রাজধানীর দুই তরুণীসহ তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে যাত্রাবাড়ির একটি আবাসিক হোটেলের তালবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাত তরুণী, বাড্ডার একটি বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বাউন্ডারি ওয়ালের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রুবেল নামে এক যুবকের ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশগুলো বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা সংলগ্ন শাহীন আবাসিক হোটেলের ষষ্ঠ তলার একটি রুম থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। যাত্রাবাড়ী থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) মো. মনির হোসেন জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯–এ তারা খবর পান যাত্রাবাড়ী এলাকার শাহীন হোটেলের মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই তরুণী। সেখানে গেলে বিছানার ওপর লাশ পাওয়া যায়। তিনি জানান, রুমের দরজা বাইরে থেকে লাগানো ছিল। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ মধ্য বাড্ডার একটি বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৪) নামে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধূর বাড়ি ঝিনাইদহের সদর উপজেলার দড়ি গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক। স্বামী রিমন মোল্লার সঙ্গে মধ্য বাড্ডার আদর্শনগর জমির উদ্দিনের টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
বাড্ডা থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা উল্লেখ করেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন শারমিন। এছাড়া বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। পাশাপাশি পারিবারিক কলহ চলছিল তার। এসবের জেরে বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে নিজের পরনের ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন শারমিন।
এদিকে শাহবাগ থানার এসআই মো. রাশেদুল আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে কার্জন হলের উত্তর পাশের বাউন্ডারি ওয়ালের বাইরে রডের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস অবস্থায় নাম রুবেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার আত্মীয়–স্বজনরা জানিয়েছেন, , রুবেল ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। মানসিক সমস্যাও ছিল তার। রুবেলের বাবা মা কেউ বেঁচে নেই। বাবার নাম রঙ্গিলা। বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছিল রুবেল। তবে স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।