চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ষাটোর্ধ্ব মো. আবু তাহের নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ভাই ও ভাইপোদের বিরুদ্ধে। নিহতের বসতঘরের পাশে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা একটি বৈঠকখানা ভেঙে ফেলার জের ধরে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন– নিহত আবু তাহেরের স্ত্রী নূরনাহার বেগম (৬০), তার ছেলে মোহাম্মদ আজম (৩৫), পুত্রবধূ অন্তঃসত্ত্বা বিবি রহিমা (২০) ও এমি (২৮) নামে একজন। তাদের মধ্যে মো. আজমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত আবু তাহের উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের লোহারপোল বাজারের পশ্চিমে মাওলানা মনসুর আলীর নতুন বাড়ি প্রকাশ আকবর বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ আজম বাদী হাটহাজারী মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও ৩–৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মো. ইউসুফ প্রকাশ দুদু মিয়াকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন– তার ছেলে সাজ্জাত হোসেন প্রকাশ ইবলু, মো. আকিব, স্ত্রী জোহরা বেগম ও পুত্রবধূ নাছিমা আক্তারকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জোহরা বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
মো. আবু তাহের তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরওয়ার মোর্শেদ তালুকদার।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের বসতঘরের সামনে পুকুরের পাশে বাঁশ দিয়ে একটি বৈঠকখানা নির্মাণ করেন মো. ইউসুফের ছেলে। দিনের বেলায় যখন বাড়ির নারীরা ওই পুকুরে গোসল করতে যান তখন মো. ইউসুফ প্রকাশ দুদু মিয়ার ছেলে সাজ্জাত হোসেন প্রকাশ ইবলু তার সহযোগীদের নিয়ে ওই বৈঠকখানায় বসে বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করার পাশাপাশি সেখানে বসে মাদক সেবন করেন। তাই নিহত তাহেরের ছেলে আজম ওই বৈঠকখানাটি ভেঙে দেন।
ওই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত মো. ইউসুফ ও ইবলু তার আপন চাচা নিহত আবু তাহের, চাচাতো ভাই এবং চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় আহতদের তাদের পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনতে চাইলে তারা বাধা দেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে আহতাবস্থায় গুরুতর আহত আবু তাহের ও আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিলয় আবু তাহেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
হাটহাজারী মডেল থানার নবাগত ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোবাইল ফোনে বলেন, নিহতের আপন ভাই মো. ইউসুফ ও তার ছেলে পিটিয়ে আবু তাহেরকে হত্যা করেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামির স্ত্রী জোহরা বেগমকে গ্রেফতারের পর রোববার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।