির দিনে যখন তারা নিজেদের একটি কক্ষে দরজা জানালা বন্ধ করে আলোচনারত ছিল; তাদের পরবর্তী জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে। তাঁরা ছিলেন সম্পূর্ণ হতাশ, যুদ্ধাহত, পরাজিত, ডানাভাঙ্গা, ধুলোয় লুটিয়ে পড়া, আকাশের পাখীদের মত। ছটফট করে অপেক্ষায় আছে শেষ মুহুর্ত অর্থাৎ মৃত্যুর ক্ষণটির অর্থাৎ যবনিকাপাতের।
কালামপাকে যেমন রয়েছে, “আমি অন্ধদের তাদের অজানা রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাব, যে পথ তারা জানে না সেই পথে তাদের চালাব। তাদের আগে আগে আমি অন্ধকারকে আলো করব আর আসমান জায়গাকে সমান করে দেব। এ সবই আমি করব, নিশ্চয়ই করব”।
দুঃখী ও অভাবীরা পানির খোঁজ করে, কিন্তু পানি নেই, পিপাসায় তাদের জিভ শুকিয়ে গেছে, কিন্তু আমি মাবুদই তাদের জবাব দেব; আমি ইসরাইলের আল্লাহ তাদের ত্যাগ করব না (৪১ : ১৭-১৮)।
আমি গাছপালাহীন পাহাড়গুলোর উপরে নদী বইয়ে দেব আর উপত্যকার নানা যায়গায় ঝর্ণা বইয়ে দেব। আমি মরুভূমিতে পুকুর তৈরী করব, আর শুকনা মাটিতে ঝর্ণা খুলে দেব।
যারা খোদই করা মুর্তির উপর ভরসা করে, যারা ছাঁচে ঢালা মুর্তিগুলোকে বলে, তোমরা আমাদের দেবতা, আমি তাদের ভীষণ লজ্জায় ফেলে ফিরিয়ে দেব (ইশাইয়া ৪২ : ১৭)।
খোদাই করা মূর্তি… কে খোদাই করেছে, কি খোদাই করেছে, খোদাই করার হাতিয়ার কে বানিয়ে নিয়েছে, কি দিয়ে ওগুলো বানিয়েছে, সদ্যজাত ভূমিষ্ট সন্তান কি ঐ দ্রব্যগুলো অর্থাৎ মৌলিক দ্রব্যসমূহ প্রাপ্ত হয় নি ইতোমধ্যে প্রস্তুতকৃত অবস্থায়? যিনি তাঁর সুমহান পরিকল্পনা নিয়ে সরলহস্তে সন্তানের জান্মের পূর্বেই যথাস্থানে সাজিয়ে রেখেছে, ভূমিষ্ট হবার পরে সন্তানের কি উচিত নয়, খোদ জন্মাদাতার পানে তাকিয়ে দেখা। তার জানা উচিৎ সেই কারণ ও লক্ষ্যকিন্দু কে বা কি রয়েছে কেন্দ্রে, যা আবর্তিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে, ঘরে ঘরে।